About Sristisukh Library

Sristisukh Library is a promotional site for the books published by Sristisukh Prokashan, Sristisukh Print, Ha Ja Ba Ra La and Flying Turtle. Readers can read the selected portion of the books in this site for free.

সুজনকথা

সুজন দাশগুপ্ত

 

ক্লাস এইটে পড়ি। থাকি সাউথ এন্ড পার্কে, বাবা-মা, দাদা আর আমি। সকালবেলা কোত্থেকে একটা ফর্সা রঙের পুঁচকে মেয়ে দরজা খোলা দেখে সোজা বাড়িতে ঢুকে আলমারি-ভর্তি বই দেখে মন্তব্য করল, “ইসসস তোমাদের বাড়িতে কত্ত বই।”
একমাথা ঘন কোঁকড়া চুল, কপাল বিন্দু বিন্দু ঘাম। পরে জেনেছি দোতালায় যিনি থাকতেন, তাঁরই কোনও আত্মীয়র মেয়ে।
মা জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি বই পড়তে ভালোবাসো?”
“হ্যাঁ।”
“বেশ তো, নাও না।” মা আলমারি খুলে দিলেন।
এইভাবে হুট করে মেয়েটার ঘরে ঢোকা আর মায়ের আলমারি খুলে বই দেওয়া দেখে একটু মজাই লেগেছিল। তারপর দেখি মাঝে মাঝেই আসে। নিজেদের মেয়ে নেই বলে বাবা-মাও একটু ইনডাল্‌জ করেন। তাতে অসুবিধা নেই, একদিক থেকে ভালোই, আমার স্বাধীনতায় সুবিধা হয়।

একদিন স্কুল থেকে ফিরে দেখি মেয়েটা মায়ের বিছানায়… শুয়ে শুয়ে মায়ের সঙ্গে গল্প করছে। বিছানায় মা সহজে কাউকে উঠতে দেয় না। পায়ে এক বিন্দু নোংরা দেখলেই সোজা ‘নো’। কিন্তু ও দেখি ঘরে মা না থাকলেও বিছানায় শুয়ে বই পড়ে! আপত্তিতে কান দেয় না। তবে সবচেয়ে বিরক্তিকর মেয়েটার গোয়েন্দাগিরি। মা-কে গিয়ে রিপোর্ট করে কী কী অন্যায় করেছি! এটা চলতে দেওয়া যায় না। মেয়েটার দাদা মাঝেমধ্যে আসত। আমার থেকে ছোট… কিন্তু মেয়েটাকে চাপে রাখার জন্য দলে নিলাম। ধারে কাছে এলে সেই আমার হয়ে ওকে ভাগাত। তখন আবার মা-কে গিয়ে নালিশ করত, “তোমার ছোট ছেলেটা ভীষণ হিংসুটে।”

দাদু বেড়াতে এসেছেন। বাড়িতে শুধু কাজের মেয়ে আর মায়ের আদরের ওই কন্যা। সে-ই দরজা খুলেছে।
ওকে দেখে দাদু অবাক, “তুমি…”
“আমি তো এ বাড়ির মেয়ে। তুমি কে?”
ইতিমধ্যে কাজের মেয়েটিও দরজায় কাছে এসেছে। দাদুকে চেনে।
“আসুন দাদু, আসুন।”
“ও বুঝেছি… তুমি দাদু। কিছু খাবে?”
“বেশ তো, কী খাওয়াবে তুমি?”
“লুচি, কিন্তু তোমাকে বেলে দিতে হবে, আমি বেলতে পারি না।”
বাড়িতে মা লুচি বানাবে বলে ময়দা মেখে গোল্লা গোল্লা করে রেখেছিল। কাজের মেয়েটির রিপোর্ট অনুসারে মেয়েটা নাকি কোনও বারণ শোনেনি। বুড়ো দাদুই লুচি বেললেন, ভাজতে সাহায্য করলেন… ও বেচারা কী করবে!

সাউথ এন্ড পার্ক ছেড়েছি অনেকদিন। স্কুল শেষ, এখন যাদবপুরে। অন্য জগত, ইঞ্জিনিয়ারিং-এ পড়াশুনা আর আর্টস কলেজে উত্তেজনা। থার্ড কী ফোর্থ ইয়ারে পড়ি… হঠাৎ বাস থেকে দেখি রুস্তমজি স্ট্রিটের মোড়ে সেই মেয়েটা দাঁড়িয়ে। নীল-পাড় সাদা শাড়ি, হাতে বই… এখন আর পুচকে নয়! বাস থেকে নেমে সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই চোখ তুলে তাকিয়ে হাসল, “তুমি! কেমন আছ?”

সুজনকথা সুজন দাশগুপ্ত

***

কেমন আছি জানতে চান? শান্তিনিকেতনে দাদা আর আমি বারান্দায় বসে। বৌদি আসেনি। সংসার সামলাচ্ছে দাদার ভ্রাতৃবধূ। ইতিমধ্যেই দু-দু-বার শান্তিনিকেতন স্টোরে গেছি, কিন্তু ঠিক জিনিসটাই নাকি আনছি না! অতএব আবার যেতে হবে।
তৃতীয়বার যাচ্ছি, গজগজ করছি, “খাল কেটে কুমির আনা হয়েছে বাড়িতে।”
“ক্লাস এইট থেকেই তো চিনতিস, খাল তো তুই-ই কাটলি!” সস্নেহে বলল দাদা।

 


 

SujanKatha
A Facebook Post collection by Sujan Dasgupta
ISBN 978-93-86937-22-3

Online available at http://sristisukh.com/ss_wp/product/সুজনকথা/

প্রথম সংস্করণ – জানুয়ারি, ২০১৮
সৃষ্টিসুখ প্রকাশন এলএলপি-র পক্ষে হাল্যান, বাগনান, হাওড়া ৭১১৩১২
থেকে রোহণ কুদ্দুস কর্তৃক প্রকাশিত

প্রচ্ছদ ও অলংকরণ – দেবাশীষ রায়
© সুজন দাশগুপ্ত, ২০১৮
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মূল্য – ১২৫ টাকা (ভারতীয় মুদ্রা) / ৯.৯৯ আমেরিকান ডলার

মুদ্রক – সৃষ্টিসুখ প্রিন্ট (www.sristisukhprint.com)
সৃষ্টিসুখ-এর বইয়ের আউটলেট – ৩০এ সীতারাম ঘোষ স্ট্রিট, কলকাতা ৭০০০০৯
যোগাযোগ – ৯০৫১২ ০০৪৩৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *