কলকাতা বইমেলা ২০১৮-য় সৃষ্টিসুখ থেকে যে গল্প সংকলনগুলো প্রকাশ পেতে চলেছে, তার মধ্যে নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য বই এশরার লতিফের ‘স্ফটিক বাড়ি ও অন্যান্য গল্প’।
এশরারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ প্রায় এক দশকের, সৃষ্টি গল্প প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। ওঁর স্ফটিক বাড়ি গল্পটি ছিল পুরস্কারপ্রাপ্ত গল্পের তালিকায়। তারপর এই লেখকের গল্প আমরা নিয়মিত পেয়েছি পত্রিকার পাতায়। তবে এপার বাংলায় প্রথম বই হয়ে বেরোতে চলেছে সেইসব গল্প। যারা এশারার লতিফের গল্পের সঙ্গে পরিচিত নন, তাঁরা Sristisukh E-Book অ্যাপ থেকে নমুনা হিসাবে এই বইয়ের দুটি গল্প পড়ে নিতে পারবেন। অ্যাপ ডাউনলোডের লিংক
বইটির প্রচ্ছদ করেছেন লেখক।
]]>
বিটা ভার্সান
শেষমেশ এসে গেল সৃষ্টিসুখ-এর ই-বুক অ্যাপ। কেউ কেউ বলছেন, এটা একটা ঐতিহাসিক ব্যাপার। এর আগে কোনও বাংলা প্রকাশনা নাকি তাঁদের বইয়ের ই-বুক সংস্করণ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে উপলভ্য করে তোলেননি। ঐতিহাসিক কিনা জানি না, কিন্তু সৃষ্টিসুখ প্রকাশনের এই মোবাইল অ্যাপ-এর বিটা লঞ্চ আমাদের মতো ছোট প্রকাশনার জন্যে স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মুহূর্ত।সৃষ্টিসুখ প্রকাশনের বইগুলির ই-বুক সংস্করণ পড়ার জন্যে এই অ্যাপটি নিচের লিংক থেকে ডাউনলোড করা যাবে। https://play.google.com/store/apps/details…
কেন এই অ্যাপ? পাঠকের কাছে আমাদের বই আরও সহজে পৌঁছে দিতে এই অ্যাপ। আমরা চাই, আপনার হাতের মুঠোয় হাজির হোক আমাদের সমস্ত বই, যে কোনও জায়গায়, যে কোনও সময়। আপাতত অ্যানড্রয়েড অ্যাপ দিয়ে শুরু। কয়েক মাসের মধ্যেই আমরা আই ও এস অ্যাপ (অ্যাপেল-এর জন্যে) নিয়ে আসব।
কীভাবে বই পড়বেন? মূলত সাবস্ক্রিপশানের মাধ্যমে। এক মাস, তিন মাস আর ছ মাসের সাবস্ক্রিপশান করা যাবে। ২৫টি বই নিয়ে অ্যাপটি শুরু করা হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই যুক্ত হবে বই। কলকাতা বইমেলা ২০১৮-র পর সৃষ্টিসুখ-এর মোট বই হবে ২৩০-এরও ওপরে। আমাদের লক্ষ্য জুন, ২০১৮-র মধ্যে সব বই এই অ্যাপে হাজির করার। গ্রাহক না হতে চাইলেও এক-একটা বই কিনেও পড়তে পারেন। যেমন আপনার ইচ্ছে। তবে ওই যে বলে, দেখাশোনা ফ্রি, কেনাকাটা আপনার ব্যাপার। আপাতত অ্যাপটি কমেন্ট বক্সে দেওয়া লিংক থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করতেই পারেন। কয়েকটি বইয়ের প্রিভিউ বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। পছন্দ হলে অন্য বইও পেমেন্ট করে পড়তে পারেন।
