আমি কোনও পক্ষীবিদ নই; একজন চিত্রশিল্পী, যে পাখি ভালোবাসে। সেই ভালোবাসা থেকে ২০১২ সাল থেকে নিয়মিত পাখির ছবি এঁকে চলেছি। আমার লক্ষ্য ভারতের সব প্রজাতির পাখির ছবি আঁকা। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে প্রায় ৮৫০ প্রজাতির ছবি আঁকার পর বেশ কিছু মানুষ বলেন, সোজা দাগে কিছু পাখি এঁকে দেখাতে, যা দেখে তাঁরাও আঁকতে পারবেন। সেই কাজ ফেসবুকে পোস্ট করলে তা জনপ্রিয় হয়। ২০১৯-এর জুলাই মাসে এই পর্যায়ের ছবি আর পাখিগুলির বিষয়ে সামান্য তথ্য সহযোগে একটি বইয়ের সিরিজ করার ভাবনা নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করি। তার জবাবে সেদিন রাতেই রোহণ কুদ্দুসের ফোন পাই। তারই বাস্তব রূপায়ন এই বই। যদি আপনাদের ভালো লাগে, আগামী দিনে এই সিরিজের বাকি বইগুলি প্রকাশিত হবে।
আগেই বলেছি আমি পক্ষীবিদ নই। তাই এই বইতে দেওয়া তথ্যের জন্য নানা বই (বিশেষ করে তালিকা নির্মাণে বিক্রম গ্রেওয়াল স্যরের Birds of India) এবং একাধিক ওয়েবসাইটের সাহায্য নিয়েছি। ছবি আঁকার রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করেছি ইন্টারনেট থেকে পাওয়া নানা ছবি। যে সমস্ত ফোটোগ্রাফার সেই ছবি তুলেছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে রইল অসীম কৃতজ্ঞতা। এই কাজ করার সময় নিরন্তর উৎসাহ যুগিয়েছেন যেসব অদেখা ফেসবুক বন্ধু, তাঁদের জন্য রইল শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা। সঙ্গে বিশেষ উল্লেখ্য আমার মায়ের কথা, যিনি অসুস্থ বাবার সেবার সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে আমাকে সুযোগ করে দিয়েছেন ছবি আঁকা ও লেখার।
‘লাস্ট বাট নট দ্য লিস্ট’, যাঁদের উদ্যোগ ছাড়া এই বই ভূমিষ্ঠ হত না, সেই সৃষ্টিসুখ প্রকাশনের সকল সদস্যের জন্যে রইল আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।
আসুন, চিনে নিই ভারতীয় উপমহাদেশের ২০০ পাখিকে। এদের কেউ আবাসিক, কেউ পরিযায়ী, কেউ কেউ আবার ‘ভ্যাগরান্ট’।
ধন্যবাদান্তে
প্রতিম দাস
শীতকাল এলেই কীরকম একটা বিষণ্ণতা ছেয়ে বসে হৃদয়ে। রেশমকীটদের গুটিতে প্রবেশ করার সময়। সরীসৃপগুলি তখন ঘুমে মগ্ন। চারটে আলু ফুলকপি আর বীট-গাজর। ব্যস, এই নিয়ে রাজত্ব করতে নেমে পড়ি। পৃথিবী ধূসর, মানুষ রঙিন। কিন্তু বাইরের তো কোনও রংই নেই। তাই জ্যাকেট, সোয়েটার, পুলওভার আর মিঙ্ক কোটের রঙে ভুবন ভোলানো।
কিছু কিছু ঘরে, পেটের আগুনের থেকে রাতের আগুন মেটানো দায় হয়ে ওঠে। তখন ঘরের ছাওয়া, খড়কুটো, শুকনো পাতায় টান পড়ে। আর পড়ে অক্সিজেনে। এক একটা রাতে ঘরের আশ্রয় ছেড়ে খেতের আলে জমি আগলানোর জন্য বসে থাকে সময়। কাঠকুটোর আগুন তখন পেটের আগুনের থেকে জোরে জ্বলতে থাকে। অন্ধকারে একটানা ঝিঁঝির আওয়াজ, জোনাকির নেবা-জ্বলা আর তার কিছু দূরে দূরে জ্বলতে থাকা কিছুমিছু চোখ।
নেভে না কখনও। দিনের আলোয় তারা লুকিয়ে থাকে, রাতের বেলায় তারা জায়গা নিয়ে নেয় আপন আপন। নখ দাঁত, খরখরে জিভ, করাতের ধার। এক এক জীবন এভাবেও বেঁচে নেওয়া যায়।
শীতকাল এলেই কেমন ফুরফুরে জীবন ঘনীভূত হয়ে আসে। কিছুমিছু সময়, ঘড়ির কাঁটা যার বরফের চৌহদ্দিতে আটকে আছে, রাজার বেশে এসে হাজির হয়।
শীতকালের রং লাল হয়। লাল, ধূসর দিয়ে যাকে ঢেকে রাখার চেষ্টা করে প্রকৃতি। ঠিক যেভাবে গৃহস্থের সুমুদ্দি মেয়েটাকে আগলে আগলে রাখে। ঠিক যেভাবে অনমনীয় রাগ আগলে রাখে হাসি দিয়ে। অথচ এই লাল বুক বুকের ভিতর ছুঁয়ে ছড়িয়ে ছড়িয়ে যায় শিরায় উপশিরায়। বড়ই পবিত্র সে রং, মনের কালো মুছে দিয়ে দিয়ে সাহস জোগায়। দিন গোনে, মাস-বছরের হিসেবে।
দিন গোনে আর দিন ফিরে ফিরে আসে, ছোট্ট হলেও ফিরে ফিরে আসে। শীতকাল এলেই আমার ঝরনার কথা মনে পড়ে। জলোচ্ছ্বাসের শব্দতে শান দিই। বেশি নয়, মাস দুয়েক বা তার কিছু এদিক ওদিক। সূর্যের আলোর সঙ্গে সঙ্গে সে আছড়ে পড়ে আগুনের বুকে। জলরঙা আগুন তখন মিশে যায় রন্ধ্রে রন্ধ্রে। টাটকা তাজা লাল রঙের অন্ধকারে!
]]>
অপেক্ষা আর অপেক্ষা। আগে আগে উৎকণ্ঠা হত খুব। আজকাল অন্যভাবে ভাবি।
এক-একটা খবর, এক-একটা চিঠি… আলাদা আলাদা সব গন্ধ নিয়ে আসে! এই যেমন ঠাম্মার লেখা চিঠি আমাকে… যেন গতজন্মের… ওই কাগজে নাক ডোবালেই ক্ষীর-কমলার গন্ধ আর জবাকুসুম তেল আর চার্মিস ক্রিম। দিদুর লেখা ছেঁড়া ডায়রির ভাঁজে ভাঁজে বসন্তমালতী আর সন্ধেবেলা গা ধোয়ার পর পাটভাঙা শাড়ি। মায়ের পোস্টকার্ডে অঙ্ক বইয়ের গন্ধ। বাবার হাতের লেখায় কেমিক্যাল রিএজেন্ট। ছোটবেলার বন্ধুদের যে ক-টা চিঠি… সব কটাতেই কাটা ফলের গন্ধ, আমার টিফিনবেলার। অনেক অনেক দিন পর রুখু মাটিতে বৃষ্টি নামা। চলে যাওয়াতে সমুদ্রের লোনা বাতাস, ভালোবাসাতে জুঁই-বকুল আর অভিমানে অনেক দূর থেকে ভেসে আসা সদ্য-ফোটা চাঁপাফুল।
আর প্রেমপত্রে? কাগজপোড়া ছাইয়ের! আমার প্রাণপণে ভুলে থাকার গন্ধ।
কিন্তু অপেক্ষা হল গন্ধহীন। কাগজফুলের মতো। বাগান আলো করে থাকে। সীমারেখা নির্ধারণ করে।
আমি ছবির বোদ্ধা বা আলোচক নই, তাই ছবির ব্যাপারে কোনও মত হয়তো আমার দেওয়া সাজে না। ছবিগুলি দৃষ্টিনন্দন, তাতে মুগ্ধ হয়েছি — আর পাঁচজনের মতো এটাই বলতে পারি।
বরং কবিতা বুঝি, লিখিও। তাই শব্দকার ঈশানী রায়চৌধুরীকে ধন্যবাদ, বহুদিন পর বাংলা পংক্তিতে আবার সহজ, অপ্রত্যাশিত ছন্দ পেলাম। এখন কবিতায় ‘এক্সপেরিমেন্ট’-এর ঠ্যালায়, বক্তব্যের গুরুত্বের চাপে কোথাও যেন ‘কাব্য’ হারিয়ে যায়। শব্দেরা ভেঙেচুরে অনেক কিছু বলে ঠিকই, কিন্তু তা কবিতা নয়। ঈশানী রায়চৌধুরীর শব্দগুলি ফিরে যায় কবিতার গোড়ার কথায় — ক্ষণ-যাপন।
অনুভূতি, রঙেরা ফুটে ওঠে শব্দ জুড়ে।
সৃষ্টিসুখকে ধন্যবাদ, এই বই প্রকাশের জন্য। আজ কিনে এনে মাত্র এক সন্ধেয় শেষ করলাম বইটি।
এমন প্রোজেক্ট আরও হোক বাংলায়।
— শুভঙ্কর ঘোষ রায়চৌধুরী