লেখকের লেখনীর সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয়েছিল ‘হোমসনামা ’ দিয়ে । তাতেই এমন মজে গেছি যে তারপর থেকে একদম পারলে কড়াই থেকে ছো মেরে গরম চপ খাচ্ছি তাড়িয়ে তাড়িয়ে । গেলো শনিবার সৃষ্টি সুখের সাহিত্য উৎসবে গিয়ে একদম ফ্রেশ ফার্স্ট কপিটা সংগ্রহ করেছিলাম ‘কুড়িয়ে বাড়িয়ে’র উপরি পাওনা ছিল লেখকের সাক্ষর । রবিবার থেকে পড়া শুরু করে আজ এই ঘন্টাখানেক আগে শেষ করলুম । সাধের লেখকের সাধের বই পড়ে বৈরাগী হয়ে তাই সদ্য সদ্য পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখতে বসেছি ।…
১) গবেষণা ধর্মী ৫০ টি প্রবন্ধ রয়েছে এই বইতে যেগুলোর মধ্যে অন্তর্বর্তী কোনও সম্পর্ক নেই (আক্ষরিক অর্থেই কুড়িয়ে বাড়িয়ে ) তাই এ বই শেষ থেকে শুরু করে প্রথম অবধিও পড়া যেতে পারে । পাঠক ইচ্ছে করলে শিবরামের মতন মাঝখান থেকে শুরু করে সমান্তরাল ভাবে শুরু ও শেষের দিকে এগোতে পারেন, কোনও অসুবিধে নেই ।
২) পঞ্চাশটি ভিন্ন প্রবন্ধ পরে পাঠক বন্ধুরা বিষয় বস্তুর স্বাদ আস্বাদন করতে পারেন তবে বিশেষ কোনও বিষয়ে পণ্ডিত হওয়ার জন্য এই বই নয় । এ বই সবার জন্য । সীমিত সংখ্যক তথ্য সুচারু ভাবে পরিবেশন করেছেন লেখক ।
৩) বইটির অনবদ্য প্রচ্ছদ বানিয়েছেন প্রখ্যাত শিল্পী দেবাশীষ দেব , প্রচ্ছদটিই যথেষ্ট যেন পাঠকের পাঠ পূর্বক অ্যাড্রিনালিন রাশ ঘটানোর জন্য। আর হ্যাঁ, বইটি যে বয়েস নির্বিশেষে সকলের পাঠ যোগ্য তারও যেন আভাষ পাওয়া যায় প্রচ্ছদ দেখেই।
৪) লেখকের লেখনীর গুনে তথ্য সমৃদ্ধ লেখাও যে সুখপাঠ্য হতে পারে সে পরিচয় আমি আগেও পেয়েছি কৌশিক বাবুর লেখা পরে । এ বই তার ব্যতিক্রম নয় । কলমের গুণে তথ্য নির্ভর ছোট ছোট প্রবন্ধ গুলি যেন জীবন্ত হয়ে এ বইকে আনপুটডাউনেবেল করে তুলেছে ।
৫) বইয়ের নাম যতই কুড়িয়ে বাড়িয়ে হোক প্রবন্ধের সংকলন কিন্তু লেখক করেছেন অত্যন্ত যত্ন নিয়ে। প্রতিটি প্রবন্ধই মন ছুঁয়ে যায়। আরও বেশি জানার খিদেটা বাড়িয়ে তোলে।
৬) লেখার সাথে সাথে রয়েছি ছবি ও তথ্য সূত্র যাতে পাঠকের বিষয় সম্বন্ধে আরও গভীরে জ্ঞানার্জনের ইচ্ছে হলে নিদেনপক্ষে শুরুটা কোথা থেকে করবেন সে ব্যাপারে কোনও সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয় ।
৭) ছোটবেলায় যারা আনন্দমেলা পড়তেন তাদের মনে থাকা উচিত আনন্দমেলায় ছোট ছোট অনুচ্ছেদে একসময় দেশবিদেশের নানা অজানা নতুন খবর থাকতো । মার্জিত ভাষার গুণে এ বই পরে অনেক দিনের হারানো সেই স্বাদটা আস্বাদনের মজা পেলাম ।’
