উলটোপালটা // শিবশংকর ভট্টাচার্য

বাবার আবার বদলি হল। চিঠি পেয়ে কাদুপিসি তো রেগেই অস্থির। হাতের কাছে আর কাউকে না পেয়ে আমাকেই চেপে ধরল – “হ্যাঁ রে! তোদের বাবা কীসের চাকরি করে যে হপ্তায় হপ্তায় বদলি হতে হয়?” খুব রাগ হল! আমি জানব কোত্থেকে? আমার এমনিতেই অঙ্ক-টঙ্ক হয় না বলে মাথার চুল খাড়া হয়ে থাকে, বুদ্ধি নাকি কম! তার ওপর পাঁচ ক্লাসেই তিনবার ইস্কুল বদল করতে হয়েছে।
মা-র অবাক হবার কিছু ছিল না, আমাদেরও না, হলামও না। অমন বদলি অনেক দেখা আছে। বাকসো-প্যাঁটরা তো চট দিয়ে ঘিরে বাঁধাই থাকে, গোছাবার মধ্যে ক-টা থালাবাসন আর বিছানা আর আমাদের বইপত্তর। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে বাঁধা হয়ে গেল। এবেলা ওবেলা খাওয়া হবে কলাপাতায়, ব্যস। শুধু আবার করে নতুন ইস্কুলে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হতে পারে বলে আমাদের চার ভাইবোনের যা একটু মনখারাপ। বাবলির অবশ্য সবটাতেই খুশি থাকা অভ্যেস, ওর হাসি শুনে কাদুপিসি মুখ গোমড়া করে বলল, রেলের চাকুরে ও অনেক দেখেছে, এরকম চাকা লাগানো ব্যাপার আর একটিও দেখেনি।
মা শুধু একটা ব্যাপারেই একটু মুষড়ে রইলেন। যাবার সময় বাবা থাকতে পারছেন না। তবে মালপত্তর গাড়িতে তুলে আবার জায়গামতো নামিয়ে নেওয়ারও লোকজন থাকবে। আমরা শুধু বাড়ি থেকে দু-পা হেঁটে রেলের কামরায় গিয়ে বসব, ব্যস। রাতের গাড়ি, তাছাড়া জঙ্গুলে পথে ঘণ্টাছয়েক যেতে হবে বলে মা একটু গাঁইগুঁই করে অগত্যা রাজি হলেন।
কাদুপিসি কাজে জবাব দিয়ে ওর মেয়ের বাড়ি চলে গেল আর সব বারের মতো। মাঝরাত্তির নাগাদ পৌঁছে গেলাম সেখানে। টিমটিমে বাতি জ্বলা ছোট্ট স্টেশন। যথারীতি এখানেও বাবা আসতে পারেননি কাজ পড়ে গেছে বলে। তবে লোকজনের ব্যবস্থা করা ছিল যথেষ্ট। তারাই লোকেদের মাথায় করে মালপত্তর সমেত আমাদের দুটো ঘোড়ার গাড়িতে তুলে রওনা করিয়ে দিল। ঘুমচোখে চারদিক নজর করে একটু থমকে গেলাম, এ রকম জঙ্গুলে জায়গায় আর থাকা হয়নি বাপু! থাকবার বাড়ি নাকি স্টেশন থেকে একটু তফাতে।
বেশ খানিকক্ষণ ঘোড়ার গাড়িতে লটরপটর করতে করতে যখন সেখানে পৌঁছলাম তখন রাত গভীর। অন্ধকারে কিছুই দেখতে পাচ্ছি না, হঠাৎ কোত্থেকে লম্ফ হাতে তিন-চারজন লোক এসে হাজির। তারা বেশ কাজের। আধঘণ্টার মধ্যে সব মালপত্তর গুছিয়ে খাবারদাবার, বিছানা করা সব সেরে তারা চলে গেল। আমরাও পেটভরে খাওয়াদাওয়া করে মেঝেতে পাতা বিছানায় শুয়ে ঘুম। দু-তিনবার বাড়ির পাশেই শেয়াল-টেয়াল ডাকলেও দু-চোখ খুলে রাখতে পারলাম না। তাছাড়া এদের রান্নাটাও বলতে নেই, জব্বর। একঘুমে রাত কাবার।

সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ জুড়িয়ে গেল। কী সুন্দর জায়গা রে বাবা! চারদিকে ঘন জঙ্গল, মাঝখানে ছোট মতো একটা টিলার ওপরে পুরনো ঢং-এর আদ্যিকালের সাহেবি বাংলো। রাস্তা থেকে বাড়িতে যাবার পথে ঘেসো জমির ঢালে ধাপে ধাপে পাথর বসানো, সিঁড়ির চেয়ে ঢের ভালো। মাথার ওপর টালির চাল, রান্নাঘরে চিমনি, চারদিক ঘিরে চওড়া বারান্দা। ঠিক যেমন বিলিতি ছবির বইতে থাকে, সেরকম। সবচাইতে ভালো হল আশপাশে আর কোনও ঘরবাড়ি নেই, অন্তত আমাদের চোখে তো পড়ল না। শুধু কাল রাতে যে পথে স্টেশন থেকে এসেছি, সেই পাথর বাঁধানো রাস্তা বাড়ি থেকে আরও একটু এগিয়ে ঘন বেঘো জঙ্গলের মাঝে বাঁক নিয়ে চলে গেছে। কোথায় গেছে কে জানে!

 

চাদ্দিকে জঙ্গল দেখে মা একটু কিন্তু-কিন্তু করায় দাদা খুব বিজ্ঞ মানুষের মতো বলল, “হিমালয়ের তলাকার তরাই অঞ্চলটা নাকি এরকমই হয়।” মা শুধু বললেন, “তোর বাবার কাণ্ডটা দেখলি? লোকজনের ব্যবস্থা করলেই সব হয়ে গেল? পাঁচদিন হল, দেখা নেই! এখন বাজার করাই কাকে দিয়ে? যা স্টেশনের ছিরি দেখলাম বাজার বসে বলে তো মনে হল না, খাব কী?” …বলতে না বলতে একজন কালোকুলো লোক মাটির একটা হাঁড়ি হাতে বারান্দায় উঠে এলেন, পেছনে আর একটা লোকের মাথায় ঝুড়িভর্তি তরি-তরকারি, মাছ-টাছ। হাঁড়ি মেঝেতে নামিয়ে শালপাতার ঢাকনা খুলতেই ভুর ভুর করতে লাগল নলেনগুড়ের গন্ধ। একগাল হেসে কপালে জোড়হাত ঠেকিয়ে সিঁড়িতে বসলেন তিনি। গলার আওয়াজ বড়ই মোলায়েম।
“কিছু ভাববেন না মা জননী, বাবু সব পাঠিয়ে দিলেন। এই সকালের গাড়িতেই কাজে গেলেন কিনা! দু-চারদিন বাদে বাড়ি ফিরবেন। কোনও অসুবিধে হলে আমি ছিচরণে হাজির। ওরে দাঁড়িয়ে রইলি কেন, বাজারটা দিয়ে আয় ভেতরে। হাঁড়িতে টাটকা নলেন গুড়ের সন্দেশ, খেয়ে দেখুন মা।”
লোকটি চলে যাবার পর মা-র হাঁ-মুখ বন্ধ হল। আমরাও পায়ে পায়ে এসে দাঁড়ালাম।
সক্কালবেলায় বারান্দার টেবিলে চা জলখাবার দিয়ে কে যে ঘুম ভাঙিয়েছিল আগে বুঝিনি। এখন একজনকে দেখলাম ঘোমটা মাথায় মা-র কাছে কী রান্না হবে জানতে এল। পরে মা বললেন, “ওর নাম এলোকেশী, তোরা মাসি বলে ডাকবি। তোদের কাদুপিসির চাইতে কম নয়। চমৎকার রান্নার হাত।” বাবলি বলল, “কিন্তু ওর বড্ড উঁচু দাঁত আর গুলি গুলি চোখ কেন?” দিদি বলল, “ছি, অমন বলতে নেই! আমাদের কাদুপিসিকে কী এমন ভালো দেখতে?”
একটু পরে মা গেলেন রান্নাঘরে, আমরা গেলাম বন দেখতে। বাড়ির পেছনেই ঝোপঝাড় আর বড়বড় পাথরের আড়ালে প্রায় শুকিয়ে যাওয়া একটা নদীর খাত আছে বুঝতেই পারিনি। পাথরের আড়ালে একটা ছোট নৌকো উলটে পড়ে আছে। দিদি বলল, “বোধ হয় নৌকোর তলায় আলকাতরা মাখিয়ে শুকোতে দিয়েছে কেউ।” দাদা বলল, “নদীতে জল বাড়লে চড়া যাবে, হাঁটুজলের বেশি জল নেই নদীতে।” একটু এগোতেই দেখি পুরনো একটা রেলপুল। তার মানে পাশেই রেল যাবার আর একটা রাস্তা আছে। পাথর-টাথর ডিঙিয়ে জলের কাছে গিয়ে বসলাম। কী যে সুন্দর লাগল, বলবার নয়! দিদি হঠাৎ বালির ওপর কী সব দাগ দেখতে পেয়ে বলল, “বাঘের থাবার ছাপ নয়তো?” দাদা বকল ওকে, “বাঘ না তোর মুণ্ডু! লোকালয়ের এত কাছে ওরা আসে-টাসে না।”
তিরতির করে স্রোত বইছে, তলায় সাদা বালির ওপর রংবেরং-এর কত যে পাথর! সবজে-নীল শ্যাওলা স্রোতের সাথে সাথে দুলছে। তার ফাঁকে ফাঁকে ছোটছোট মাছেরা খেলা করছে। সব মিলিয়ে ভারী চমৎকার জায়গা।
পাথরের ওপর বসে জলে ছোটছোট নুড়ি ফেলতে ফেলতে দাদা চুপিচুপি বলল, “এখানে স্কুল-টুল বোধ হয় নেই রে। যাক ঝামেলা নেই।”

