প্রকাশক – ভাষা সংসদ
]]>
“আমাদেরই সুহৃদ সৌমেন সে-আড্ডার বাঁধা সদস্য। এবং সে চুপিচুপি একখানা কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছে। এই রোববারদের সে ধরেবেঁধে বন্দি করেছে দুই মলাটের মধ্যে। কাজ নেহাত সহজ ছিল না। আড্ডার গতিবিধিকে লিপিবদ্ধ করা, সে ভারী দুষ্কর। তবে এও ঠিক যে, কেউ একজন এমন কঠিন কাজে হাত না দিলে এ-ধরনের বিরল অভিজ্ঞতারাশি শেষমেশ কেবল কয়েকজনের স্মৃতিতেই থেকে যায়। সৌমেন বড় যত্নে তাদের নিয়ে এসেছে বইয়ের পাতায়। কেবল আমাদের জন্যই নয়, প্রত্যেক পাঠকের কাছেই এ এক অভাবনীয় সুখবর বৈকি। বিরল এই বাতিঘরের ছবি তুলে রাখার জন্য সৌমেনকে জানাই অনেক কৃতজ্ঞতা, ভালবাসা। আমরা যে শঙ্খ ঘোষকে চাক্ষুষ করেছি, শুনেছি তাঁর কথাদের, আসতে পেরেছি তাঁর নিকট পরিসরের কোথাও, এ-গ্রন্থ তার সাক্ষ্য দেবে চিরকাল। সেই বা কম পাওয়া কী।”
]]>শীতকাল এলেই কীরকম একটা বিষণ্ণতা ছেয়ে বসে হৃদয়ে। রেশমকীটদের গুটিতে প্রবেশ করার সময়। সরীসৃপগুলি তখন ঘুমে মগ্ন। চারটে আলু ফুলকপি আর বীট-গাজর। ব্যস, এই নিয়ে রাজত্ব করতে নেমে পড়ি। পৃথিবী ধূসর, মানুষ রঙিন। কিন্তু বাইরের তো কোনও রংই নেই। তাই জ্যাকেট, সোয়েটার, পুলওভার আর মিঙ্ক কোটের রঙে ভুবন ভোলানো।
কিছু কিছু ঘরে, পেটের আগুনের থেকে রাতের আগুন মেটানো দায় হয়ে ওঠে। তখন ঘরের ছাওয়া, খড়কুটো, শুকনো পাতায় টান পড়ে। আর পড়ে অক্সিজেনে। এক একটা রাতে ঘরের আশ্রয় ছেড়ে খেতের আলে জমি আগলানোর জন্য বসে থাকে সময়। কাঠকুটোর আগুন তখন পেটের আগুনের থেকে জোরে জ্বলতে থাকে। অন্ধকারে একটানা ঝিঁঝির আওয়াজ, জোনাকির নেবা-জ্বলা আর তার কিছু দূরে দূরে জ্বলতে থাকা কিছুমিছু চোখ।
নেভে না কখনও। দিনের আলোয় তারা লুকিয়ে থাকে, রাতের বেলায় তারা জায়গা নিয়ে নেয় আপন আপন। নখ দাঁত, খরখরে জিভ, করাতের ধার। এক এক জীবন এভাবেও বেঁচে নেওয়া যায়।
শীতকাল এলেই কেমন ফুরফুরে জীবন ঘনীভূত হয়ে আসে। কিছুমিছু সময়, ঘড়ির কাঁটা যার বরফের চৌহদ্দিতে আটকে আছে, রাজার বেশে এসে হাজির হয়।
শীতকালের রং লাল হয়। লাল, ধূসর দিয়ে যাকে ঢেকে রাখার চেষ্টা করে প্রকৃতি। ঠিক যেভাবে গৃহস্থের সুমুদ্দি মেয়েটাকে আগলে আগলে রাখে। ঠিক যেভাবে অনমনীয় রাগ আগলে রাখে হাসি দিয়ে। অথচ এই লাল বুক বুকের ভিতর ছুঁয়ে ছড়িয়ে ছড়িয়ে যায় শিরায় উপশিরায়। বড়ই পবিত্র সে রং, মনের কালো মুছে দিয়ে দিয়ে সাহস জোগায়। দিন গোনে, মাস-বছরের হিসেবে।
দিন গোনে আর দিন ফিরে ফিরে আসে, ছোট্ট হলেও ফিরে ফিরে আসে। শীতকাল এলেই আমার ঝরনার কথা মনে পড়ে। জলোচ্ছ্বাসের শব্দতে শান দিই। বেশি নয়, মাস দুয়েক বা তার কিছু এদিক ওদিক। সূর্যের আলোর সঙ্গে সঙ্গে সে আছড়ে পড়ে আগুনের বুকে। জলরঙা আগুন তখন মিশে যায় রন্ধ্রে রন্ধ্রে। টাটকা তাজা লাল রঙের অন্ধকারে!
]]>এ বই আসলে তাই এই প্রজন্মের চোখে দেখা অতীতকে। এই প্রজন্মের ভাষায় ছুঁয়ে থাকা সেদিনের ময়দানের মুহূর্তগুলো। এই প্রজন্মের অনুভবে খেলার সঙ্গে মিশে যাওয়া জীবন। এভাবেই ফিরে ফিরে আসে মুহূর্তরা। আবেগ আর উচ্ছ্বাসের পানসি ভাসিয়ে। অতীত থেকে বর্তমানে– এই যে রানিং কমেন্ট্রি, স্কোরবোর্ড অবশ্য তার সব খবর রাখে না। কে না জানে সে চিরকালই গাধা!
]]>যে তেরোজন কবিকে নিয়ে এ বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে–
মণীন্দ্র গুপ্ত
শম্ভুনাথ চট্টোপাধ্যায়
রঞ্জিত সিংহ
স্বদেশ সেন
দেবীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়
নারায়ণ মুখোপাধ্যায়
সুশীল ভৌমিক
উৎপলকুমার বসু
মঞ্জুষ দাশগুপ্ত
ভাস্কর চক্রবর্তী
কমল চক্রবর্তী
শ্যামল সিংহ
বীতশোক ভট্টাচার্য
“নিজের জীবনের ভালোবাসার কথা কালি-কলমে বলা খুব সহজ নয়। অনিন্দ্যর হাতে কলমকারি হয়ে উঠেছে স্বাদু ও মায়াময়। ‘রোববার’ পত্রিকায় ছাপা তার অনেক লেখা পড়ার সূত্রে জানি, এই ছেলেটির হাতে এক অদ্ভুত ম্যাজিক-লণ্ঠন আছে। সেই হলুদ আলোয় অনিন্দ্য ঘুরে ঘুরে ফিরে ফিরে দ্যাখে ভাঙাচোরা বাড়িঘর স্টেশনবাজার ফুলফল মফস্সল। যা নেই তা জীবন্ত হয়ে ওঠে পলকে। নিস্তরঙ্গ অগোছালো দিনযাপনের রূপকথা তার হাতে পড়ে ঘর পেয়েছে দু-মলাটের ক্যালাইডোস্কোপে।
পেশায় টেকি, সেক্টর ফাইভের এই ব্যস্তসমস্ত ছেলেটি এখনও কিন্তু ল্যাপটপ ছেড়ে বহুতলের জানলায় এসে দাঁড়ায়। ওখান থেকে রেলগাড়ির বাঁশি শুনতে পায় অনিন্দ্য। যে-ট্রেনে লাফিয়ে উঠে পড়ার কথা ছিল তার।”
না প্রশ্নগুলো সোজা, না উত্তরটি জানা। তবে প্রশ্ন যতই ঘোরালো হোক না কেন, উত্তর জানতে ঘুরেফিরে অবধারিত গন্তব্য – দেমু। পোশাকি নাম দেবাশিস মুখোপাধ্যায়। কিন্তু সহকর্মী, সহলেখক থেকে অনুজ সাহিত্যানুরাগী সকলের কাছেই তিনি এক এবং অদ্বিতীয় দেমু। যা কিছু না-জানা, যা কিছু স্বল্পচর্চিত, যা-কিছু এই সময়ের দৃষ্টির বাইরে চলে যেতে বসেছে, সেই সবকিছুকেই পরম যত্নে সংগ্রহ করে আধুনিক প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে নিরলস তিনি। অনর্থক সংশয়-দ্বিধার জাল যাতে পড়া ও জানার আনন্দকে এতটুকু ক্ষুণ্ণ না করে, তাই যাবতীয় মিথ ও মিথ্যের নেপথ্যের সত্যিগুলোকে উজ্জ্বল উদ্ধারে রত দেমু। বিষয় থেকে বিষয়ান্তরে তাঁর অবাধ গতায়াত। আর তেমনই তাঁর জানার ও জানানোর ব্যাপ্তি এবং গভীরতা। শিক্ষিত বাঙালির যে বহুমুখী বিদ্যাচর্চার ধারা, দেমু নিজে যেমন তার সার্থক উত্তরাধিকারী, তেমনই উত্তরসূরিকেও তিনি এই ধারার শামিল করে নিতে চান। তাই নিজের ভাঁড়ারের দরজা খুলে দিতে তিনি কসুর করেন না। ‘দেমু’র নানারকম’ আসলে আলোকিত এক ভুবন, যেখানে সত্যজিৎ থেকে বাংলার সেকালের খেলাধুলো, ভাইফোঁটার খাজা থেকে জগদ্ধাত্রীর শোলার সাজ সবই আছে, না-জানাকে জানার আনন্দ ও উদ্ভাস নিয়ে।
.
দেমু’র নানারকম
দেবাশিস মুখোপাধ্যায়
নিবন্ধ সংকলন
প্রচ্ছদ – দেবাশীষ দেব
অমূল্য
সৃষ্টিসুখ প্রকাশন
]]>