অপর মনযোগী পাঠক স্বর্ণপালি মাইতি জানিয়েছিলেন, ‘সত্যজিৎ রায় কে তো আপনি হরলিক্সের ন্যায় গুলে খেয়েছেন। এই বইয়ের মজা হল যেখান থেকে খুশি পড়া শুরু করা যেতে পারে। টুকরো টুকরো জ্ঞানের ভান্ডার৷ আপনার লেখনির গুণে যতগুলি প্রবন্ধ পড়লাম, সব কটি সুখপাঠ্য। দেবাশীষ দেবের প্রচ্ছদ আর তার মধ্যে বেড়াল টাকে দেখতে পেয়ে যার-পর-নাই খুশী হলুম।
পরিশেষে বলি,বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এত পড়াশুনো এক জন্মে করতে পারলেই জন্ম সার্থক হয়ে যায় মানুষের। আপনি লিখতে থাকুন। লেখনী আরো সমৃদ্ধ হোক। আর আমরা সে সব পড়ে আনন্দে থাকি।’
শুভ আইচ সরকার লিখলেন – ‘ জ্ঞানের আড়ৎ এই বই টা। যারা ক্যুইজ করেন, তাদের জন্য লাইনে লাইনে রসদ। কোনদিক বাদ দেন নি লেখক, সিনেমা, সাহিত্য, বিজ্ঞান কি নেই এই বই তে। এবং সংক্ষিপ্ত না, বরং কিছু ক্ষেত্রে বেশ বিস্তারিতই আছে বলে মনে হয়েছে। ননফিকশন ঘরানার এমন বই বিগত কয়েক বছরে বাংলাতে বেরিয়েছে বলে মনে পরছে না। (লেখকের আগের বই গুলো যারা পড়েছেন, তারা হয়ত একমত হবেন যে ননফিকশনের এই ঘরানায় এই মুহুর্তে তিনিই সেরা।) তার উপরে পাতায় পাতায় ছবি আপনাকে বই এর সাথে ধরে রাখবে। লেখার স্বচ্ছলতা আর সাথে ঝা চকচকে পৃষ্ঠা ও ছাপা অন্য মাত্রা দেয়। ব্যক্তিগত ভাবে আমি এইরকম লেখার অনুরাগী তাই আমার খুব ভাল লেগেছে, তাই বলছি যারা এখনও ভাবছেন তারা কিনে ফেলুন।’
দেবলীনা দাস জানিয়েছেন, ‘”কুড়িয়ে বাড়িয়ে” আমার পড়া কৌশিক মজুমদারের তৃতীয় বই। ঠিক এর আগের বই ‘তোপসের নোটবুক’ পড়ে এতো অসাধারণ লেগেছিল যে এই বইটা অর্ডার দিতে দেরি করিনি। পুরো বইটা পড়ে জাস্ট ব্যোমকে গেছি। শুরুতেই সিনেমার ইতিহাস নিয়ে লেখা প্রবন্ধ গুলো সমসাময়িক বাংলা প্রবন্ধের মধ্যে অন্যতম হয়ে থাকবে। বিশেষ করে “এক দৃশ্যের জন্ম” এবং “বাংলা ছায়াছবির নির্বাক নায়িকারা” বাংলা সিনেমার ইতিহাস রচনায় অন্যতম মাইলস্টোন হয়ে থাকবেই। কমিকস নিয়ে লেখকের আগেও লেখা পড়েছি কিন্তু কমিকসের স্রষ্টাদের নিয়ে এই লেখা আগের সব লেখাকে যেন ছাপিয়ে গেছে। সাহিত্য বিভাগে “জুল ভাৰ্ণ” আরেকটি মাস্টারপিস এই বইয়ের। তবে সমালোচনা করতেই হয় বলে বলা “কিং আর্থার” প্রবন্ধটির মধ্যে লেখকের পূর্ববর্তী বই “হোমসনামা” বেশ কিছু অংশ পাওয়া যায়। আমি আদৌ সাহিত্য সমালোচক নই। তবে এমন বইটি হাতে পেয়ে কয়েকটা কথা লেখার লোভ সামলাতে পারলাম না।’
এখন আপনি, কী বলছেন?

২০০৮-এ কৃত্তিবাস পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। তারপর এক দশক তাঁর আর কোনও কবিতার বই প্রকাশিত হয়নি। ২০১৮-র কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত হতে চলেছে সৌমনা দাশগুপ্তের তৃতীয় কবিতা সংকলন ‘ঢেউ এবং সংকেত’। সৃষ্টিসুখ প্রকাশনের স্টল (442) থেকে সংগ্রহ করা যাবে বইটি। প্রচ্ছদ পার্থপ্রতিম দাস।
=======
যে দৃশ্যগুলো বসে আছে
ছবি হবে বলে, তাদের
অনুবাদ করা যায় না
একটি পূর্ণিমার জন্য
বসে বসে হাঁফিয়ে উঠেছে
যেই নদী, তার অনুবাদ
দরজার জন্য বসে যে ঘর
ধানের জন্য যে গোলা
বর্ষার জন্য যে ব্যাঙ
রং তুলি সব তৈরিই আছে
শুধু একথালা ভাতের জন্যই
জুঁইফুল অনুবাদ করা যাচ্ছে না
বিমোচন ভট্টাচার্য-র লেখার জনপ্রিয়তা নিয়ে সামান্য বিশ্লেষণ করলেই দেখা যায়, তাঁর লেখাগুলো আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সঙ্গে আড্ডা দেয়। বিখ্যাত পিতার (মধুসংলাপী বিধায়ক ভট্টাচার্য) পুত্র হওয়ার কারণে বাংলা চলচ্চিত্র ও থিয়েটারের বহু পরিচিত ও বিখ্যাত মানুষকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে তাঁর ছোটবেলা থেকেই। আর এসবের সঙ্গে আছে তাঁর নিজের জীবনের আপাত-সাধারণ নানা পর্যবেক্ষণ। আসলে অভিজ্ঞতা শুধু প্রত্যক্ষ করাতেই শেষ হয় না। তাকে ধারণ করার মতো আধারও জরুরি দারুণভাবে। বিমোচনবাবুর লেখা সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
গতবছর বইমেলায় তাঁর ‘তোমার পরশ আসে’ প্রকাশের পরে যে ভালোবাসা পাঠককুল ফিরিয়ে দিয়েছেন, তা এককথায় আমাদের জন্যে অভূতপূর্ব। এই বছর কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত হতে চলেছে বিমোচন ভট্টাচার্য-র ‘চেনা আলো চেনা অন্ধকার’। পাওয়া যাবে সৃষ্টিসুখ-এর স্টলে (442)। নিচে রইল বইটি থেকে একটি ছোট গদ্য।
===============
নিতাইদাকে মনে আছে তো আপনাদের? প্রতিদিন আমাদের পাড়ার মন্দিরে মা কালীকে গান শোনান। রাতে যাবার সময় ওয়ান্নিং দিয়ে যান মা কালীকে। মনে পড়ছে? সেই লকাই আর নিতাইদা।
তো এই নিতাইদা পেশায় ইলেক্ট্রিসিয়ান। থাকেন আমাদের আবাসনের পেছনদিকের রেল কোয়ার্টারে। আমাদের পাড়ায় কাজ করেন না। একটি দোকান আছে শুনেছি নাগেরবাজারের কাছে। সেই এলাকাতেই কাজ করেন।
প্রায় কুড়ি বছর দেখছি আমি নিতাইদাকে। যখন রেগুলার আড্ডা মারতাম, তখন রোজ দেখা হত। এখন কোনোদিন রাতে ক্লাব থেকে ফেরার পথে দেখা হয়ে যায়। মা কালীর সাথে কথোপকথন শেষ করে বাড়ি ফিরছেন। একগাল হেসে আমায় বলেন, “ভালো তো ব্রাদার?” পেছন পেছন যায় রাজ্যের কুকুর। ওদের বিস্কুট খাওয়াতে খাওয়াতে বাড়ি ফিরে যান নিতাইদা। বলে রাখা ভালো, এতদিনে কোনোদিন নিতাইদাকে সকালে দেখিনি আমি।
গত সোমবার আমার বাড়ির একটা পাখা খারাপ হয়ে গেল হঠাৎ। আমার বাড়ির ইলেক্ট্রিসিয়ান বলরাম বাইরে গেছে। আর কাউকে পেলাম না। এদিকে এই গরমে পাখা ছাড়া চলবে না। ভাবলাম, আরে নিতাইদা তো ইলেকট্রিক মিস্তিরি। যাই একবার।
ভিলার পেছনদিকের রেল কোয়ার্টারে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে ওরা দেখিয়ে দিল নিতাইদার বাড়ি। দোতলা কোয়ার্টারের একতলায় যারা থাকেন, অধিকাংশই রেলের কর্মচারী নয়। সাবলেট করা। বেশিরভাগ বিহারী। একটি বাড়ির (এগুলিকেই মনে হয় ব্যারাক বলা হত) একেবারে শেষ ঘরটা নিতাইদার। ডাকলাম। একটা লুঙ্গি পরে খালি গায়ে বেরিয়ে এলেন নিতাইদা। বললেন, “কী চাই বলুন?” চিনতেই পারলেন না আমায়। বললাম, “একটা পাখা খারাপ হয়েছে বাড়ির।” কথা বাড়াতে দিলেন না নিতাইদা, রাগত স্বরে বললেন, “আপনাকে কে বলেছে আমি পাখা সারাই?” আমি বললাম, “কেউ বলেনি, শুনেছিলাম আপনি ইলেক্ট্রিসিয়ান।” আরও রেগে গিয়ে বললেন, “কে আপনাকে কী বলল সে নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। শালা, জোটেও সব আমার কপালেই। কোন শুয়োরের বাচ্চা রটিয়ে দিয়েছে যে আমি ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি, রোজ বাঁ* কেউ না কেউ চলে এসে বলছে, পাখা সারাও, আলো সারাও। যান তো মশাই। আর কোনোদিন এলে গাঁ* ভেঙে দেব। চিনি না, শুনি না চলে এসেছেন বাঁ* সক্কাল সক্কাল নিতাইদার গাঁ* জ্বালাতে।”
বাইরে এলাম। কাল লাল হয়ে গেছে আমার অপমানে। দেখি শংকর, আমার গাড়ি চালায় মাঝে মাঝে। বলল, “কাকু, নিতাই জ্যেঠুর ওখানে গিয়েছিলেন কেন?” বললাম কেন গিয়েছিলাম। শংকর বলল, “নিতাই জ্যেঠুর ছেলেটা গলায় দড়ি দিয়েছে দু-দিন আগে। কাল বডি পেয়ে শ্মশান থেকে অনেক রাত্রে ফিরেছি আমরা। আর তাছাড়া কাকু, নিতাইজ্যেঠুর লিভারে ক্যান্সার ধরা পড়েছে দিন পনেরো আগে। কিছু মনে করবেন না। নিতাই জ্যেঠু কিন্তু এমন মানুষ নয়।” চলে এলাম বাড়িতে। মনটা খারাপই হয়ে থাকল।
কাল রাতে বাড়ি ফিরছি ক্লাব থেকে দেখি নিতাইদা ফিরছেন। আজ একটু বেশি খেয়েছেন মনে হয়। পেছনে কুকুরের দল নিয়ে নিতাইদা বাড়ি ফিরছেন। আমি পাশ কাটিয়ে চলে আসব, আমার দিকে চোখ পড়ল নিতাইদার। হাত তুলে একগাল হেসে বললেন, “কী ব্রাদার, দেখতেই পাচ্ছো না যে গরিব দাদাকে। অনেকদিন দেখি না। শরীর ভালো আছে তো?”
ভাবছিলাম কতদিনই বা বাঁচবেন আর নিতাইদা। কিন্তু নিতাইদা চলে গেলে বড় ফাঁকা ফাঁকা লাগবে বাসস্ট্যান্ডের মন্দিরটা। ফাঁকা ফাঁকা লাগবে রাতের পাড়াটা। চলে তো যাবেনই নিতাইদা। নোটিশ তো পেয়েই গেছেন হাতে। যেতে হবেই ঘর খালি করে।
আজ না হয় কাল…
থ্রিলার, কল্পবিজ্ঞান, ইতিহাস, মানবিক — এই বিষয়গুলো নিয়ে ‘চার’। চারটি নভেলাকে আলাদা করে অবশ্য কোনও নির্দিষ্ট ধারায় শ্রেণিভুক্ত করা যায় না। প্রতিটি কাহিনিতেই কমবেশি এই লক্ষণগুলো বিদ্যমান।
প্রবীরেন্দ্রর গল্পের বিষয় ডিসটোপিয়ান পৃথিবীতে কয়েকজন কিশোরের অ্যাডভেঞ্চার, অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের তিব্বত যাত্রা, মানুষের নিয়তি-নিয়ন্ত্রক কম্পিউটার থেকে শুরু করে আটলান্টিকের গভীরে সাবমেরিনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্পাই-কাউন্টার স্পাইয়ের মারণখেলা পর্যন্ত অনায়াসে যাতায়াত করে।
এই মুহূর্তে যে কয়েকজন লেখক বাংলা কিশোরসাহিত্যে নতুন করে প্রাণবিন্দু সঞ্চারের চেষ্টায় আছেন, প্রবীরেন্দ্র তাঁদের মধ্যে অন্যতম।
]]>
যে সমস্ত কবির প্রথম বই সৃষ্টিসুখ গত সাত বছরে প্রকাশ করেছে, তাঁদের তালিকায় যুক্ত হল অশোক ঘোড়ইয়ের নাম। গদ্য কবিতার সংকলন ‘নাইন্থ সিমফনি’ কলকাতা বইমেলা ২০১৮-য় সৃষ্টিসুখ-এর স্টলে (442) পাওয়া যাবে।
প্রচ্ছদ – পার্থপ্রতিম দাস।
]]>
যে লোকটি তেইশ বছর বয়সে দেশ ছেড়ে পঞ্চাশ বছর মার্কিন মুলুকে কাটালেন, তাঁর ঝুলিতে গল্প তো থাকবেই। আর তিনি যদি হন সুলেখক? সোনায় সোহাগা।
সুজন দাশগুপ্তের স্বভাবসিদ্ধ উইট, হিউমারে ভরা আত্মকথন ‘সুজনকথা’। দেবাশীষ রায়ের করা প্রচ্ছদ আর অলংকরণে সজ্জিত বইটি কলকাতা বইমেলা ২০১৮-য় থাকছে সৃষ্টিসুখ-এর স্টলে (442)।
]]>
মুঙ্কিদিদি চলে যাচ্ছে। বাড়ি। দু-দিন ছিল মোটে।না! ধরে ফেলেছে ঋজু! পাখি বেঁচে গেছে। ঋজুর দু-হাতের নরম তালুতে জীবন ফিরে পেয়েছে ছোট্ট মিষ্টি পাখিটা।
মুঙ্কির চিৎকারে দৌড়ে এসেছে, মা, মাসি। মেসো আর বাবা নিচ থেকে দেখতে পাচ্ছে, বারান্দার গ্রিল থেকে বেরিয়ে আছে দুটো কাঁপা কাঁপা হাত।
হুইলচেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়েছে ঋজু। বিজয়ীর হাসি মুখে। হাতের মুঠোয় বৃষ্টির প্রথম ফোঁটা।
