About Sristisukh Library

Sristisukh Library is a promotional site for the books published by Sristisukh Prokashan, Sristisukh Print, Ha Ja Ba Ra La and Flying Turtle. Readers can read the selected portion of the books in this site for free.

বাঁশুরিয়া ডাকাতের থান

অরুণাভ দাস

 

গায়ে গায়ে লাগা দশ-বারোটা গ্রাম। তারপর কয়েক মাইল ঘন জঙ্গল। সবাই বলে ফুলতলির জঙ্গল। তারপর চওড়া বালিয়াড়ি। মাঝখানে হাঁটুজল তুরতুরি নদী। বর্ষা-শরতে শুধু বালিয়াড়ি দেখা যায় না, সবটাই নদী। নদীর ওপারে মাঠ, এপার-ওপার দেখাই যায় না। মাঠের শেষে ছোটো শহর, আরও দূরে বড়ো শহর। গ্রামের খুব কম লোক বন পার হয়ে, নদী উজিয়ে, মাঠ ছাড়িয়ে ছোটো শহর ছুঁয়ে বড়ো শহর পৌঁছতে পেরেছে। রাস্তাঘাট দুর্গম নয়, শুধু যেতে অনেক সময় লাগে। সেই জন্য বেশি লোক শহরে যায়নি এমন নয়। আসলে জঙ্গলে সকলের ভয়। ওখানে কজন কুখ্যাত ডাকাত থাকে। অবস্থাটা আস্তে আস্তে বদলাচ্ছে। কাজ করতে, ব্যবসা করতে, পড়াশোনা করতে গ্রাম থেকে আরও বেশি বেশি লোক এখন শহরের দিকে যাচ্ছে। সকলের ভরসা বেড়েছে একজনের জন্য। সেও জীবিত অবস্থায় ডাকাত ছিল। আসল নাম শ্যামলাল। সকলে ভালোবেসে বলে বাঁশুরিয়া ডাকাত। জঙ্গলের ধারে একশ বছরের প্রাচীন গাছতলায় ছিল বাঁশুরিয়া ডাকাতের ঘর। তিনকুলে তার শুধু একটা দাদা ছিল। তাকে দশ-বারো গ্রামের কেউ দেখেনি। শুধু মুখে মুখে গল্প ফিরত, বাঁশুরিয়া ডাকাতের দাদা থাকে বড়ো শহরে। সেও বিখ্যাত ডাকাত। দাদার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই নাকি শ্যামলাল ডাকাত হয়েছে। কিন্তু এখন গভীর জঙ্গলে যেসব ডাকাত থাকে, শ্যামলাল তাদের থেকে আলাদা ছিল। গ্রামের লোক শ্যামলালকে যমের মতো ভয় পেত, আবার ভরসাও করত। বাঁশুরিয়া ডাকাত কবেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছে। সকলের ভয়ও চলে গিয়েছে, শুধু ভরসাটা থেকে গিয়েছে।
বাঁশুরিয়া ডাকাতরা জন্মের কয়েক বছর পরেই অনাথ হয়েছিল। কোনও একটা বড়ো নদীতে ঝড়ের মুখে পড়ে একটা নৌকা উলটে যায়। সেই নৌকায় বাবা-মায়ের সঙ্গে দু ভাইও ছিল। ঝড় থামলে দেখা যায়, অনেক যাত্রীর সঙ্গে বাবা-মায়ের সলিল সমাধি হয়েছে, শুধু দু ভাইকে আধমরা অবস্থায় একটা জেলে-ডিঙিতে তোলা গিয়েছে। যারা উদ্ধার করেছিল, তারা জেলে-মজুর, তারা মালিকের কাছে দুধের ছানাদুটোকে নিয়ে যায়। কিন্তু মালিকের মায়া-দয়া কম ছিল। সে উটকো ঝামেলা নিতে রাজি হয়নি। বাধ্য হয়ে একজন মজুর তাদের নিয়ে গেল। তার কোনও সন্তান ছিল না। নদীর ধারে দুই ভাই বড়ো হয়। একদিন বড়ো ভাই নিরুদ্দেশ হল। তখন তাদের পালনকারী বাবা-মা বুড়ো হয়েছে। বড়ো ছেলেটাকে খুঁজে না পেয়ে তারা মনের দুঃখে একদিন মরেই গেল। শ্যামলালের কিন্তু দাদার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। সে শহরে গিয়ে ডাকাত হয়ে গেল। মাঝে মাঝে রাতের অন্ধকারে ভাইয়ের কাছে আসত। দুটোতে অনেক গল্প হত। তারপর ভোরের আলো ফুটতেই দাদা শহরের পথে রওনা হয়ে যেত। শ্যামলাল বলত, “দাদা রে, আমি জেলে হতে পারব না। মাছের গন্ধে আমার বমি পায়। আমি আর একটু বড়ো হয়ে তোর মতো ডাকাত হব। কিন্তু শহরের যা গল্প শুনেছি, ওখানে গেলে আমি হারিয়ে যাব। তার চেয়ে এখানেই বা আশপাশে কোথাও থাকব। বেশ হবে, দাদা শহুরে ডাকাত আর ভাই গেঁয়ো ডাকাত।”
দু ভাইতে অট্টহাস্য করত খানিকক্ষণ। তারপর শ্যামলাল দাদাকে বাঁশি শোনাতে বসত নদীর ধারে চাঁদের আলোয়। জোয়ারের জল পাড়ে এসে ছলাৎ ছলাৎ করে সেই সুরে তাল মেলাত। পরে ডাকাত হয়েও বাঁশি বাজানোর শখ ছাড়তে পারেনি শ্যামলাল। তাই না তাকে লোকে আজও বলে বাঁশুরিয়া ডাকাত।
আর একটু বড়ো হয়ে শ্যামলাল নদীর ধার ছেড়ে এই জঙ্গলের ধারে এসে ঘাঁটি করল। আসলে পালনকারী বাবা-মা মরে যাবার পর দাদার সঙ্গে তার যোগাযোগ ক্রমে কমে এল। নদীর ধারে পুরোনো এলাকার লোকজন সকলেই তাকে চেনে। তাদেরই স্নেহে, আদরে-আবদারে বড়ো হয়েছে। ওখানে ডাকাতি করে সুবিধা হত না। ডাকাত সর্দারকে চিনে ফেলে কেউ হয়তো বলেই বসত, “আয় শ্যামু, একটু থিতিয়ে বোস। বুড়ো-বুড়ি মরে যাবার পর একটুও যত্ন পাস না। ঠিক মতো খাওয়া হয় না। বড্ড রোগা হয়ে গেছিস। কিছু মুখে দিয়ে রাতটুকু বিশ্রাম কর। ভোরের দিকে ঘরের জিনিস যা হয় ধুয়ে-মুছে নিয়ে সটকান দিস।”
