প্রচ্ছদ - সুমিত রায়
]]>ভয় পেতে ভালোবাসেন ছোট থেকে বড় সব্বাই— আশা করা যায় এই সংকলনটি পাঠক উপভোগ করবেন।
]]>আমরা যারা এইটিজের মাঝামাঝি থেকে নাইনটিজের শেষের মধ্যে নিজেদের বালক-বালিকা বা কিশোর-কিশোরীবেলা কাটিয়েছি তারা বোধ হয় সকলেই আনন্দমেলার ভক্ত ছিলাম। আমি তো মারাত্মকভাবেই ছিলাম। মাসকাবারির হিসেবে সে বই আসত। পাতে পড়ামাত্রই টানাটানি তিনবছরের ছোটো ভাইয়ের সাথে। জিতত সে-ই। ছোটদের বড়রা অনেকসময় জিতিয়েও দেয়। কিন্তু মন পড়ে থাকত পাণ্ডব গোয়েন্দার পাঁচ মূর্তির দিকে। এরপরে কী যে হল, সেই ভাঙাবাড়িতে ঢুকে তারা কি পারল গুপ্ত রহস্য উদ্ধার করতে?
কিংবা সন্তু কাকাবাবুর সবুজদ্বীপে কত ঘুরে বেড়াতাম রাতভর। আরো ছিল ফেলুদা, প্রফেসর শঙ্কু। এদের হাত ধরে গা ছমছমে সব অভিজ্ঞতা ঝুলিতে এসে জড়ো হত। তখন তো বুদ্ধিশুদ্ধি এমন দরকচা মেরে যায়নি! তাই বেশি কিছু ভাবার আগেই বিচিত্র সব আবিষ্কার, দেশ, মহাকাশ, ঘটনা একেবারে জলবৎ তরলং হয়ে জিতে নিত টুকরো দিল। অথচ বইয়ের পাতায় বিজ্ঞান, ইতিহাসে প্রবল অনীহা। শিক্ষিকা হতে গেলে যে যন্ত্রণা সহ্য করে ওগুলো গলাধঃকরণ করতে হয়, তাই করেছি। অথচ প্রফেসর শঙ্কুর কল্পবিজ্ঞানে ডুবে যেতে গিয়ে চোখ চকচক করে উঠত।
এত কথা আজ বলছি কেন! কারণ অলোক সান্যাল এর বারীন রায়ের বাঁশি। গল্প আছে তিনটে। কতদিন পর আবার ইতিহাস আর কল্পবিজ্ঞানে মজে গেলাম বঙ্কুবাবু, ফেলুদা, জমিদার বারীন রায়ের হাত ধরে। ছোটবেলার অভ্যাসে এখনও আনন্দমেলা পূজাবার্ষিকী বাড়িতে আসে, কিন্তু হামলে পড়াটা খুব মিস করি। পড়তে গিয়ে ঠোক্কর খাই। ক্বচিৎ দু-একটা লেখা হালকা বাতাসের মতো ছুঁয়ে যায়। কিন্তু আসর জমিয়ে তুলতে পারে না। আর এই বই হাতে নিয়ে সেই স্বাদ ফিরে পেলাম।
]]>ঈশানী রায়চৌধুরী এভাবেই শুরু করেছেন অরুণ আইন রচনা সমগ্র ২-এর ভূমিকা। অরুণ আইনের লেখালেখি সত্যি করেই আমাদের চারপাশের সাধারণ মানুষজনের আখ্যান। কল্পবিজ্ঞান তাঁর হাতে হয়ে ওঠে মানবিক, সামাজিক গল্পে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মানুষের সুপার-হিউম্যান হয়ে ওঠার কাহিনি। তাই একটা সরলরেখায় তাঁর লেখালেখিকে বিচার করার অর্থ হয় না। তাঁর রচনা সমগ্র-র দ্বিতীয় খণ্ডে স্থান পেল দুটো উপন্যাস — মেঘের দেশের রাজপুত্র এবং হলুদে-সবুজে।
মেঘের দেশের রাজপুত্র-র নায়ক বারিধিকে কেউ হুমকি পাঠাচ্ছে প্রায় অলৌকিক উপায়ে। ওয়েট মেশিনের টিকিট, বাসের টিকিট, কারেন্সি নোট হয়ে উঠছে বার্তা পাঠানোর মাধ্যম। পরে ফরেনসিক পরীক্ষায় ধরা পড়ছে ওই বার্তা যে কালিতে লেখা হয়েছে, তা আমাদের চেনাশোনা কোনও উপাদানে তৈরি নয়। রহস্য আরও ঘনীভূত হল যখন প্রকাশ্যে এল বারিধির মতোই হুবহু দেখতে আরেকজন মানুষ। ধোঁকা খেয়ে যাচ্ছে পুলিশও। টানটান উত্তেজনায় এগিয়ে যাওয়া এই কাহিনিকে থ্রিলার, অলৌকিক, কল্পবিজ্ঞান না ফ্যান্টাসি– কোন ধারায় ফেলা যায়, তার ভার রইল পাঠকের ওপর।
হলুদে-সবুজে গল্পটি বাঙালির সেরা আবেগ ফুটবল নিয়ে। স্বপ্নপূরণের এই গল্পে ফুটবল হয়ে উঠেছে নায়ক। আমাদের খুব চেনা এক প্লটে অভাব-অনটনের সংসার থেকে উঠে এসে বেকন্বাওয়ারকে কাটিয়ে গোল দিচ্ছে এক বস্তিবাসী তরুণ। পাড়ার এঁদো গলিতে বল পিটতে পিটতে কীভাবে সে ইডেন গার্ডেন্সে ইউরোপিয়ান একটা দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পেল, সে কাহিনি রূপকথাকে হার মানায়। কিন্তু একই সঙ্গে সে রূপকথার শিকড় গাঁথা বাস্তবের রুক্ষ জমিতে। তাই গল্পের নায়কের সাফল্যে গায়ে কাঁটা দেয় আমাদেরও। কাহিনি শেষ করে আনন্দাশ্রু মুছে নেন পাঠক।
]]>এমন সব বিচিত্র লেখাতে ভর্তি আনার বইটি। পড়তে পড়তে ভাবছিলাম আমাদের ছোটবেলায়, সে ধরুন, প্রায় পঞ্চাশ-ষাট বছর আগে সোভিয়েত দেশ থেকে এমন বিদেশি রূপকথা পড়তে পেতাম আমরা। তাতে ইলাস্ট্রেশনও থাকত। এই বইতেও ইলাস্ট্রেশন আছে। ছবিগুলি এঁকেছে আনা নিজেই।
নিজের বাড়ির বাচ্চাদের জন্য কিনুন এই বইটি। আপনার বাড়ির বাচ্চাটিও ঘুরুক একটু কল্পনার জগতে। কথা বলুক, কুকুর, বেড়াল রঙিন মাছ, আর বাচ্চা ছেলেমেয়েদের সঙ্গে। দেখুন, ও নিজে পড়তে পারলে তো ভালোই, না পারলে আপনি পড়ে শোনান ওকে এই গল্পগুলো। কিছুদিন আরও শৈশব থাকুক ওর। দেখবেন, ওরা আনন্দ পাবে। আনন্দ পাবেন আপনিও।
অনেক অনেকদিন পর একটা এমন বই পড়লাম যা মনে পড়িয়ে দিল আমার ছোটবেলা, আমার মেয়ের ছোটবেলা।
আমাদের আনার এই বইটার সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করছি।
বিমোচন ভট্টাচার্য
]]>[বিভাগ – প্রেম ও রোমান্স]
নন্দিতা দেব সিংহ — ডাইন
মহুয়া দাশগুপ্ত — বোধি
সুব্রত রুজ — শাট ডাউন
[বিভাগ – রম্য সাহিত্য]
শুভময় মিশ্র — অন্য পুরাণ
সায়ন্তন মাইতি — বিনা টিকিটের যাত্রী
মুরাদুল ইসলাম — ঈশ্বরের ময়নাতদন্ত
[বিভাগ – কিশোর সাহিত্য]
দীপঙ্কর চৌধুরী — চন্দনমঠ
শাশ্বত কুমার ধর — ফিরে এল ফেলুদা
ইন্দ্রাণী মুদি — চান্দা
[বিভাগ – রহস্য-রোমাঞ্চ-অ্যাডভেঞ্চার]
রঙ্গন রায় — ডেথ জোন
ভাস্বতী বন্দ্যোপাধ্যায় — ঘূর্ণি
দেবাঞ্জন দেব — মেঘ মাচাং
[বিভাগ – কল্পবিজ্ঞান ও ফ্যান্টাসি]
অনিরুদ্ধ সেন — ইলোপ
অঙ্কিতা — সৃষ্টিসুখ
সৌম্যদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় — চ্যাম্পিয়ন অন্তর্ধান রহস্য
[বিশেষ স্বীকৃতি]
রনিন — এক সমুদ্র (প্রেম ও রোমান্স)
অমিতাভ হালদার — নদীর বান (প্রেম ও রোমান্স)
অনিন্দ্যকেতন গোস্বামী — ক্ল্যান (কিশোর সাহিত্য)
বৈদূর্য সরকার — সোনা রঙের মানুষ (রহস্য-রোমাঞ্চ-অ্যাডভেঞ্চার)
অনির্বাণ ভট্টাচার্য — আমি কাউকে চিনি না (কল্পবিজ্ঞান ও ফ্যান্টাসি)
======
হ য ব র ল থেকে প্রকাশিত হয়েছে দেবাশিস্ বসুর ‘টুপুর টাপুর রূপকথাপুর’। প্রচ্ছদ এঁকেছেন ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্য। ভেতরের পাতাগুলো ছবিতে ভরিয়ে দিয়েছেন বিজন কর্মকার।
]]>প্রবীরেন্দ্রর গল্পের বিষয় ডিসটোপিয়ান পৃথিবীতে কয়েকজন কিশোরের অ্যাডভেঞ্চার, অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের তিব্বত যাত্রা, মানুষের নিয়তি-নিয়ন্ত্রক কম্পিউটার থেকে শুরু করে আটলান্টিকের গভীরে সাবমেরিনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্পাই-কাউন্টার স্পাইয়ের মারণখেলা পর্যন্ত অনায়াসে যাতায়াত করে।
এই মুহূর্তে যে কয়েকজন লেখক বাংলা কিশোরসাহিত্যে নতুন করে প্রাণবিন্দু সঞ্চারের চেষ্টায় আছেন, প্রবীরেন্দ্র তাঁদের মধ্যে অন্যতম।
]]>