সৃষ্টিসুখ প্রকাশনের মুদ্রিত বই কি তাহলে আর পাওয়া যাবে না? অবশ্যই পাওয়া যাবে। আমরা নতুন বইয়ের গন্ধ থেকে পাঠকদের বঞ্চিত করতে চাই না। আমরা চাই পাঠকদের কাছে মুদ্রণ আর ইলেকট্রনিক দুটো সুবিধাই থাক। পাঠক বেছে নিন, নিজের মতো করে।
আমরা জানি, আরও অনেক অনেক প্রশ্ন অপেক্ষা করে আছে। যে কোনও জিজ্ঞাসা পাঠাতে পারেন sristisukhprokashan@gmail.com –এ।
বাংলা ই-বুকের জন্যে সৃষ্টিসুখ প্রকাশনের ছোট্ট এই পদক্ষেপে বইপোকার বন্ধুদের পাশে চাই আমরা। অ্যাপটি ইনস্টল করে আপনাদের মূল্যবান মতামত জানালে বাধিত হব।
বড়দিনের আগাম শুভেচ্ছা বন্ধুদের। সক্কলে ভালো থাকুন। বই পড়া জারি থাক।
]]>
চল্লিশের উত্তাল বার্লিন, ঘনিয়ে আসছে রুশো-জার্মান যুদ্ধ। তারই মধ্যে বার্লিন টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে নিজের পি-এইচ-ডি নিয়ে ব্যস্ত গোরা মিত্তির। ওয়েলিংটন রোডের অনাথ আশ্রম থেকে বার্লিনের প্রথিতযশা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার্থে আসা, নাটকীয় ঘটনা সন্দেহ নেই। কিন্তু চল্লিশের বার্লিন গোরার জীবনে নিয়ে আসছে আরও নাটকীয় মুহূর্ত।
গোরা বার্লিনের ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেস লিগের সদস্যও বটে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই যে দল অবিরাম কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ভারতবর্ষকে ব্রিটিশমুক্ত করতে (যে দলের প্রতিষ্ঠাতা খোদ মানবেন্দ্রনাথ রায়)। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা গভীর সমস্যা নিয়ে এসেছে ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেস লিগের জন্য — সুভাষ বোসকে জার্মানি কোনও রকম সাহায্য না দিয়েই ফিরিয়ে দিয়েছে। এবং শুধু তাই নয়, আলেকজান্ডারপ্লাটজের বাড়িতে গুপ্ত আততায়ীর হাতে খুন হয়েছেন লিগের হাই কাউন্সিলের সব সদস্য, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনও মিটিং চলার সময়। অসমাপ্ত সেই মিটিং-এর সূত্র ধরেই গোরার হাতে এসে পড়েছে এক অতি বড় দায়িত্ব যার জন্য ক্লাসরুম ছেড়ে ঢুকতে হয়েছে সাবমেরিনের ছোট খুপরিতে।
সে কাজ সুষ্ঠুভাবে করার জন্য ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লিগের বাকি সদস্যদের ওপর কি ভরসা করতে পারবে গোরা? নাহ্, এটাই একমাত্র প্রশ্ন নয়। এর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, লিগও কি গোরাকে ভরসা করতে পারে? অনাথ আশ্রম থেকে বার্লিন, এই উত্তরণ কীভাবে ঘটেছে তার সমস্ত খবর কিন্তু লিগের কাছেও নেই।
টগবগ উৎসব সংখ্যায় প্রবীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নতুন থ্রিলার ‘বিশ্বাসঘাতক’। ছবি এঁকেছেন সুমিত রায়।
==================
মুদ্রিত পত্রিকা অর্ডারের লিংক — https://goo.gl/VsbgEx
ই-বুক সংস্করণের লিংক — https://goo.gl/Drbg78
কেনার আগে বইটির নির্বাচিত অংশ পড়ে দেখার লিংক — https://goo.gl/rmRofV