স্নেহ-মমতার ঘরে ডাকাতি করা বড়ো লজ্জার হত। তাই শ্যামলাল ডেরা বদল করল প্রথমেই। দশ-বারো গ্রাম থেকে খানিক তফাতে জঙ্গলের একধারে গা ঘেঁষে পুরোনো বটতলাটা তার মনে ধরল। সেখানেই খোলার চালা দেওয়া মাটির দু কামরা ঘর বানিয়ে ফেলল। একটা ঘরে শ্যামলাল নিজে থাকত, অন্যটায় চ্যালারা। চ্যালাদের বেশিরভাগ ওর ছেলেবেলার খেলার সাথি। নদীর ধারে দিনভর ড্যাং-গুলি আর বাতাবি লেবুর ফুটবল খেলে বড়ো হয়েছে। ডাকাবুকো শ্যামলাল ছেলেবেলায় বিচ্ছুদের দলের সর্দার ছিল, তাই ডাকাত দলের সর্দার হিসেবে তাকেই সবাই মেনে নিল। কিন্তু গোড়া থেকেই শ্যামলালের চেহারা ডাকাতদের মতো ছিল না। ছ ফুট লম্বা, কিন্তু টিংটিঙে রোগা। বড়োসড়ো গোঁফ বানাবার অনেক চেষ্টা করেও সফল হয়নি। নিজেই আয়নায় দেখত আর নিজের ওপরে রেগে উঠত। ভাসা ভাসা চোখ দুটোতে কেমন যেন স্বপ্নের ঘোর আঁকা। তাই ডাকাতি করতে বেরনোর আগে একটা বাজে ঝক্কি পোয়াতে হত। মেক-আপ নিতে হত। প্রথমে নিজেই এটা-ওটা উপাদান কোনও গ্রামের মেলা থেকে জোগাড় করত। কিন্তু তাতে সাজগোজ জুতসই হত না। একবার শহর থেকে একটা যাত্রাদল এসেছিল গ্রামে যাত্রা করতে। অভিনয় শেষ হবার পর সদলবলে শ্যামলাল চড়াও হয় তাদের তাঁবুতে। টাকা-পয়সা, গয়না-গাঁটি কিছুতে হাত দেয়নি, শুধু যাত্রাদলের ইয়া বড়ো মেক-আপের বাক্স ও মেক-আপ ম্যানকে তুলে নিয়ে যায় নিজের ডেরায়। সে বেচারি অনেক কান্নাকাটি করে শেষ পর্যন্ত ডাকাত সর্দারের মেক-আপ ম্যানের চাকরি মেনে নিয়েছিল। সর্দার ডাকাতি করতে বেরনোর আগে সে নিখুঁত গোঁফ লাগিয়ে দিত। মোটা করে ভ্রু এঁকে দিত। কাজল ও আরও কত কী লাগিয়ে চোখ দুটো থেকে স্বপ্ন স্বপ্ন ভাবটা মুছে দিত। কিন্তু সর্দারের সাজপোশাকে সে কখনও হাত দিতে পারেনি। শ্যামলাল চিরকাল ধুতির ওপরে না-পাঞ্জাবি, না-আলখাল্লা ধরনের হাঁটু পর্যন্ত লম্বা একটা পোশাক পরত। সারা বছর তার রং ছিল আকাশি, শুধু বর্ষাকালে ঘন নীল পরত। অন্য কোনও রঙের পোশাকে শ্যামলালকে কোনওদিন কেউ দেখেনি। শুধু ডাকাতি করতে যাবার সময় মাথায় সিঁদুর রঙের পাগড়ি জড়াত আর কোমরে একই রঙের উত্তরীয় পাকিয়ে বাঁধা। সেখানেই ইয়া লম্বা কাতান বাঁধা থাকত। শ্যামলাল ডাকাতের সাহসের অভাব কোনওদিন হয়নি, কিন্তু তলে তলে সে সবসময় খানিকটা সংকুচিত হয়ে থাকত, চেহারার সঙ্গে মেক-আপ মিলল কিনা ভেবে। যাত্রাদলের মেক-আপ ম্যানকে পাওয়ার পর তার মনের অস্বস্তি অনেকটা কেটে যায়।

 

বাঁশুরিয়া ডাকাতের থান

শ্যামলাল ফুলতলির জঙ্গল থেকে খানিক দূরে গা-লাগালাগি দশ-বারো গ্রামে ও আরও দূরের অনেক গ্রামে ডাকাতি করে বেড়াত। তার দাপটে এলাকার পুরোনো ডাকাতরা সদলবলে অন্যত্র চলে গিয়েছিল। শ্যামলাল শুধুমাত্র বড়ো লোকদের ঘরে ডাকাতি করত। সে গরিব ঘরের দুঃখ কষ্টের মধ্যে বড়ো হয়েছিল বলে তাদের কখনও ছুঁত না। অনেকে বলে, তার শহুরে ডাকাত দাদা নাকি এই শিক্ষা দিয়েছিল। সে কখনও শহরের গরিব ঘরে লুঠতরাজ চালায়নি। এই গুণের জন্য গ্রামের গরিব লোকজন শ্যামলালকে ভক্তি করলেও পুরো ভরসা করত এমন নয়। হাজার হোক ডাকাত তো, কোনদিন মতিভ্রম হয়, কে বলতে পারে? কিন্তু প্রত্যেক মাসে পূর্ণিমা তিথি যত কাছে চলে আসত, ততই সকলের ভয়ভীতি কমে যেত। আকাশের বুকে চাঁদটা ক্রমশ বড়ো হতে থাকলে শ্যামলালের মতিগতি সত্যিই বদলে যেত। সন্ধে নামলেই সে বাঁশি নিয়ে বসে পড়ত বটতলায়। মাটির বুক থেকে তুলে আনা কত সুর বাজিয়ে চলত একমনে। সেই সুরের যাদু হাওয়ায় ভেসে ভেসে দশ-বারোটা গ্রাম ছাড়িয়ে আরও অনেক দূরে ছড়িয়ে যেত। পূর্ণিমায় সে সারারাত বসে বসে বাঁশি বাজাত। সেই সুর শুনে বাচ্চা থেকে বুড়ো গ্রামের সকলের বুকে মোচড় দিত অনাগত ভবিষ্যতের স্বপ্ন বা ফেলে আসা ছেলেবেলার স্মৃতি। কী গরিব, কী বড়োলোক — সকলেই পরম ভরসায় ঘুমোতে যেত এই ভেবে যে, আজ আর ঘরে ডাকাত পড়ার ভয় নেই। অনেকে ভালো করে বাঁশি শোনার জন্য সদর দরজা সারারাত হাট করে খুলে রেখে দিত, পূর্ণিমা তিথির আগে-পরের কয়েকটা দিন গায়ে-গায়ে লাগা দশ-বারো গ্রামের কোনও ঘরে কোনওদিন ডাকাত তো দূরের কথা, ছিঁচকে চোর পর্যন্ত ঢোকেনি। সেই থেকে শ্যামলাল ডাকাতের নাম আপনা-আপনি বদলে গেল। সকলেই বলতে শুরু করল, ‘বাঁশুরিয়া ডাকাত’। ক্রমশ বাঁশুরিয়া ডাকাতের প্রতি গ্রামের গরিব লোকের ভরসা বাড়ল। তারা বিশ্বাস করতে শুরু করল যে, বড়োলোকদের বাড়ি ছাড়া বাঁশুরিয়া ডাকাত অন্য কোনও ঘরে ডাকাতি করতে আসবে না। ভয় বদলে গেল ভক্তিতে, যা আরও বাড়ল বাঁশুরিয়া ডাকাত বুড়ো হয়ে মরে যাবার পর। তারও বিশেষ একটা কারণ আছে।
বাঁশুরিয়া ডাকাত মরে যাবার পর তার দল ভেঙে ছত্রখান হয়ে গেল। বাকি চ্যালাদের মধ্যে সর্দার হবার মতো প্রতিভা আর কারোর ছিল না। তারা সবাই পুরোনো আস্তানা ছেড়ে নানা দিকে চলে গেল। যাত্রাদল থেকে বাঁশুরিয়ার সেই তুলে আনা মেক-আপ ম্যান শুধু সর্দারের স্মৃতি আগলে জঙ্গলের ধারে তার কুঁড়ে ঘরে থেকে গেল। সেও একদিন বুড়ো হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল। ক্রমে কুঁড়েঘরটা মাটিতে মিশে গেল। শুধু প্রাচীন বটগাছটা পুরোনো স্মৃতি বুকে করে আগের মতোই দাঁড়িয়ে রইল।
ক্রমশ নতুন নতুন ডাকাত ফুলতলির গভীর জঙ্গলে এসে ঘাঁটি করল। তাদের শরীরে কোনও মায়াদয়া ছিল না। তার গরিব বড়োলোক মানত না। এমনকী জঙ্গল পার হয়ে শহরের দিকে যাওয়া লোকজনদেরও ছাড় দিতে ইচ্ছুক নয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হয় না, বাঁশুরিয়া ডাকাত মরে গিয়ে গরিব মানুষের রক্ষাকর্তার নতুন ভূমিকা নিয়েছে বলে। নতুন ডাকাতরা কোনও গরিব বাড়িতে ঢুকতে গেলে দেখে, একজন লিকলিকে রোগা কিন্তু বনের বড়ো বড়ো গাছের মাথা পর্যন্ত লম্বা ছায়ামানুষ তাদের দিকে তেড়ে আসছে। এমনকী ঘন জঙ্গলের ভেতরে দিনের বেলাতেও গরিব পথিকের পথ আটকাতে গিয়ে ডাকাতরা একই দৃশ্য