অমনি বন থেকে একদল ছেলেমেয়ে বের হয়ে এসে নদীর সোঁতা পেরিয়ে ওপারে কোথায় যেন চলল। তাদের পিঠে বইয়ের ব্যাগ, বেজায় তাড়া তাদের পায়ে। ওপারের বনের মাঝে কোত্থেকে আবার যেন রেলগাড়ির হুইসলের শব্দও কানে এল। দিদি থতমত খেয়ে বলল, “নাঃ! অংক-টংকগুলো করতে হবে মন দিয়ে, বাড়ি চল।”
সোজা পথে না ফিরে রেলপুলের এপারে ন্যারোগেজ লাইনটা ডানদিকে বাঁক নিয়ে ঢুকে গেছে; বনের ভেতর সেই পথ ধরলাম। বনবাদাড়ে আধঘণ্টাটাক হাঁটতেই বাড়ি ফেরার রাস্তা পাওয়া গেল। দিদির আবার গন্ধ বাতিক। নাক উঁচু করে চোখ বুজিয়ে ফিসফিস করছিল, “চিড়িয়াখানার গন্ধ পাচ্ছি রে!”
পা চালিয়ে দশ মিনিটে বাড়ি। মা-র সাথে খুব জমে গেছে নতুনমাসির। আমাদের দেখে একচোট বকে-টকে মা পড়তে বসতে বললেন। কিছুক্ষণ আগেই নাকি এক সাহেব এসে আমাদের খোঁজখবর করছিলেন, দুপুরে আবার পড়াতে আসবেন। মাসি তাঁকে ‘ফাদারবাবা’ বলে ডাকে। ওঁর ইস্কুলেই পড়ব আমরা এখন থেকে। মা একটু গম্ভীরভাবে বললেন, “তোদের বাবা এলে বলব আর বদলি-টদলি হলেও এখানেই থেকে যাব আমরা। এত ভালো জায়গায় জন্মে অবধি থাকা হয়নি! ফাদারবাবার ইস্কুলে নাকি ভর্তি পরীক্ষাও নেই।” আমাদের আর পায় কে!
রান্না-টান্না শেষ। ভুরভুর করে তার সুগন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এলোকেশীমাসি মায়ের মাথায় তেল মাখাতে বসল। আরামে মায়ের দু-চোখ বোজানো, মুখে হাসি।
বড় ভালো লোক ফাদার। কথা বলে মনেই হল না, অত বুড়ো। এদিকে রোগা, কোলকুঁজো, পাকা চুলদাড়ি আর বেজায় ঢ্যাঙা। এসেই বলে, “আমার নাম জন, তোরা যা খুশি ডাকতে পারিস।” দিদি বলল, “মাসি তো ফাদারবাবা বলে ডাকে তোমায়!” কী হাসি শুনে। বলে, “দূর, ফাদারও যা বাবাও তা। বলুক গে, তোদের যা ইচ্ছে বলবি।” দাদা বলল, “স্কুল কোথায় আমরা জানি।” ফাদার অবাক। “কোথায়?” সকালে নদী পেরিয়ে পোড়োদের যেতে দেখেছি বলায় একগাল হেসে বলল, “সে তো আজ সকালে ওখানে ছিল স্কুল। কাল বসবে অন্য জায়গায়।”
আমরা অবাক! ইস্কুল বুঝি চলেফিরে বেড়ায়? শুনে ফাদার আরও অবাক। “ঘরের মধ্যে হয় নাকি পড়াশুনো? দম আটকে মরব যে! খোলা চোখে খোলা হাওয়ায় চলে ফিরে বেড়ালে তবেই তো মন খোলে রে। মন না খুললে আবার পড়াশুনো কী?”

শুনে-টুনে তাক লেগে গেল। বাবলির তো স্কুলের মুখ দেখা হয়নি এখনও, সবে ক-দিন হল কথা ফুটেছে। মুখে আঙুল দিয়ে খানিকক্ষণ ফাদারকে দেখে কী বুঝল কে জানে, সটান উঠল গিয়ে ফাদারের কোলে। ওকে ঘাড়ে বসিয়ে সে কী ঠ্যাঙঠেঙি নাচ বুড়োর! সারা দুপুর এই করেই কাটল আমাদের। বাড়ির পেছনদিকে নদীর ধারে একটা পাথরে বসে জলে পা ডোবালেন ফাদার। আমরাও এক-একটা পাথরে বসে পড়তেই আজব কাণ্ড! কী করে খবর পেল কে জানে, ঝোপঝাড়ের আড়াল থেকে ছেলেমেয়ের দল জুটে গেল চারপাশে। তার মানে বনের আড়ালে ঘরবাড়ি আছে। ফাদার কিছু না বলতেই বালির ওপর কাঠি দিয়ে কেউ আঁক কষছে, কেউ ছবি আঁকছে, কবিতা লিখছে কেউ। নাচগানও করতে লাগল কেউ কেউ। ক-জনের সঙ্গে আলাপও হয়ে গেল আমাদের। বিকেল হতে ফাদার উঠে বললেন, “কাল সকালে ঝর্নার ধারে স্কুল বসবে।” বিদায়-টিদায় নিয়ে ফাদার চলে যেতেই সব শুনশান। শুধু একটা ছেলে আমাদের সাথে কিছুক্ষণ থেকে বলে গেল সকালে ডাকতে আসবে। ওর নাম গুনো। নদীর আরেকটু ভাঁটির দিকে ওর বাড়ি।
সবাই চলে যাবার পর দাদা একটু কিন্তু-কিন্তু ভাব করে বলল, “হঠাৎ কোত্থেকে ছেলেমেয়েগুলো এল বল তো?” দিদি বলল, “ফাদারের সাথে বলা কওয়া ছিল নিশ্চয়।” দাদার ভুরু তবু কুঁচকে রইল।
দু-দিনেই আমাদের বন্ধু জুটে গেল অনেক। গুনো তো ছিলই; দুলু, হামু, শিমু, ধানি, রুমুদের সাথেও গলায় গলায় বন্ধুত্ব হল। ফাদার কত কী যে শেখালেন, আমার খাড়া চুল আর খাড়া রইল না। তেলমাখা বাঁশে বাঁদর ওঠানামা বা চৌবাচ্চার নল দিয়ে জল পড়ে যাবার অঙ্কও মনে হচ্ছে জলভাত। দাদা আর দিদি তো মহাপণ্ডিত হয়ে উঠল দু-দিনেই। বাবলি পর্যন্ত আধো আধো গলায় রাইম বলতে শিখে গেল। মা তো বেজায় খুশি। সকাল বিকেল গুনো-হামুদের মায়েদের বাড়িতে আসা-যাওয়া লেগেই রইল। ফাদারকে মা নেমন্তন্ন খাওয়ালেন। নদী থেকে গামছা দিয়ে চুনোমাছ ধরা শিখিয়ে দিল দুখীরাম বলে একটা বড় ছেলে, তার কড়কড়ে ভাজা দিয়ে ডালভাত খেল বন্ধুরা।