লেডিস সাইকেল
মনে আছে, ক্লাস নাইনে উঠে কিছুতেই ফুটবল-টুর্নামেন্টে নাম দিলাম না, শুধু অত লোকের সামনে হাফপ্যান্ট পরতে হবে — এই লজ্জায়। লজ্জা… কারণ রোগা রোগা পা দুটোতে হঠাৎ এত লোম, লজ্জা… কারণ গলার স্বর ভাঙা, লজ্জা… কারণ মেয়েরা হঠাৎই এত রহস্যময়ী। ত্রাসে, আতঙ্কে, মনখারাপে আমার চোখের নীচে কালো রেখা ফুটে উঠল, ঠোঁটের ওপর নীল।
মানিক স্যারের বাড়ি অঙ্কের টিউশনে যেতাম। মানিক স্যার তাঁর নিজের মেয়ে ঝুপুকে আর আমাকে অঙ্ক কষতে দিয়ে বাজার যেতেন। তখনও ভালো করে সকাল হত না।
ঝুপুদি তখন গার্লস স্কুলে ক্লাস ইলেভেনে। সারাক্ষণ একটা লেডিস সাইকেলে চষে ফেলছে আমাদের মফস্বল শহর। সারা শীতকাল, যেখানে যত ক্লাবের স্পোর্টস হত, সেখানে দৌড়ের ইভেন্টগুলোতে ঝুপুদি ফার্স্ট হবেই। মানিক স্যারের সেই বাইরের ঘরে একটা কাঠের আলমারির মাথায় ঝুপুদির প্রাইজে পাওয়া প্লাস্টিকের জগ, ওয়াটার বটল এইসব ডাঁই করে রাখা থাকত।
ঝুপুদি আরও অনেক ভোরে বান্ধবসংঘের মাঠে প্র্যাকটিশ সেরে ট্রাকস্যুট পরেই অঙ্ক কষতে বসত। আমি আড়চোখে দেখতাম ঝুপুদির কাঠ কাঠ চেহারা, ছেলেদের মতন ছোট করে ছাঁটা চুল, হাড় ঠেলে ওঠা মুখটা আমারই মতন বিধ্বস্ত, এমনকী ট্রাকস্যুট উঠে গেলে, ফরসা পায়ের গোছে আমারই মতন কড়া লোম। তবু ঝুপুদি কোথায় যেন ভীষণ আলাদা। অতক্ষণ ঝুপুদির সঙ্গে একলা ঘরে বসে থাকতে থাকতে আমার গলা আঠা হয়ে যেত। মানিকস্যার এলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচতাম।
তারপর একদিন মানিকবাবু বাজার যাওয়ার সময় বললেন, “ঝুপুর জ্বর হয়েছে, বুঝলি। তুই আজ একা।”
ঘরের একদিকে নোনা ওঠা দেওয়ালে হেলান দিয়ে রাখা থাকত ঝুপুদির সাইকেলটা। ওটা আমাকে কেন যে অমন টানত, বুঝতে পারতাম না। আজ একা থাকার সুযোগে, আমি উঠে গিয়ে সাইকেলটা ভালো করে দেখলাম। একদম আমার সাইকেলটার মতনই, কালো রঙটা এখানে ওখানে চটে গেছে; যেন ব্রণ খুঁটে ফেলেছে ভুলে। টায়ারে ভোরের মাঠের কাদা আর ঘাসের কুচি জমে আছে। ঠিক মনে হচ্ছে লোম গজিয়েছে সাইকেলের পায়ে। আমি হাত বোলাতে লাগলাম সাইকেলটার গায়ে। ‘লেডিজ সাইকেল’ — এই নামটাই আমাকে প্ররোচিত করছিল খুঁজে বার করতে, কেন লেডিস? কোথায় লেডিস?
আমি ছোট, বর্তুল বেলের ওপর থেকে হাত নামিয়ে আনলাম চামড়ার গন্ধওলা সিটে। চেন, প্যাডেল, স্ট্যান্ড, কেরিয়ার সবই তো এক! সাতসকালের আবছা আলোয় সাইকেলটা যেন আড়চোখে আমার ভ্যাবলা মুখ দেখে মজা পাচ্ছিল, যেমন মনে হয় ঝুপুদির চোখে চোখ পড়ে গেলে। হঠাৎই আমার হাত চামড়ার সিটের সরু কোমর থেকে খসে অতলে হারিয়ে গেল। অবাক হয়ে দেখলাম — সামনের রডটা নেই। ওটাই তাহলে তফাত!
– চাপবি?
ঘাড় ফিরিয়ে দেখলাম পর্দা সরিয়ে ঝুপুদি ঘরে ঢুকছে। জ্বরে তার মুখ থমথম করছে।
– লোভ লাগছে? চাপবি?
আবারও জিজ্ঞেস করল ঝুপুদি।
পরের বছর ফুটবল টুর্নামেন্টে নাম দিয়েছিলাম। ততদিনে আমার লজ্জা ভেঙে গেছে।
=============
বই — তেঁতুলপাতার গল্প
লেখক — সৈকত মুখোপাধ্যায়
প্রিন্ট ভার্সান অর্ডারের লিংক — https://goo.gl/GGxQiy
ই-বুক অর্ডারের লিংক — https://goo.gl/WHqK1w
====================
সুজিত ফিলিম বানায়। শখের অবশ্যই। এমনিতে তো চাকরি করে ও। শান্তনুর অফিসে। ওর ফিলিমগুলো দিনে দিনে ভালো থেকে আরও ভালো হচ্ছে। হওয়ারই কথা। লেগে থাকলে… পাগল ছেলে। মুখে নির্মল হাসি। বোধবুদ্ধি নেই বিশেষ… মানে সাধারণ বোধবুদ্ধি। সেটাও বেশ মজার। ওর ফিলিমগুলো সব ইউটিউবের জন্য করে ও। নিজের টাকায়। দু-তিন হাজার টাকার বাজেটের ভিতর। লোকে দেখলেই খুশি। গোড়ার দিকেরগুলো আমার তেমন ভালো লাগত না… কিন্তু ওই… দিন-দিন ভালো হয়ে উঠছে। একটা মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। সাম্প্রতিক রাস্তার একটা নেড়ির সাথে কলিশন বাঁচাতে নিজের কাঁধের হাড় ভেঙে ফেলেছে। মাঝে একটা শর্ট ফিল্ম বানিয়েছিল। গল্প হল একটা লোক অফিস থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফিরছে। তাই নিয়ে ফিল্ম। অফিস থেকে বেরিয়ে আগে সে যায় একটা মদের ঠেকে। সেখান থেকে মাতাল হয়ে রাস্তায় ঠোক্কর খেতে খেতে ফিরছে। পথে নানান লোকের সাথে তার মুলাকাত হচ্ছে। একটা পাগল… একটা বেশ্যা… একটা ছিনতাইবাজ… এই রকম। তাদের সাথে ওই দু মিনিট পাঁচ মিনিটের সাক্ষাৎ… তার মধ্যেই যা হওয়ার… শেষে বাড়ির একদম কাছে এসে এই জীবনের প্রতি চরম বিতৃষ্ণা এবং এতক্ষণ হিসি চেপে চেপে এসে ব্লাডার খালি করার সুতীব্র বাসনা থেকে রাস্তার ধারের ড্রেনে যখন ও হিসি করতে উদ্যত… তখন পেছন থেকে একটা রামছাগল এসে… রাম গুঁতো। শেষে নেশা ও পেছন দুইই ফেটে ওই ড্রেনেই পপাত চ… ব্যস, এই হল গল্প। মিনিট কুড়ি লম্বা। সুজিত নিজেই হিরো। এখন কথা হল পাগল, বেশ্যা, মদের ঠেক, রাস্তার ধারে ড্রেন সবই তো কলকাতায় চাইলেই অনন্ত মেলে। কিন্তু রামছাগল? আমার নিজস্ব ধারণা সেটাও অপ্রতুল না হওয়ারই কথা। কিন্তু সামহাও সুজিত তার মন মতো রামছাগল খুঁজে পায় না।
শান্তনুকে বলে লাভ হয়নি। অফিসের অন্যান্যরা সুজিতের এই শখকে স্পনসর করে বটে… কিন্তু সল্টলেকের অফিসে বসে রামছাগল স্পট করে তাকে কোঅরডিনেট করে শুটিং স্পটে এনে ফেলা চাট্টিখানি কথা নাকি? শেষে অফিসের যে উদয়দা… যে গ্রামে থাকে… তাকে বলা হল।
“এঁ হেঁ হেঁ হেঁ হেঁ হে… রামছাগল?… হে হে… আমাদের পাশের গ্রামে একজন কসাই থাকে… তার আছে… কিন্তু ভাড়া লাগবে যে… দিন প্রতি।”
সুজিত বলে, “আরে আমি সারাদিন একটা রামছাগল নিয়ে কী করব? আমার তো লাগবে মোটে একটা সিন।”
“এঁ হেঁ হেঁ হেঁ হেঁ… ওরা ওভাবে তো রামছাগল দেয় না… যাদের ছাগলের বাচ্চা করানোর কারণ ঘটে, তারা সারাদিনের জন্য সেই রামছাগলকে ভাড়া দিয়ে নিয়ে গিয়ে ছাগলিনীদের মাঝে ছেড়ে দেয়। তাতে সারাদিনে মোটামুটি সব বাকি ছাগলী প্রেগন্যান্ট হয়ে পড়ে… ব্যবসা… বিজনেস… বুঝলেন না।”