দেখে ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়। প্রথম প্রথম পথিকরা অবাক হয়ে যেত, ঘটনা কী ঘটছে ভেবে। আসলে, ছায়ামূর্তির তেড়ে আসা শুধু চোর-ডাকাত, খারাপ লোকরাই দেখতে পায়, যারা তাদের শিকার হতে হতে বেঁচে যায়, তারা পায় না। এইভাবে একদল চোখে দেখে ও একদল অন্যের মুখে শুনে স্থির বিশ্বাসে পৌঁছেছে যে, ওই ছায়ামূর্তি আসলে বাঁশুরিয়া ডাকাত। এর ফলে তার প্রতি লোকের ভক্তি শ্রদ্ধা আকাশছোঁয়া হয়েছে। গ্রামের মানুষ সভা বসিয়ে চাঁদা তুলে ফুলতলি জঙ্গলের ধারে যেখানে বাঁশুরিয়া ডাকাতের মাটির বাড়ি ছিল, সেই বটগাছের তলাটায় সুন্দর করে পাকা বেদি বানিয়ে দিয়েছে। বেদির গায়ে বড়ো আকারের একটা বাঁশি খোদাই করে দিয়েছে। এখন সকলে শহরে যাওয়া আসার পথে বাঁশুরিয়া ডাকাতের থানে মাথা ঠেকিয়ে যায়। পথে আর তাদের কোনও বিপদে পড়তে হয় না।
নানা কাজে দশ-বারোটা গা-লাগোয়া গ্রামের লোকের শহরে যাতায়াত বেড়ে যাবার ফলে বাঁশুরিয়া ডাকাতের নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া দাদার সম্পর্কেও নানা রকম খবর পাওয়া যাচ্ছে। যদিও সে ভাইয়ের অনেক আগেই ইহলোকের মায়া ত্যাগ করেছে। সেই দাদাও নাকি ভাইয়ের মতো আদর্শবাদী ডাকাত সর্দার ছিল। কোনওদিন গরিব মানুষের বাড়ি ডাকাতি করেনি। দুর্বল মানুষকে স্পর্শ করেনি। বরং নানা দরকারে তাদের দান-ধ্যান করত। তাই বড়ো শহর কলকাতার লোক সেই ডাকাত সর্দারের স্মৃতিতে তারই কর্মভূমিতে তার নামে একটা বাজার বসিয়েছে। যাদবপুর এলাকার সেই বিখ্যাত বাজারের নাম রামলাল বাজার। রামলাল ও শ্যামলাল মরে গিয়ে দশ-বারোটা গ্রামের লোকের নয়নের মণি হয়ে উঠেছে। প্রায় দু বছর হল, প্রত্যেক পূর্ণিমা তিথিতে ফুলতলি জঙ্গলের ধারে বাঁশুরিয়া ডাকাতের থানকে কেন্দ্র করে একটা মেলা বসে। সবাই বলে ‘দুই ভাইয়ের মেলা’। সেই মেলায় নানা রকম চমৎকার জিনিসের সঙ্গে গরম গুড়ের জিলিপি ও ঝাল ঝাল শুকনো আলুর দম দেদার বিক্রি হয়। লোকে বলে, গুড়ের জিলিপি নাকি বাঁশুরিয়া ডাকাতের প্রিয় ছিল এবং তার দাদা রামলাল আলুর দম খেতে ভালোবাসত। খবরটা সকলেই জানে, কিন্তু তার উৎস কেউ জানে না। শুধু মেলায় সবার খেয়ে ও খাইয়ে তৃপ্তি। মেলায় আগত লোকজন বাঁশুরিয়া ডাকাতের থানে মনস্কামনা পূরণের জন্য বাঁশি রেখে আসে। শোনা যায়, জঙ্গলের দখল নেওয়া নতুন ডাকাতরাও নাকি ছদ্মবেশে থানে বাঁশি রাখতে আসে। কিন্তু বাঁশুরিয়া ডাকাত মায়াদয়াহীন কোনও মানুষের মনস্কামনা পূরণ করেছে, এই খবর আজ পর্যন্ত গা-লাগালাগি দশ-বারোটা গ্রামের কোনও লোকের কাছে নেই।

 


 

Mon Khushir Colaj
A Story Collection by Arunava Das
ISBN 978-1-63415-894-7

Online available at https://sristisukh.com/ss_wp/product/মন-খুশির-কোলাজ/

প্রথম সংস্করণঃ ডিসেম্বর, ২০১৫
হ য ব র ল-র পক্ষে হাল্যান, বাগনান, হাওড়া ৭১১৩১২
থেকে রোহণ কুদ্দুস কর্তৃক প্রকাশিত

© অর্কদীপ দাস, ২০১৫
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রচ্ছদ ও অলংকরণঃ সুমিত রায়
মূল্যঃ ৯৯ টাকা (ভারতীয় মুদ্রা) / ৯.৯৯ আমেরিকান ডলার

মুদ্রক – সৃষ্টিসুখ প্রিন্ট (www.sristisukhprint.com)
হ য ব র ল-র বইয়ের আউটলেট – ৩০এ সীতারাম ঘোষ স্ট্রিট, কলকাতা ৭০০০০৯
যোগাযোগ – ৯০৫১২ ০০৪৩৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *