Warning: The magic method Vc_Manager::__wakeup() must have public visibility in /home/sristisukh29/public_html/ss_wp/wp-content/plugins/js_composer/include/classes/core/class-vc-manager.php on line 203

Warning: Undefined array key "msg" in /home/sristisukh29/public_html/ss_wp/wp-content/plugins/Woocommerce302_PumCP/index.php on line 24

Warning: The magic method Automattic\WooCommerce\RestApi\Utilities\SingletonTrait::__wakeup() must have public visibility in /home/sristisukh29/public_html/ss_wp/wp-content/plugins/woocommerce/packages/woocommerce-rest-api/src/Utilities/SingletonTrait.php on line 48

Warning: The magic method Automattic\WooCommerce\Admin\FeaturePlugin::__wakeup() must have public visibility in /home/sristisukh29/public_html/ss_wp/wp-content/plugins/woocommerce/packages/woocommerce-admin/src/FeaturePlugin.php on line 312

Warning: Constant WP_MEMORY_LIMIT already defined in /home/sristisukh29/public_html/ss_wp/wp-config.php on line 91

Warning: Cannot modify header information - headers already sent by (output started at /home/sristisukh29/public_html/ss_wp/wp-content/plugins/js_composer/include/classes/core/class-vc-manager.php:203) in /home/sristisukh29/public_html/ss_wp/wp-includes/feed-rss2.php on line 8
আত্মজীবনীমূলক – সৃষ্টিসুখ http://sristisukh.com/ss_wp নতুনদের জন্যে নতুন বই Sun, 11 Jul 2021 08:24:09 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=5.7.15 http://sristisukh.com/ss_wp/wp-content/uploads/2017/06/cropped-icon_ss-32x32.png আত্মজীবনীমূলক – সৃষ্টিসুখ http://sristisukh.com/ss_wp 32 32 পুরুলিয়ার পাঁচালি ও অন্যান্য কিসসা http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf/ Sat, 21 Sep 2019 09:54:56 +0000 http://sristisukh.com/ss_wp/?post_type=product&p=5692 এক নদীতে দুইবার স্নান করা যায় না। কারণ, না সে-নদীটি এক থাকে, না মানুষটি। এ-কথা বলে দার্শনিক হেরাক্লিটস আমাদের যে-চলমানতার কথা জানিয়ে দেন, বস্তুত তাই-ই তো জীবন। সময় থেমে থাকে না। তার পট-পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। এক জীবনে তাই ফেলে আসা জীবনে দু-বার অবগাহন সম্ভব হয় না। তবু, মানুষের কাছে থাকে ম্যাজিক নামের স্মৃতি। সে যেন এক আশ্চর্য জাদুলাঠি। কায়মনোবাক্যে চাইলে সেই-ই ফিরিয়ে দেয় শৈশব-কৈশোরের সঞ্চয়, রঙিন কাচের কোনও ইমারত। মনে মনে তার গায়ে হাত বোলালেই ভেসে আসে আতরের খুশবু। সেই সুগন্ধই অক্ষরে মাখিয়ে দেন সব্যসাচী। সম্ভব-অসম্ভবের মধ্য্যবর্তী কোনও এক বাস্তবতায় তখন জন্ম হয় অগণিত কিসসার। সে-মুহূর্তে খুলে যায় আবেগের উৎসমুখ। পাঠকের তখন বুঁদ হওয়া ছাড়া আর-কোনো উপায় থাকে না। সব্যসাচীর পাঠক মাত্রই এ-স্বাদ জানেন। এ-বইয়েও সে-তৃপ্তির ব্যতিক্রম হবে না।

]]>
ক্যানসার – আমার জীবনসংগ্রাম http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0/ http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0/#respond Sat, 07 Sep 2019 11:06:49 +0000 http://sristisukh.com/ss_wp/?post_type=product&p=5632 আপনি ক্যানসার আক্রান্ত। এই কথাটিই যখন কেউ শোনেন চিকিৎসকের কাছে, সে-মুহূর্তেই জীবনের অর্ধেক আলো যেন নিভে যায়। আসলে ক্যানসার একটা শব্দ মাত্র, কিন্তু তাতে রয়েছে বাক্যের চেয়েও বেশি তীক্ষ্ণতা। এ-বইয়ের লেখিকা মৌমিতা সাহার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে তিনি ব্যতিক্রমী এই অর্থে যে, ডাক্তারের মুখে শোনা এই অমোঘ শব্দ এবং পরবর্তীতে নানা ঘটনার পরম্পরা কীভাবে তাঁর সমাজ, সংসার, যাপনে পরিবর্তন এনেছে – তা লিপিবদ্ধও করেছেন ডায়রিতে। পেশায় শিক্ষিকা মৌমিতা বোধ হয় সমস্ত ক্যানসার আক্রান্তকে দিয়ে যেতে চান জীবনসংগ্রামের সহজপাঠ। ট্রিপল নেগেটিভ লাস্ট স্টেজের স্তন ক্যানসার আর মেটাস্টেসিস নিয়ে লড়ে চলেছেন প্রতিনিয়ত। সেই সংগ্রামের অনুলিখন এই বই। একজন নারীর ঘরে-বাইরে যুদ্ধ তো আছেই। এ-বই সাক্ষ্য দেয় তাঁকে কীভাবে লড়তে হয় তাঁরই শরীরে বাসা বাঁধা মারণরোগের বিরুদ্ধে এবং এই সমাজের মারণ-ধারণার বিরুদ্ধেও। তাঁর সব লড়াইয়ের মধ্যেই থাকে জয়াশা। সেটুকুই প্রাপ্তি। সেটুকুই যে-কোনো ডানা ভাঙা প্রজাপতিকে দেয় পুনরায় উড়ানের সাহস। এই বই সব হতাশা পেরিয়ে আলোর হদিশ দেয় পাঠককে।

]]>
http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0/feed/ 0
রোজনামচা http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%9a%e0%a6%be/ http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%9a%e0%a6%be/#respond Fri, 21 Jun 2019 10:59:14 +0000 http://sristisukh.com/ss_wp/?post_type=product&p=5372 ‘দিনপঞ্জি মানুষের মনের নিকটতম লেখা’ – বলেছিলেন বিনয় মজুমদার। রোজনামচার ভিতর তাই প্রাত্যহিকতা থাকলেও এই নিকটতম বা প্রাইমাল হয়ে ওঠার গুণেই তা মনের কাছাকাছি হয়ে ওঠে। মণিমেখলা মাইতির প্রকাশিতব্য বই ‘রোজনামচা’র ভিতর সেই আলোটুকু আছে, আছে বলেই অন্য কারও জীবনের বেলা-অবেলাগুলোও আর একজনকে স্পর্শ করতে পারে। একজনের নাড়ির স্পন্দন অক্ষর ছুঁয়েই টের পেতে পারেন আর একজন।

আসলে স্রেফ প্রাত্যহিকতায় ভারাক্রান্ত রোজনামচা তো লেখেননি মণিমেখলা। তিনি নিজেকে খুঁড়ে তুলে এনেছেন স্মৃতি-জোনাকি। তার কোনোটি একটু বেশি অতীতের, কোনোটির সঙ্গে হয়তো সময়ের দূরত্ব ততটাও নয়। স্মৃতি আসলে ফেলে আসা যাপনের সাক্ষ্য। ফলে তাতে মিশতে থাকে নানা অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি। কোনও সমসাময়িক ঘটনার সাপেক্ষে তাই চকিতে চলে আসেন গান্ধিজী, কিংবা নিবেদিতার কথা। আবার সেই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আমাদের শিহরিত করে, যখন দেখি লেখিকার পাশে এসে বসেছেন পদাতিক কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়। জীবন স্বতন্ত্র। কেন্দ্রে থাকেন একজন মানুষ। কিন্তু সেই এক জীবনের পরিধির মধ্যে ঢুকে পড়েন বহু মানুষ, তাঁদের ধ্যান, জ্ঞান, চিন্তা, চেতনা, উপলব্ধি। এ রোজনামচায় তাই কখনও লেখিকা ফিরে যান রবীন্দ্রনাথের ছিন্নপত্র-র কাছে। কখনও আবার রবার্ট লিন্ড মনে পড়ে যায় তাঁর। জীবন তো এমনই। বহু শাখে, বহু পুষ্পে ক্ষরিত মধু। সেটুকুই ছেনে নিয়ে এসে মণিমেখলা যে রোজনামচা আমাদের সামনে রাখেন, তা আমাদেরও দেয় এক অনির্বচনীয় স্বাদ। পাতা ওলটাতে ওলটাতে কোথাও একটা আমরাও এ জীবনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে উঠি। লেখিকার কলমের গুণ এমনই যে, তিনি এক ঝটকায় তাঁর নিজের জীবন ও অভিজ্ঞতার ভিতর পাঠককে টেনে নিতে পারেন। সেটা ওই প্রাইমাল হওয়ার কারণেই। ‘রোজনামচা’র ভিতরে যে যাপনের দর্শন থাকে, সেটাই পাঠকের প্রাপ্তি। মণিমেখলার এ সফরে পাঠক অংশীদার হলে, এ প্রাপ্তি মোটেও হাতছাড়া হবে না, সে কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।

প্রচ্ছদ ফোটোগ্রাফ – এভগেনি করনোদেভ

প্রচ্ছদ নামাঙ্কণ – উর্বা চৌধুরী

বইটি সম্পর্কে ‘সুখবর’ দৈনিকে প্রকাশিত আলোচনা।

]]>
http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%9a%e0%a6%be/feed/ 0
ভেবলির ডায়রি http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%ad%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%b0%e0%a6%bf/ http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%ad%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%b0%e0%a6%bf/#respond Fri, 21 Jun 2019 10:22:56 +0000 http://sristisukh.com/ss_wp/?post_type=product&p=5362 একটি সাধারণ মেয়ের অসাধারণ গল্প— ভেবলির ডায়রি। ভেবলি তার নামের প্রতি সুবিচার করে ছোট থেকেই স্কুলে পেছনের বেঞ্চে। খেলাধূলায় সবার শেষে। বন্ধুবৃত্তে পরিধির সামান্য বাইরে। কিন্তু এ মহাবিশ্ব সবার জন্যেই আশ্চর্য পরিকল্পনা তৈরি করে রাখে। সেই চিত্রনাট্যের ধারা মেনেই শহুরে ভেবলি খারাপ ফলাফল করার অপরাধে গিয়ে হাজির হল উত্তরবঙ্গের এক প্রত্যন্ত গ্রামে। আসল লড়াইটা শুরু হল সেখান থেকে। ওই অসহ পরিবেশ থেকে মুক্তির উপায় স্কুলের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল। তাই আর সবকিছু ভুলে ভেবলি পাঠ্যবইয়ে ডুব দিল। যথাসময়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো ফল করে ভেবলি গিয়ে হাজির হল পশ্চিমবঙ্গের এক বিখ্যাত আবাসিক স্কুলে। এই প্রথম তার ওপর এসে জেঁকে বসল তার ধর্মীয় পরিচয়। শুধুমাত্র মুসলমান ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যে গড়ে ওঠা সেই স্কুলের ইসলামিক আদবকায়দার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পেরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ভেবলি আবার ফিরে এল তার চেনা কারাগারে। এবার লড়াই আরও কঠিন। অন্য স্কুল থেকে বছরের মাঝখানে সরে আসার ফলে তাকে ভর্তি হতে হল নতুন এক স্কুলে। সেখানে একের পর এক বাড়ি আর মেস বদলে ভেবলি ক্রমশ বড় হয়ে উঠতে লাগল। সে জানল পুরুষ কেমন এবং কত প্রকারের হয়। স্কুলের পাঁচিল পেরিয়ে কলকাতায় ভরতি হল এক বিখ্যাত কলেজে। সে শিখল বন্ধুত্ব কতটা সুনিবিড় হতে পারে। সে বুঝল শুধুমাত্র প্রেম কীভাবে বদলে দেয় মানুষকে। শেষমেশ, এই উপলব্ধিও তার হল— কেমন করে মানুষ দাঁড়িপাল্লায় চেপে বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানকে মান্যতা দিয়ে থাকে।

সরিতা আহমেদ-এর ‘ভেবলির ডায়রি’ একজন গড়পড়তা মেয়ের, থুড়ি, একজন গড়পড়তা বাঙালি মুসলমান মেয়ের কাহিনি। আমরা সবাই কমবেশি সেই গল্প জানি। এবং আমরা এও জানি সে গল্প খুব স্বস্তিদায়ক নয়। একজন সচেতন পাঠকের জন্যে এই বই লজ্জার, অস্বস্তির এবং অসুখের। নিজের মুখোমুখি দাঁড়ানোর ইচ্ছে না থাকলে তসলিমা নাসরিনের ভূমিকা সম্বলিত এই বইয়ের সঙ্গে সযত্নে দূরত্ব তৈরি করা আবশ্যক।

বইটি সম্পর্কে ‘সাপ্তাহিক বর্তমান’ পত্রিকায় প্রকাশিত আলোচনা –

]]>
http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%ad%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%b0%e0%a6%bf/feed/ 0
আশ্চর্য ভ্রমণ http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%86%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%a3/ http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%86%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%a3/#respond Wed, 19 Jun 2019 13:11:03 +0000 http://sristisukh.com/ss_wp/?post_type=product&p=5270 বইয়ের নাম ‘আশ্চর্য ভ্রমণ’। শুনে প্রথমেই মনে হয়, কী এমন ভ্রমণ যে তা আশ্চর্য! তবে কি কোনও শৃঙ্গবিজয়ের অভিযান বা কোনও প্রায় দুর্গম স্থানে দুঃসাহসী ভ্রমণের দিনলিপি তুলে ধরেছেন লেখক সব্যসাচী সেনগুপ্ত! অথচ গোড়াতেই লেখক জানাচ্ছেন, প্ল্যান ছিল মোটে দিঘা যাওয়ার। তারপর ঠিক কোথায় গেলেন লেখক ও তাঁর বন্ধুরা, তা না বললেও, আঁচ করে নেওয়া যায়, দিঘা যাওয়ার প্ল্যান করে কেউ মঙ্গলে পাড়ি দেওয়ার মতো কষ্টকল্পনাকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন না। তাহলে এ ভ্রমণ কেন আশ্চর্য! সেই তো ভাগাভাগি করে চাঁদা দেওয়া, কখনও গাড়ি মিস করা, কখনও হোটেলের নানা রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা বা এরকমই নানা চেনা বা কম চেনা ঘটনার সমাহার। তাহলে আশ্চর্যটা কীসের?

এ কাহিনি ধরে যত এগোনো যায়, তত মালুম হয় আশ্চর্য আসলে এই পুরো ভ্রমণটাই। এই ভ্রমণ ঠিক আজকের বা সাম্প্রতিক নয়। আজ পিছু ফিরে তাকালে মনে হয় সে যেন কোনও গতজন্মের কাহিনি। অথচ আমরা তাকে জীবনের আবর্তে ফেলে এসেছি, সংখ্যার হিসেবে হয়তো এই বছর কয়েক আগেই। বছর কয়েক আগেই ছিল সেই কলেজ জীবন, সেই জীবনকে হাত পেতে চেটেপুটে নেওয়ার সু-অভ্যেস। আজও কি তা নেই! আছে হয়তো! তবু ধারালো সময় যখন দুই জীবনের মাঝে চেপে বসে, তখন অজান্তেই যেন একরকমের বিভাজন চলে আসে। অচেনা হয় অতীত। আবার তাকে ছুঁতে ভীষণ মন চায়। তবু তা সম্ভব নয়, সেটাই বাস্তবতা। এই দ্বন্দ্ব হেতুই রক্তক্ষরণ তথা নস্ট্যালজিয়া। সেই মেদুর দৃষ্টি যেন আজ, এই সময়ে দাঁড়িয়ে ওই ভ্রমণ কিস্সা‌র পরতে পরতে খুঁজে পায় কেবলই বিস্ময়। আজ সত্যিই আশ্চর্য মনে হয় সে ভ্রমণ। এ বই তাই ভ্রমণের নয় কিছুতেই, আবার ভ্রমণেরই বটে।

]]>
http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%86%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%a3/feed/ 0
খণ্ড ক্যানভাস http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%96%e0%a6%a3%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b8/ http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%96%e0%a6%a3%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b8/#respond Sat, 07 Apr 2018 17:22:38 +0000 http://sristisukh.com/ss_wp/?post_type=product&p=4621 হেমন্ত কুয়াশা ঝরে পড়ছে টাপুর টুপুর। দিগন্ত বিস্তৃত চর ও অচর ঝাপসা আলো আঁধারি মায়ায় অপেক্ষায় আছে, এক্ষুনি যেন ব্ল্যাক ম্যাজিক দেখাবে কোনও আফ্রিকান জাদুকর। গর্ভবতী চন্দ্রবোড়া সাপেরা দশহাত মাটির তলায় নুড়ি আর বালির লেপ তোশকে চিতোরগড়ের রানির আনন্দে তোফা ঘুমের জোগাড়ে ব্যস্ত। সারারাত শিশিরে ভেজা সবুজ ঘাস ইতিউতি টুকটুক গল্প করে। সদ্য কিশোরী ধান, বুকের জমে ওঠা দুধের ভাণ্ডারে শিরশির হাওয়া পেয়ে খিলখিল হাসে মাথা দুলিয়ে। সূর্য এই উঠল বলে।

আলগোছে অনিমেষ ভাবনা ছড়িয়ে সরু, কাটা আলপথ পেরিয়ে হনহন চলে লোকটা। মৃদু কুলকুল শব্দে ভুলুকপথে জল এগিয়ে যায় এক সীমানা ছেড়ে অন্য সীমানার দিকে। যাযাবরের নির্দিষ্ট নিয়মের কোনও তোয়াক্কাই করে না সে। কাঁধে ঝুলি, গামছা কিম্বা পাগড়ি, নিদেনপক্ষে হাতে এক গাঁঠওয়ালা তৈলাক্ত বাঁশের লাঠি, এ সব কিছুই তার কাছে অনভ্যস্ত ছদ্মবেশ। মাঠের সীমাহীন আলপথে কুয়াশায় মোড়া ক্ষীণ দৃশ্যমানতায় এগিয়ে চলে লোকটা। তার স্বল্পকেশ আর অনির্দেশ দৃষ্টি সম্বল।

কুকুকুকু আওয়াজে ভৈরবী রাগে বেহালায় ছড় তোলে কোনও মেঘনাদ পাখি। নিকুম্ভিলায় বসার আগে বাজিয়ে নিতে চায় চারপাশের শত্রু অবস্থান। মাঝে মাঝে অরোমান্টিক দাড়িতে হাত বোলায়, চুলকায় লোকটা। গতরাতের নরম মেয়েটার সূক্ষ্ম যোনিভেদের উত্তাল বৃত্তান্ত, এখন আর তার মনে নেই। যেমন মনে নেই কাল সন্ধেয় হাতে গোনা তিন টুকরো রুটি জুটেছিল কিনা ঠিকঠাক! চারদিক সচকিত করে হঠাৎ হাঁচি আসে, গুনে গুনে ঠিক দু-বার।

জীবনের যত ঝর্নাপ্রপাত, বিষাদের সমুদ্রে কল্কেফুলের রঙ পরিবর্তন, সব সবকিছু তুচ্ছ হয়ে যায় এই রাত সকালের সন্ধিক্ষণে। চড়া সূর্যের আলোয় নৌকাবিহীন নদীর জলে আলোর ঝলকানি মুহূর্ত বিপর্যস্ত করে না স্বভাব যাযাবরকে। উশকোখুশকো চুলের গোপন কোণ থেকে উঁকি দেয় সূক্ষ্ম রুপোলি রেখা। কত মুখ এল গেল, কত মুখই রয়ে গেল, হারাল অন্ধকারের নিষিদ্ধ গলিতে। লেগে থাকে সময়ের গায়ে কত না বোঝা অভিমান, না পাওয়া আদর। কোনোদিকে ভ্রূক্ষেপ না করেই এগোয় সে জন। তার কোনও অতীত নেই, ভবিষ্যত নেই। আছে শুধু কুয়াশাময় নিপাট বর্তমান।

ছেঁড়া ছেঁড়া কাটা স্বপ্ন-নকশায় রাত্রি পার হয়। জঙ্গলের দূর ঘনছায়ায় খটখট শব্দে নিশিবাসর চকিতে জাগিয়ে তোলা সাদা লক্ষ্মীবাহন অজর গমন শেষে ঘরে ফিরে যায়। সেইসব তরুণী কস্তুরি মুখ, অথবা কস্তুরি মুখের হরিণী ছায়া, হেমন্তভোরের চুপিচুপি অভিমান হয়ে কুঁড়ি হয়, ফোটে, ফের ঝরে যায় নাছোড় জাতিস্মর স্মৃতির অক্ষম বাহক হয়ে। অগস্ত্য অভিযানে গালের দু-পাশে বলি ক্রমশ গভীর হয়। আলপথ ধরে ভাঙাচোরা অবয়ব এগিয়েই চলে সকল চাওয়ার হাতের ধরাছোঁয়ার সীমানার বাইরে। আঁকাবাঁকা রঙধনু দিগন্তরেখা একবার হলেও ছোঁবেই সে।

লাল কাঁকুরে ল্যাটেরাইট মাটিতে সূর্য ওঠার আগের হিম আর সকালের প্রারম্ভ রোদ্দুর ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে পড়ে। টলমল পায়ে হাঁটে, খিলখিল হাসে। হাসে আর লুটোপুটি খায়। গায়ে মেখে নেয় লাল ধুলোর আদুরে আস্তরণ। ভাঙে নিজেদের অহং, আজন্ম লালিত সংস্কার, অন্ধ কানাগলির বোধ। ভাঙতে ভাঙতে একসময় বিদ্যুৎ চমকের মতো জন্ম নেয় গোলাপি মুক্তোর খণ্ড।

একমুখ দাড়ি, গোঁফ আর ঝাঁকড়া চুল, কতদিনের না কাচা জামা আর বোতাম ছেঁড়া জিনস সম্বল লোকটা হেঁটে চলে সযত্নে মুক্তোগুলোকে পাশ কাটিয়ে। সম্পূর্ণ উদাস দুটো চোখে পৃথিবীর কোনও অনাচার কিম্বা আপাত দুর্লভ সম্পদমায়া কোনও ছাপই ফেলতে পারে না। একে একে পার হয় রুক্ষ অকৃষিযোগ্য মাঠের আল।

কোন দূরে সদগোপ গৃহস্থ সন্ধানী চাউনিতে খুঁজে ফেরে আগের রাতে গোয়ালের নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে না ফেরা গাভীর ঝুন্ড। সেদিকে একঝলক তাকিয়েই এলোমেলো লোকটার মনে পড়ে যায় গতরাতের স্বপ্নে রাগী মোষের লেজ কেটে নেওয়ার বিক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত। ঘুমভাঙা পাখিদের চমকে দিয়ে একাকী প্রান্তর কাঁপিয়ে হা হা করে হেসে ওঠে সে। স্বপ্নেও তাকে পালাতে হয় ক্রুদ্ধ মোষের তাড়া থেকে উদাসীন জীবন বাঁচানোর নিষ্ফল চেষ্টায়।

এইভাবে জীবনও তাড়া করে। আশেপাশে লোভী হাত যখন নির্জন রাতে কাজফেরত যোনির ওপর হামলে পড়ে। নেশাড়ু মননে ফাঁকা রাস্তায় ব্লাউজ ছিঁড়ে অনাবৃত করে সুডৌল স্তন।

যখন বলিরেখা আঁকা মুখের সামনে নেচে বেড়ায় শেষ বয়সের সম্বল দেবার আশ্বাসে অর্থলোলুপ হাত। বহু বসন্ত দেখা বৃদ্ধ চোখের সামনে নেমে আসে গাঢ় শীত। বরফ পড়ে। পাতা হারিয়ে সবুজ গাছেরা মৃতপ্রায়।

যখন চোদ্দো বছরের বিবাহিত জীবনে নপুংসক কিলবিলে হাত শুধু ঘুষি মেরে যায় কোমল প্রত্যঙ্গে। কালশিটে দেখে ভোগ করে নরকের দাউদাউ আনন্দ। চুরি করে বেচে দেয় কামনা মেটানো সোনালি শৈশব।

তখনও লোকটা দৌড়ায়। আধঘন জঙ্গলের আঁকাবাঁকা গাছেদের এড়িয়ে খোলা প্রান্তরের সীমানার দিকে।

খোঁচা খোঁচা আগাছার ভিড়ে শুধু মশাদের গুনগুন। সূর্য ওঠে। লাফ দেয় দেরি হয়ে যাওয়া নৈমিত্তিক দিনের শুরুতে। লোকটা হাঁটে নির্বোধপ্রায় চাউনির মরা আভা দিয়ে পথ খুঁজে খুঁজে।

কোথাও ধানকলের ভোঁতা সাইরেন জানান দেয় — ভাত দাও গো! বড় খিদে আজ চড়াপড়া এ পেটসর্বস্ব দেহে!

]]>
http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%96%e0%a6%a3%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b8/feed/ 0
যৎকিঞ্চিৎ http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%af%e0%a7%8e%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a7%8e/ http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%af%e0%a7%8e%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a7%8e/#respond Sat, 07 Apr 2018 15:43:58 +0000 http://sristisukh.com/ss_wp/?post_type=product&p=4605 ক’দিন আগে কলকাতায় একটি পারিবারিক উৎসবে সায়ন্তিকার বাবার সাথে দেখা। আমাকে দেখেই নিমের পাঁচন খাওয়া মুখ করে সোফাতে বসলেন। টিভিতে তখন কোনও একটি সিনেমা চলছিল, যেখানে দুটি ছেলেমেয়ে ভালোবেসে বিয়ে করে অসুখী দাম্পত্যে জড়িয়ে পড়েছে। কফির কাপে চুমুক দিয়ে আমার দিকে ইঙ্গিতপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে সায়ন্তিকার বাবা বললেন, “কখনও কখনও এক মুহূর্তের ভুলের ফসল সারাজীবন বইতে হয়, বুঝলে…”
আমি সপাটে বললাম, “হ্যাঁ। জলের মতো বুঝলাম।”
সায়ন্তিকার বাবা একটু থতমত খেলেন। তারপর অফিসিয়াল স্মার্টনেস বজায় রেখে জিজ্ঞেস করলেন, “কী বুঝলে?”
আমি ঠান্ডা গলায় উত্তর দিলাম, “বুঝলাম এই যে, আপনি একমুহূর্তের ভুল করেছিলেন আর সেই ভুলের ফসল হল সায়ন্তিকা যাকে আপনি তেইশ বছর ধরে বয়ে বেড়াচ্ছেন।”
হয় কাজের দিদির করা কফিটা ভালো হয়নি, নয়তো টিভিতে ছবি ভালো আসছিল না। নইলে অমন তেতো মুখ করে ভদ্রলোক আচমকা উঠে যাবেন কেন?

আজ দিনটা বেশ গোলমেলে। বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে আজকের দিনে মেষজাতকের কুলোকের কথায় কান দিতে নেই। অথচ, আজ কী কুক্ষণে সায়ন্তিকার বাবার ফোন এল। আমার মতিভ্রম হয়েছিল অথবা গ্রহ বিপর্যয় ঘটেছিল নিশ্চয়, নাহলে ফোনটা ধরলাম কেন?
ধরেই যখন ফেলেছি, অগত্যা কালমেঘ খাওয়া মুখ করে বললাম, “ভালো আছেন কাকু?”
ওপার থেকে হাঁড়িচাচা মাফিক আওয়াজ এল, “ভালো তো থাকবই। ভালো থাকব না মানে? তুমি কি চাও যে আমি ভালো না থাকি?”
“ইয়ে মানে, ছি ছি, কী যে বলেন কাকু। আমি কেন চাইব না যে আপনি ভালো থাকুন। আমি তো সব সময় চাই যে আপনি আরও ভালো থাকুন। আপনার বকেয়া ডিএ একলপ্তে প্রাপ্তি ঘটুক। লুপ্ত যৌবন ফিরে আসুক। সাদা চুল কালো হোক। পেটের ব্যথা, অম্বল সেরে যাক…”
“কী হে ছোকরা… তোমার সাহস তো কম নয়। ইয়ার্কি করছ আমার সাথে। জানো আমি তোমার বাবার বয়সি?”
“তাই নাকি, জানতাম না তো… ইসস… আমি তো ভাবতাম আপনি জাস্ট থার্টি।”
“ফাজলামো হচ্ছে? শোনো খোকা, নেহাত আমার মেয়ে তোমাকে পছন্দ করে, নাহলে তোমায় উচিৎ শিক্ষা দিয়ে দিতাম। আর আমি তো বুঝতেও পারি না যে তোমার মতো একটা গণ্ডমূর্খের সাথে সায়ন্তিকা বাকিটা জীবন কাটাবে কী করে?”

আমি যে গণ্ডমূর্খ, এই সারসত্যটা আমার মাস্টারমশাইরা বহুকাল আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছেন। তবুও বিদ্যাসাগর মশাই তো কোনকালে বলে গিয়েছেন যে কানাকে কানা, খোঁড়াকে খোঁড়া আর গণ্ডমূর্খকে গণ্ডমূর্খ বলতে নেই। তাই হেব্বি রাগ হল। না হয় আমি একটা পাতি ইস্কুল মাস্টার আর সায়ন্তিকার বাবা একটা সরকারি বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর। তাই বলে অ্যাইসা অপমান? বাছা বাছা কিছু উত্তর মুখে আসছিল। সেগুলো চেপে দাঁত কেলিয়ে (মানে, ফোনে যতটা দাঁত ক্যালানো যায় আর কী), গলায় স্যাকারিন ঢেলে বললাম, “কাকু, আপনি একদম চিন্তা করবেন না। আপনার সাথে গত তেইশ বছরের অভিজ্ঞতাই ওকে আমার সাথে বাকিটা জীবন কাটাতে সাহায্য করবে।”

]]>
http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%af%e0%a7%8e%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a7%8e/feed/ 0
চেনা আলো চেনা অন্ধকার http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0/ http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0/#respond Sat, 07 Apr 2018 15:30:48 +0000 http://sristisukh.com/ss_wp/?post_type=product&p=4603 বিমোচন ভট্টাচার্য-র লেখার জনপ্রিয়তা নিয়ে সামান্য বিশ্লেষণ করলেই দেখা যায়, তাঁর লেখাগুলো আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সঙ্গে আড্ডা দেয়। বিখ্যাত পিতার (মধুসংলাপী বিধায়ক ভট্টাচার্য) পুত্র হওয়ার কারণে বাংলা চলচ্চিত্র ও থিয়েটারের বহু পরিচিত ও বিখ্যাত মানুষকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে তাঁর ছোটবেলা থেকেই। আর এসবের সঙ্গে আছে তাঁর নিজের জীবনের আপাত-সাধারণ নানা পর্যবেক্ষণ। আসলে অভিজ্ঞতা শুধু প্রত্যক্ষ করাতেই শেষ হয় না। তাকে ধারণ করার মতো আধারও জরুরি দারুণভাবে। বিমোচনবাবুর লেখা সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

গতবছর বইমেলায় তাঁর ‘তোমার পরশ আসে’ প্রকাশের পরে যে ভালোবাসা পাঠককুল ফিরিয়ে দিয়েছেন, তা এককথায় আমাদের জন্যে অভূতপূর্ব। এই বছর কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত হল বিমোচন ভট্টাচার্য-র ‘চেনা আলো চেনা অন্ধকার’। নিচে রইল বইটি থেকে একটি ছোট গদ্য।

===============

নিতাইদাকে মনে আছে তো আপনাদের? প্রতিদিন আমাদের পাড়ার মন্দিরে মা কালীকে গান শোনান। রাতে যাবার সময় ওয়ান্নিং দিয়ে যান মা কালীকে। মনে পড়ছে? সেই লকাই আর নিতাইদা।
তো এই নিতাইদা পেশায় ইলেক্ট্রিসিয়ান। থাকেন আমাদের আবাসনের পেছনদিকের রেল কোয়ার্টারে। আমাদের পাড়ায় কাজ করেন না। একটি দোকান আছে শুনেছি নাগেরবাজারের কাছে। সেই এলাকাতেই কাজ করেন।
প্রায় কুড়ি বছর দেখছি আমি নিতাইদাকে। যখন রেগুলার আড্ডা মারতাম, তখন রোজ দেখা হত। এখন কোনোদিন রাতে ক্লাব থেকে ফেরার পথে দেখা হয়ে যায়। মা কালীর সাথে কথোপকথন শেষ করে বাড়ি ফিরছেন। একগাল হেসে আমায় বলেন, “ভালো তো ব্রাদার?” পেছন পেছন যায় রাজ্যের কুকুর। ওদের বিস্কুট খাওয়াতে খাওয়াতে বাড়ি ফিরে যান নিতাইদা। বলে রাখা ভালো, এতদিনে কোনোদিন নিতাইদাকে সকালে দেখিনি আমি।
গত সোমবার আমার বাড়ির একটা পাখা খারাপ হয়ে গেল হঠাৎ। আমার বাড়ির ইলেক্ট্রিসিয়ান বলরাম বাইরে গেছে। আর কাউকে পেলাম না। এদিকে এই গরমে পাখা ছাড়া চলবে না। ভাবলাম, আরে নিতাইদা তো ইলেকট্রিক মিস্তিরি। যাই একবার।
ভিলার পেছনদিকের রেল কোয়ার্টারে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে ওরা দেখিয়ে দিল নিতাইদার বাড়ি। দোতলা কোয়ার্টারের একতলায় যারা থাকেন, অধিকাংশই রেলের কর্মচারী নয়। সাবলেট করা। বেশিরভাগ বিহারী। একটি বাড়ির (এগুলিকেই মনে হয় ব্যারাক বলা হত) একেবারে শেষ ঘরটা নিতাইদার। ডাকলাম। একটা লুঙ্গি পরে খালি গায়ে বেরিয়ে এলেন নিতাইদা। বললেন, “কী চাই বলুন?” চিনতেই পারলেন না আমায়। বললাম, “একটা পাখা খারাপ হয়েছে বাড়ির।” কথা বাড়াতে দিলেন না নিতাইদা, রাগত স্বরে বললেন, “আপনাকে কে বলেছে আমি পাখা সারাই?” আমি বললাম, “কেউ বলেনি, শুনেছিলাম আপনি ইলেক্ট্রিসিয়ান।” আরও রেগে গিয়ে বললেন, “কে আপনাকে কী বলল সে নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। শালা, জোটেও সব আমার কপালেই। কোন শুয়োরের বাচ্চা রটিয়ে দিয়েছে যে আমি ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি, রোজ বাঁ* কেউ না কেউ চলে এসে বলছে, পাখা সারাও, আলো সারাও। যান তো মশাই। আর কোনোদিন এলে গাঁ* ভেঙে দেব। চিনি না, শুনি না চলে এসেছেন বাঁ* সক্কাল সক্কাল নিতাইদার গাঁ* জ্বালাতে।”
বাইরে এলাম। কাল লাল হয়ে গেছে আমার অপমানে। দেখি শংকর, আমার গাড়ি চালায় মাঝে মাঝে। বলল, “কাকু, নিতাই জ্যেঠুর ওখানে গিয়েছিলেন কেন?” বললাম কেন গিয়েছিলাম। শংকর বলল, “নিতাই জ্যেঠুর ছেলেটা গলায় দড়ি দিয়েছে দু-দিন আগে। কাল বডি পেয়ে শ্মশান থেকে অনেক রাত্রে ফিরেছি আমরা। আর তাছাড়া কাকু, নিতাইজ্যেঠুর লিভারে ক্যান্সার ধরা পড়েছে দিন পনেরো আগে। কিছু মনে করবেন না। নিতাই জ্যেঠু কিন্তু এমন মানুষ নয়।” চলে এলাম বাড়িতে। মনটা খারাপই হয়ে থাকল।
কাল রাতে বাড়ি ফিরছি ক্লাব থেকে দেখি নিতাইদা ফিরছেন। আজ একটু বেশি খেয়েছেন মনে হয়। পেছনে কুকুরের দল নিয়ে নিতাইদা বাড়ি ফিরছেন। আমি পাশ কাটিয়ে চলে আসব, আমার দিকে চোখ পড়ল নিতাইদার। হাত তুলে একগাল হেসে বললেন, “কী ব্রাদার, দেখতেই পাচ্ছো না যে গরিব দাদাকে। অনেকদিন দেখি না। শরীর ভালো আছে তো?”
ভাবছিলাম কতদিনই বা বাঁচবেন আর নিতাইদা। কিন্তু নিতাইদা চলে গেলে বড় ফাঁকা ফাঁকা লাগবে বাসস্ট্যান্ডের মন্দিরটা। ফাঁকা ফাঁকা লাগবে রাতের পাড়াটা। চলে তো যাবেনই নিতাইদা। নোটিশ তো পেয়েই গেছেন হাতে। যেতে হবেই ঘর খালি করে।
আজ না হয় কাল…

]]>
http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0/feed/ 0
সুজনকথা http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/ http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/#respond Sun, 01 Apr 2018 17:47:20 +0000 http://sristisukh.com/ss_wp/?post_type=product&p=4588
লেখকের সৃষ্ট চরিত্র একেনবাবুকে নিয়ে তৈরি হয়ে গেল চলচ্চিত্র (ওয়েব সিরিজ)। কিন্তু তাঁর নিজের ফিল্ম কেরিয়ার নিয়ে আফশোস গেল না। আসুন পড়া যাক।
 
=====
 
ছেলেবেলায় মাস্টার বাবুয়া, মাস্টার বিভুদের দেখে আমার ভারী সাধ হয়েছিল সিনেমায় নামব। বাড়ির কেউ শুনল না। অগত্যা মায়ের বন্ধু বাণীমাসিকে ধরেছিলাম। বাণী রায় তখন কবিতা-গল্প-উপন্যাস লিখে নাম করেছেন… সিনেমার লোকদের খুব চেনেন। প্রথমেই ওঁর বেয়াড়া প্রশ্ন, “তোর মা জানে?”
তখনই বুঝলাম এগোবে না, মাস্টার সুজন আর হওয়া যাবে না। এই দুঃখটাই আরও উথলে উঠেছিল, যেদিন শুনলাম আমারই পরিচিত একটি বাচ্চা ছেলে সিনেমায় চান্স পেয়ে সুচিত্রা সেনের কোলে উঠেছিল বা বসেছিল! ঠিক কোনটে মনে নেই।
 
বড় হয়েও সিনেমা নিয়ে আমার ফ্যাসিনেশন কমেনি। কলম্বাসে চাকরি করছি… শুনলাম, চেকোস্লোভাকিয়া থেকে পালিয়ে আসা এক নামকরা ফিল্ম ডিরেক্টর কোর্স দিচ্ছেন। আমি আর জো ন্যাপ (সহকর্মী) ছুটলাম, কোর্স নেব। তখন অনেক ক্লাসে বসা যেত পয়সা না দিয়েও, তবে শিক্ষকের অনুমতি লাগত। ক্লাসে ঢুকছি, দেখি ডিরেক্টর প্রশ্ন করেছেন কে কোন ডিপার্টমেন্ট থেকে এসেছে। কেউ থিয়েটার, কেউ ইংরেজি, কেউ সাইকোলজি। উত্তর শুনে ভদ্রলোক সন্তুষ্ট। ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে বললেন, “খুব ভালো, খুব ভালো। আরও ভালো তোমরা কেউ ইঞ্জিনিয়ার বা ভেটানারিয়ান নও।”
কী বিপদ! আমরা কী দোষ করলাম?
“তোমরা কোত্থেকে?” এবার আমাদের জিজ্ঞেস করলেন।
পাছে ক্লাস করতে না দেন, জো বুদ্ধি খাটিয়ে বলল, “কন্টিনিউইং এডুকেশন।”
“আমিও কন্টিনুইং।”
কী বুঝলেন কে জানে, কিন্তু ঝামেলা হল না। তবে কোর্সটা জমলই না। সারাক্ষণই মনে খচ খচ… সিনেমা আর ইঞ্জিনিয়ারিং বোধ হয় মিশ খায় না… নইলে অত বড় ডিরেক্টর ওরকম বলবেন কেন?
 
নিউ জার্সিতে এসে অবশ্য দেখলাম, সেটা সত্যি নয়। ইতিমধ্যেই দু-জন ইঞ্জিনিয়ার ফিল্ম বানিয়েছে। একজন ডকুমেন্টারি, আরেকজন বউয়ের গয়নাগাটি বেচে সোয়া দু-ঘণ্টার ফিচার ফিল্ম। সেই ফিল্মটা মুক্তিও পেল কলকাতায়। ছবির হিরো আমাদের বন্ধু। তার দিদি ঠিক করেছিল প্রথম সপ্তাহের ভিড় কমলে দেখতে যাবে। হিরোই বলল, “এ ছবি দু-দিনও চলবে না। দেখতে চাইলে কালকেই যেও।”
মোট কথা, ছবিটা পুরোপুরি ফ্লপ। সেসব দেখে আমি ঠিক করলাম, অখাদ্য ছবি বানাব না, ট্রেনিং নিয়ে ভালো ছবি বানাব।
 
ম্যানহাটনের নিউ স্কুলে ফিল্ম-মেকিং-এর ক্লাসে গেলাম। ছ-সপ্তাহের কোর্স, কোর্সের শেষে তিন-চার মিনিটের ফিল্ম প্রজেক্ট। অবশ্য একার নয়, পাঁচজন মিলে। আমাদের গ্রুপের একজন হতে চায় স্ক্রিন-প্লে রাইটার, একজন ডিরেক্টর, একজন ক্যামেরাম্যান, বাকি দুজনকে হতে হবে হিরো-হিরোইন। শেষ দুটো স্লটই ফাঁকা ছিল। হিরো আমি স্বয়ং, হিরোইন একটা ফ্রেঞ্চ মেয়ে… সে মনে হচ্ছিল বুঝতেই পারছে না কী ঘটছে।
স্ক্রিন-প্লে রাইটার একটা দুর্ধর্ষ স্ক্রিন-প্লে লিখল। রাস্তার ধারে একটা কালো ছেলে দেয়ালে ঠেস দিয়ে উদাসভাবে দাঁড়িয়ে, একটা সাদা মেয়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ তাকে দেখে কী জানি ভেবে ঘুরে আসবে, দু-চারটে কথা, তারপর চকাৎ করে চুমু খেয়ে চলে যাবে (হাসবেন না!)। প্রথমটা এস্টাব্লিশিং শট — লোকেশনটা বোঝাবার জন্য। তারপর ট্র্যাকিং শট… ক্যামেরা মেয়েটাকে ফলো করবে। ফিরে এসে ছেলেটার কাছে যেতেই প্রথমে মিডিয়াম শট, তারপর ক্লোজ-আপ।
 
“একটু রোল রিভার্সাল হল না।” আমি মৃদু প্রতিবাদ করেছিলাম স্ক্রিন-প্লে শুনে।
“সেটাই তো চাইছি,” সিনারিও ম্যান রেগে গেল।
সাইলেন্ট ফিল্ম। ল্যাঙ্গোয়েজ কোনও সমস্যা নয়, আমি বাংলা বলব, মেয়েটা ফ্রেঞ্চ। প্রশ্ন হল হিরোইন এটা প্লে করতে রাজি হবে কিনা। ডিরেক্টর তাকে বোঝাল। দু-একবার ফেক চুমু দেখাল। এবার ব্যাপারটা বুঝে আমার থেকে চার ইঞ্চি লম্বা মেয়েটা হেসে কুটিপাটি। কিন্তু বিশ্বাস করবেন, অ্যাদ্দূর এগিয়েও সেই ফিল্মটা হল না! গাধা ক্যামেরাম্যান কী যে ক্যামেরা চালিয়েছে, ফিল্মের পুরোটাই কালো। চুমুটা পেয়েছিলাম… কিন্তু প্রমাণ করতে পারব না।
 
এরপর আমাদের বাড়িতেই একদিন শুটিং হল… মনোজ ভৌমিকের ‘এই দ্বীপ এই নির্বাসন’ টিভি সিরিয়ালের কোনও একটা পার্টির সিন। অরিজিৎ গুহ আর সমরেশ মজুমদারের যুগ্ম প্রডাকশন ছিল বোধ হয়। বাড়ি ব্যবহার করতে দেওয়ার অনুরোধটা এসেছিল বন্ধু সিদ্ধার্থ দত্তর কাছ থেকে। অরিজিৎ আমার ছেলেবেলার বন্ধু, মনোজও বন্ধু ছিল… সুতরাং ‘না’ বলা যায় না। অভিনেতা-অভিনেত্রীরা বেশিরভাগই দেশের। পার্টি সিনে কয়েকটা স্লট ছিল। সেখানে ঢোকার চান্স ছিল একশ পার্সেন্ট… নইলে তো বাড়িই ব্যবহার করতে দেব না! কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিনেমায় আমার কন্ট্রিবিউশন হবে শুধু একটা পার্টিতে সরবত (ঠিক আছে না হয় হুইস্কি) খাওয়ার রোলে? মন সাড়া দিল না। শুনেছি এই সিরিয়ালটাও মুক্তি পায়নি, অনুমতি সংক্রান্ত কারণে।
 
অভিনয় দিয়ে শুরু করেছিলাম, সেখানেই ফিরে আসি। আমার নিজের বয়সটা ঠিক রেখে সময়টাকে যদি পঞ্চাশ-ষাট বছর পিছিয়ে দিতে পারতাম, তাহলে একটা চান্স ছিল। সেকালে বহু বাংলা সিনেমায় দু-তিন মিনিটের একটা মৃত্যুর সিন থাকত। বৃদ্ধ হাঁপাচ্ছেন আর কাশছেন। খাটের চারপাশে বাড়ির মহিলারা মুখে আঁচল চাপা দিয়ে কান্না চাপার চেষ্টা করছেন। বাড়ির বড়রা বাবার পা ধরে বসে আছে, নাতি-নাতনিরা দাদু-দাদু করছে। বৃদ্ধ হাঁপাতে হাঁপাতে কাশতে কাশতে তাঁর আশীর্বাণী বর্ষণ করছেন। ওই রোলটা আমি পেলে ফাটিয়ে দিতাম। এমনিতেই আমার অ্যালার্জি, দিনরাত কাশিও খুব, ন্যাচারাল অ্যাডভান্টেজ ছিল। কিন্তু সে যুগ তো এখন নেই। এখন তো সেরকম সিনই দেখি না, সবকিছু সিম্বলিক!
 
তাহলে দাঁড়াল কি? কী আবার? সিনেমা ‘করেছে আড়ি, আসে না আমার বাড়ি, গলি দিয়ে চলে যায়…’
]]>
http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/feed/ 0
আবছা অ্যালবাম ইস্টম্যানকালার http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%9b%e0%a6%be-%e0%a6%85%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%95/ http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%9b%e0%a6%be-%e0%a6%85%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%95/#respond Mon, 05 Mar 2018 16:45:52 +0000 http://sristisukh.com/ss_wp/?post_type=product&p=4466 বই মাত্রেই যে ভূমিকা থাকতেই হবে, তার কোনও মানে নেই। তবুও মনে হল, দু-চার কথা লিখি।
ঈশানীর স্মৃতিকথন ‘আবছা অ্যালবাম – ইস্টম্যানকালার’-এর পাণ্ডুলিপি দেখলাম। চোখে এখন দেখতে পাই না, তাই একজন পড়ে শোনাল। শুনে আমি অভিভূত।
ঈশানীর লেখার হাত এবং দেখার চোখ, দুই-ই অত্যন্ত চমৎকার। উত্তর কলকাতার একটি বনেদী বাড়িতে বড় হয়ে ওঠা, তার কলেজ-জীবন এবং যৌথ পরিবারের আবহ, এই সবকিছু ফুটে উঠেছে এই লেখায়। তার দাদুর স্নেহ এবং প্রশ্রয় তাকে যেভাবে ঘিরে ছিল বর্মের মতো এবং দাদুর মৃত্যু… সেই বর্ণনা দিয়ে এই বইয়ের শুরু। অনুপুঙ্খভাবে। তারপর এসেছে তার লেখাপড়ার জগৎ, বন্ধু-বান্ধবীদের কথা এবং নানা অধ্যাপকের শারীরিক ও চারিত্রিক গুণাবলী সম্বলিত সরস ও সসম্ভ্রম বর্ণনা। রক্ষণশীল সমাজের টুকরো ছবিও এসেছে। সরস বর্ণনার শেষে যখন ছেড়ে চলে যাওয়া পরিজনদের কথা আসে, মৃত মানুষদের প্রসঙ্গ; তখন এককালীন গমগমে যৌথ পরিবারের ক্রমক্ষীয়মাণ অবস্থার ছবি কোথায় যেন মনকে ব্যথাতুর করে তোলে।
ঈশানীর স্বামী কল্লোল ওর সহপাঠী ছিল। তার একঝলক বর্ণনাও অতি দক্ষতায় আঁকা।
পাণ্ডুলিপি পড়া শেষ হয়ে যাওয়ার পরে মনে হয়েছিল, এ লেখা আরও দীর্ঘ হল না কেন! তখনকার উত্তর কলকাতা, রাজাবাজার বিজ্ঞান কলেজ, সেই ট্রাম বাস ফুটপাথের বর্ণনা আমাদের মতো অনেক পাঠককেই হঠাৎ করে পুরোনো দিনে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। এমন লেখা পড়ে মন ভারী স্নিগ্ধ হয়ে ওঠে। ভাষা অত্যন্ত সমৃদ্ধ, কিন্তু কোনও দেখানেপনা বা অতি-সপ্রতিভতা নেই। সেটা দেখেই মুগ্ধ হতে হয়।
আমি আশা করব, ঈশানী আরও লিখবে এবং ওর লেখা যেন না থামে। আমি অত্যন্ত দুঃখিত, নিজের হাতে ভূমিকাটি লিখতে পারলাম না আমার ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তির জন্য, শ্রুতিলিখন দিতে হল। এই গ্লানি একান্তই আমার। এই বইয়ের পাঠক-পাঠিকারা আশা করি নিজগুণে আমাকে মার্জনা করবেন।

বুদ্ধদেব গুহ

]]>
http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%9b%e0%a6%be-%e0%a6%85%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%95/feed/ 0