প্রচ্ছদ – দেবাশীষ সাহা
]]>প্রচ্ছদ - পার্থপ্রতিম দাস
]]>প্রচ্ছদ - পার্থপ্রতিম দাস
]]>অর্পণ পালের বিজ্ঞানচর্চার সেকাল একাল-এর ভূমিকাতে বইটা সম্পর্কে বিজ্ঞানী এবং লেখক কৌশিক মজুমদার এমনটাই বলেছেন।
]]>যে তেরোজন কবিকে নিয়ে এ বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে–
মণীন্দ্র গুপ্ত
শম্ভুনাথ চট্টোপাধ্যায়
রঞ্জিত সিংহ
স্বদেশ সেন
দেবীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়
নারায়ণ মুখোপাধ্যায়
সুশীল ভৌমিক
উৎপলকুমার বসু
মঞ্জুষ দাশগুপ্ত
ভাস্কর চক্রবর্তী
কমল চক্রবর্তী
শ্যামল সিংহ
বীতশোক ভট্টাচার্য
না প্রশ্নগুলো সোজা, না উত্তরটি জানা। তবে প্রশ্ন যতই ঘোরালো হোক না কেন, উত্তর জানতে ঘুরেফিরে অবধারিত গন্তব্য – দেমু। পোশাকি নাম দেবাশিস মুখোপাধ্যায়। কিন্তু সহকর্মী, সহলেখক থেকে অনুজ সাহিত্যানুরাগী সকলের কাছেই তিনি এক এবং অদ্বিতীয় দেমু। যা কিছু না-জানা, যা কিছু স্বল্পচর্চিত, যা-কিছু এই সময়ের দৃষ্টির বাইরে চলে যেতে বসেছে, সেই সবকিছুকেই পরম যত্নে সংগ্রহ করে আধুনিক প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে নিরলস তিনি। অনর্থক সংশয়-দ্বিধার জাল যাতে পড়া ও জানার আনন্দকে এতটুকু ক্ষুণ্ণ না করে, তাই যাবতীয় মিথ ও মিথ্যের নেপথ্যের সত্যিগুলোকে উজ্জ্বল উদ্ধারে রত দেমু। বিষয় থেকে বিষয়ান্তরে তাঁর অবাধ গতায়াত। আর তেমনই তাঁর জানার ও জানানোর ব্যাপ্তি এবং গভীরতা। শিক্ষিত বাঙালির যে বহুমুখী বিদ্যাচর্চার ধারা, দেমু নিজে যেমন তার সার্থক উত্তরাধিকারী, তেমনই উত্তরসূরিকেও তিনি এই ধারার শামিল করে নিতে চান। তাই নিজের ভাঁড়ারের দরজা খুলে দিতে তিনি কসুর করেন না। ‘দেমু’র নানারকম’ আসলে আলোকিত এক ভুবন, যেখানে সত্যজিৎ থেকে বাংলার সেকালের খেলাধুলো, ভাইফোঁটার খাজা থেকে জগদ্ধাত্রীর শোলার সাজ সবই আছে, না-জানাকে জানার আনন্দ ও উদ্ভাস নিয়ে।
.
দেমু’র নানারকম
দেবাশিস মুখোপাধ্যায়
নিবন্ধ সংকলন
প্রচ্ছদ – দেবাশীষ দেব
অমূল্য
সৃষ্টিসুখ প্রকাশন
]]>তেত্রিশটি ক্ষুদ্র অধ্যায়ে বিন্যস্ত এই সংক্ষিপ্ত অথচ নির্ভরযোগ্য বিবরণ সম্বলিত এই বই সুধীসমাজের বিশেষ মনোযোগ, অনুশীলন ও অনুধাবনের দাবি রাখে । গঙ্গারতীরে তিনটি গ্রাম কলিকাতা, সুতানুটি ও গোবিন্দপুর । কলিচুন ও কাতাদড়ির উৎপাদন ও বিপননের কেন্দ্র হিসেবেই সংশ্লিষ্ট গ্রামটির নাম ‘কলিকাতা’ হয় বলে এক জনশ্রুতি আছে । জব চার্নকের আগমন, ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের সূচনা, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবসা বাণিজ্যের সহায়ক শ্রেণি হিসেবে ‘বেনিয়ান’ সম্প্রদায়ের উত্তর কলকাতার বিকাশের ইতিহাসের উপাদান । এই বেনিয়ান সম্প্রদায়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর যার অধস্তন পুরুষেরা (রবীন্দ্রনাথ-সহ) বাংলা তথা ভারতের সাংস্কৃতিক জাগরণে ঋত্বিকের কাজ করেছন ।
কলকাতার এই বিকাশ পর্বে এসেছে সমাজের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আন্দোলন । রাজা রামমোহন রায়ের সতীদাহ প্রথা রদের প্রয়াস, মহাত্মা ডেভিড হেয়ার, ড্রিংকোয়াটার বেথুন, ভিভিয়ান লুই ডেরোজিওর জনশিক্ষা ও স্ত্রী-শিক্ষা প্রসারের প্রয়াস – সমকালীন সমাজে তাদের বিরূদ্ধে প্রতিকুলতার অশুভ প্রয়াস বইটির আলোচ্য বিষয় । বাংলা সাহিত্যের বিকাশপর্ব, গদ্য সাহিত্যের গোড়াপত্তন, মানবতাবাদী, সমন্বয়ধর্মী ধর্মমতাদর্শের প্রসারে বঙ্কিমচন্দ্র থেকে রবীন্দ্রনাথ, রামমোহন থেকে বিবেকানন্দ এই ইতিবৃত্তের উপাদান । পাশাপাশি নাট্য-আন্দোলনের ভিতর অর্থাৎ প্রতিবাদী নাটক ও প্রহসনের মারফৎ সমাজ চেতনা জাগরণের প্রয়াসও এই সময় হয় এবং কলকাতায় নাট্যশালা প্রতিষ্ঠিত হয় । রামনারায়ণ তর্করত্নের ‘কুলীকুল সর্বস্ব’, দীনবন্ধু মিত্রের ‘জামাই বারিক’, মাইকেল মধুসুদন দত্তের ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ প্রভৃতি নাটক সমজকে তীব্র কশাঘাত করে ।দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ নাটক রাজদ্রোহকে প্রেরণা দেয় । নাট্যমঞ্চ প্রতিবাদের মঞ্চ হয় এবং পরিনামে সমাজ সংস্কারের সহায়ক । সেই সঙ্গে সিপাহী বিদ্রোহের উৎপত্তিস্থল হিসেবে কলকাতা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বনিয়াদ টলিয়ে দেওয়ার সূচনা করে । বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের ভিতর দিয়ে ভারতবর্ষ জুড়ে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী জাতীয়তাবাদী চেতনা উদ্দিপনের আঁতুরঘরও হয়েছিল এই কলকাতা । ভারতের গণজাগরণের এই ইতিবৃত্ত ও তার পরম্পরাকে বর্তম্ন প্রজন্মের সামনে হাজির করা প্রয়োজন । কারণ আজকের সংবাদমাধ্যম ও জনমত গঠনের অন্যান্য হাতিয়ার এ সবের সহায়ক নয় । সুতীর্থ দাশের বইটি এই উদ্দেশ্য সাধনে সাধনে সহায়ক হবে।
এরপর পদার্পণ কাজের পৃথিবীতে। সেখানেও নানা চেনা ছকের বিরুদ্ধে নিরন্তর লড়াই। সেখানেও সমান অধিকারের জন্যে সংগ্রাম। এবং অবশেষে প্রতিষ্ঠা। অর্থনৈতিক নিরাপত্তাই যে স্বাধীনতার কবচকুণ্ডল, সেই উপলব্ধিতে ক্রমশ পৌঁছতে পারেন পাঠক। এ বইতে বিধৃত হয়েছে এমন সব কিছু অভিজ্ঞতা যা জানিয়ে দিচ্ছে, কোন কোন প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে একজন নারীকে এগোতে হয় সাফল্যের দিকে। সেইসব সত্য অস্বস্তির হলেও, অস্বীকারের নয়। বরং এই খোলাখুলি স্বীকারেই বিস্তৃত হয় প্রতিবাদের আকাশ। এ বইতে তাই অভিজ্ঞতার ঝাঁপি উজাড় করে দিয়েছেন সত্যবতী গিরি, সুমিতা চক্রবর্তী, তৃপ্তি সান্ত্রা, বল্লরী সেন, যশোধরা রায়চৌধুরী, সফিউন্নিসা, তন্বী হালদার, তৃষ্ণা বসাক, পাপিয়া ভট্টাচার্য, শাশ্বতী নন্দী প্রমুখ লেখকরা। মেয়েবেলা ও কর্মজীবন– এই দুই পর্বে বিন্যস্ত এই ‘প্রমীলা পুরাণ’ আক্ষরিক অর্থেই এ সমাজের অন্তর-পুরাণ।
বইটি সম্পর্কে ‘এই সময়’ দৈনিকে প্রকাশিত আলোচনা –