===================
গল্পের নাম ‘কমলার গান’। কলমের নাম সুবর্ণা রায়।
সুবর্ণা রায় অণুগল্প লিখছেন বেশ কয়েক বছর হয়ে গেল। এই বইমেলায় প্রকাশিত হচ্ছে তাঁর দ্বিতীয় গল্প সংকলন ‘শাফুং’। সুমিত রায়ের অলংকরণ আর প্রচ্ছদে মোড়া বইটি সৃষ্টিসুখ-এর স্টলে (442) পাওয়া যাবে কলকাতা বইমেলা ২০১৮-য়।
অণুগল্পের শেষ মোচড়টা আগে থেকে ছকে রাখা। কিস্তিমাত ধরনের ব্যাপার আর কী। পাঠক আগে থেকে দেখতে পেলে মজাটাই মাটি। তাই মগজের ব্যবহার জরুরি। কিন্তু আদতে তো সাহিত্যই। তাই হৃদয়। দেবাশিস সেনগুপ্তের নতুন বইয়ে এই দুটোর প্রয়োগ এমনভাবে মিলেমিশে গেছে যে, প্রিয় পাঠক, বইটা হয়ে উঠতে চলেছে সার্থক পেজটার্নার। একটার পর একটা গল্প আপনাকে টেনে রাখবে বইয়ের পাতায় পাতায়।
শুধুই কি গল্প? এই বইয়ের আরও এক পাওনা সুমিত রায়ের জাদুতুলি। প্রচ্ছদ আর অলংকরণ মন ভরিয়ে দেয়। কলকাতা বইমেলা ২০১৮-য় সৃষ্টিসুখের স্টলে (৪৪২) বইটি পাওয়া যাবে।
]]>
ছেলেটা গল্প শুরু করল। ছেলেটা এত গল্প কোথায় যে পায় কে জানে। হয়তো কোথাও পড়েছে, হয়তো কখনও ভেবেছে। কিন্তু ওর কেবলই মনে হয়, ও যেন এই গপ্পোগুলোতে ছিল… ও যেন এগুলো দেখেছে চোখের সামনে…==========
ছেলেটির গল্প বলা থামেনি। সেই গল্পগুলো দু-মলাটে সৃষ্টিসুখ প্রকাশন থেকে আসছে কলকাতা বইমেলা ২০১৮-য়। পার্থপ্রতিম দাসের করা প্রচ্ছদে সব্যসাচী সেনগুপ্ত-র ‘স্বপ্নবেলায়’।
কলকাতা বইমেলা ২০১৮-য় সৃষ্টিসুখ থেকে যে গল্প সংকলনগুলো প্রকাশ পেতে চলেছে, তার মধ্যে নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য বই এশরার লতিফের ‘স্ফটিক বাড়ি ও অন্যান্য গল্প’।
এশরারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ প্রায় এক দশকের, সৃষ্টি গল্প প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। ওঁর স্ফটিক বাড়ি গল্পটি ছিল পুরস্কারপ্রাপ্ত গল্পের তালিকায়। তারপর এই লেখকের গল্প আমরা নিয়মিত পেয়েছি পত্রিকার পাতায়। তবে এপার বাংলায় প্রথম বই হয়ে বেরোতে চলেছে সেইসব গল্প। যারা এশারার লতিফের গল্পের সঙ্গে পরিচিত নন, তাঁরা Sristisukh E-Book অ্যাপ থেকে নমুনা হিসাবে এই বইয়ের দুটি গল্প পড়ে নিতে পারবেন। অ্যাপ ডাউনলোডের লিংক
বইটির প্রচ্ছদ করেছেন লেখক।
]]>