সেদিন সকাল থেকেই আকাশটা থমথমে। স্কুলে আজ শুধু গান গাওয়া হল সারা দুপুর। বাড়ি ফেরার পথে আকাশ কালো করে মেঘ জমতে লাগল। সন্ধে নাগাদ বনের গাছ উথালপাথাল করে ঝড় উঠল। দরজা জানালা বন্ধ করে মায়ের পাশে বসে আছি, এমন সময় কড়-কড়-কড়াৎ করে কাছেই কোথাও বাজ পড়ল, সঙ্গে সঙ্গে আকাশ ভেঙে বৃষ্টি। ঝোড়ো হাওয়ায় সারা বাড়ি যেন কাঁপছে। টালির ওপর শিলাবৃষ্টির বড়বড় শিল পড়ছে। বাতি কখন নিভে গেছে। মাকে জড়িয়ে আমরা চারজন ‘জৈমিনি জৈমিনি’ বলে বাজ আটকাবার মন্ত্র জপছি, এমন সময় বাইরে কারা যেন ছুটতে ছুটতে বাড়ির দিকে উঠে এল। দরজা ধাক্কা দিয়ে আমাদের নাম ধরে ডাকছে কেউ। যেন বাবার গলা শুনলাম মনে হল। ছুটে গিয়ে দরজা খুলতেই বাবা আর আরও চার-পাঁচজন লোক ঘরে ঢুকে এলেন। সবার পেছনে মাথায় গামছা দিয়ে কাদুপিসি। ও থাকলে তো আর কারও কথা বলবার উপায় নেই! ওই ঝড়ের শব্দ ছাপিয়ে চিল চিৎকার করতে লাগল কাদুপিসি।
“হ্যাঁ গা গিন্নিমা, তোমার বরের তো কাণ্ডজ্ঞান ছিল না কোনও কালে। তোমারও কি তাই? ছেলেপুলে নিয়ে কোথায় নামবার কথা, কোথায় নেবে একেবারে হাওয়া! পাঁচদিন ধরে কত থানা-পুলিশ করে তবে কার কাছ থেকে যেন আজ দুপুরে খবর পেয়ে আসছি।”
বাবা মাথা চুলকোতে চুলকোতে পাশের একজনকে দেখিয়ে লজ্জা লজ্জা মুখ করে বললেন, “আমি এদিকে ভুল করে ঘুমচোখে তোমরা মনে করে ওনার পরিবারশুদ্ধু নামিয়ে নিয়ে সে এক মুশকিল। তবে ইনি ভালোমানুষ বলে বুঝতে পেরে আবার তোমাদেরও খুঁজতে এলেন।” হাসছেন লোকটি, “মানে আমি বসে আছি পরের স্টেশনে, ইনি অন্ধকারে বুঝতে না পেরে… হি হি। তবে আপনারা ওই জঙ্গলে নাবলেন কী বলে?” মা কী আর বলবেন!
ভদ্রলোক খুব চিন্তিতভাবে বললেন, “কিছুতেই বুঝতে পারছি না কারা আপনাদের নিয়ে এল। আর এই পোড়ো বাড়িতে পাঁচদিন কাটালেন কী করে?”
মা তো অবাক। “পোড়োবাড়ি?”
“আজ্ঞে হ্যাঁ। গত একশ বছর এ বাড়িতে কারও পা পড়েনি। পুরনো ন্যারোগেজের একটা স্টেশন আগে ছিল বটে, লোকজনও থাকত কিছু। অসুখ করে সব উজাড় হবার পর এখন তো স্টেশনটাও নেই। ভূতের ভয়ে কেউ আসে না এখানে।”
সত্যিই এলোকেশীমাসিকেও কোত্থাও পাওয়া গেল না, বিদ্যুতের আলোয় দেখলাম বাড়িটাও যেন দাঁত বের করে হাসছে।

 


 

সাদায় কালোয়
শিবশংকর ভট্টাচার্য ।। শিশির বিশ্বাস
গল্প সংকলন
হ য ব র ল
মূল্য – ৯৯ টাকা
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ – শিবশংকর ভট্টাচার্য
অনলাইন অর্ডার – সৃষ্টিসুখ, আমাজন
ই-বুক – গুগল প্লে স্টোর
সৃষ্টিসুখ আউটলেট – সৃষ্টিসুখ, ৩০এ সীতারাম ঘোষ স্ট্রিট, কলকাতা – ৯, যোগাযোগ – ৯০৫১২ ০০৪৩৭