তো… বেশ… সুজিত মোটরসাইকেল দাবড়ে গেল সেই রামছাগল দেখতে। সিঙ্গুর। দেখে এসে সুজিত বাচ্চা ছেলের মতো খুশি হয়ে গেল। দারুণ ফোটোজেনিক নাকি সে ছাগল। আর সুজিতের সেই ছাগলই দরকার। কী বল… কী বীর্য… কী দৃপ্ত ভঙ্গি! কিন্তু মাঝে একটা প্রবলেম… সে রামছাগল থাকে সিঙ্গুরের একটা গ্রামে। আর শুটিং হবে লেকটাউনে। আসবে কী করে এতদূর? টেম্পো ভাড়া পোষাবে না। কারণ বাকিদেরও তো কিছু না হলেও খানিক টাকা তো দিতেই হয়… যেমন পাগল, বেশ্যা ইত্যাদি… প্লাস আরও আনুষঙ্গিক। ঠিক হল অফিসের যে গাড়ি দেয়, সেই প্রভাকরকে বলা হবে। প্রভাকরের প্রচুর টয়োটা ইনোভা পড়ে থাকে। তার একটায় সেই ছাগল চড়িয়ে নিয়ে আসা হবে। প্রভাকরকে টাকা দিলেও চলে… আবার না দিলেও… X এবার প্রভাকরের এতে কিছুই আসত যেত না। গাড়ি দিয়েই দিত, কিন্তু ওর কানে গেল যে তার ইনোভা করে একটা রামছাগল আসতে চলেছে। এমনিতে প্রভাকরের গাড়িগুলো নামীদামি এয়ারলাইনারের ভি আই পি রামছাগল নিয়ে যায়-আসে। কিন্তু তাদের গায়ে তো ভালো গন্ধ। তারা যদি একবার গাড়িতে ওই আসলি রামছাগলের গন্ধ পায় তো গেল। তাই প্রভাকর বাদ। মানে নিজেই খিস্তি মেরে বাদ হয়ে গেল। কী হবে এবার?
এবার কলকাতার ভেতর রামছাগল খোঁজা শুরু হল। প্রচুর পাওয়া যায়… আমি নিজেই জানি। কিন্তু আমায় তো বলেনি। আমায় বরঞ্চ ওর পরের ফিলিমে এক আরব সেখ ভিলেন হতে বলেছে… তাই… শেষে অফিসেরই অক্ষয় একটা ছাগল কোথা থেকে ধরে নিয়ে এল। একদম কচি পাঁঠা। কখনও ফিলিমে পার্ট তো করেইনি, প্লাস জীবনে কোনও প্রেশার সিচুয়েশানেরও সামাল দেয়নি। সে একদম ঝোল হবার জন্য রেডি পাঁঠা। তাকে একটু জোরে ‘এই ছাগল!’ বলে ডাকলেই সে মাথা নীচু করে চূড়ান্ত লজ্জিত হয়ে মুখ লুকিয়ে ‘ম্যা ম্যা ম্যাহ’ করে ডেকে উঠছে। সিঙ্গুরে দেখা সেই রামছাগলের দৃপ্ত ভঙ্গি তার কোথায়? সুজিত বাস্তবিক খুব মনমরা হয়ে পড়ল। তার সিনেমার ক্লাইম্যাক্স… এ পাঁঠা তো হাঁটেই না ভালো করে… গুঁতিয়ে সুজিতের ছ ফুট হিসিরত দেহ কী করে কীভাবে ড্রেনে বিসর্জন দেবে? যাই হোক, সুজিত সফটওয়্যারে দক্ষ। নিজের কাজের চাকরির কারণেই। তাই ঠিক করল, এই কচি পাঁঠাকেই সে সি জি আই টেকনোলোজির সাহায্যে দানব রামছাগল করে তুলবে। হিপোপটেমাসও করে তুলতে পারে, চাইলে। তো শুট করা হল… ক্লাইম্যাক্স। পাঁঠা এসে পেছনে গুঁতোতে চায়নি মোটে। দড়ি দিয়ে হিঁচড়ে আনতে হয়েছিল। পরে সফটওয়্যারে সেই দড়ি হাওয়া করতে হয়েছে। তারপর সেই ছবি কম্পিউটারের স্ক্রিনে সুজিত বানাল এক আশ্চর্য জন্তু। মাথাটা জালার মতো এত বড়… পাছাটা এতটুকুনি… সে যা-তা… সে যাক গে, ওর পরের প্রোজেক্টে আমার আরব সেখ ভিলেনের পার্টটা একদম বাঁধা… আর দাড়ি তো আমার আছেই… কাজে কাজেই…
====================
সংযোজন — এই ভিলেনের রোল কিন্তু হারুণবাবু পেয়েছিলেন। ছবির নাম ‘খঞ্জর’। ইউটিউবে চাইলেই দেখা যায় —
https://www.youtube.com/watch?v=xgWxR52M2zI