Warning: The magic method Vc_Manager::__wakeup() must have public visibility in /home/sristisukh29/public_html/ss_wp/wp-content/plugins/js_composer/include/classes/core/class-vc-manager.php on line 203

Warning: Undefined array key "msg" in /home/sristisukh29/public_html/ss_wp/wp-content/plugins/Woocommerce302_PumCP/index.php on line 24

Warning: The magic method Automattic\WooCommerce\RestApi\Utilities\SingletonTrait::__wakeup() must have public visibility in /home/sristisukh29/public_html/ss_wp/wp-content/plugins/woocommerce/packages/woocommerce-rest-api/src/Utilities/SingletonTrait.php on line 48

Warning: The magic method Automattic\WooCommerce\Admin\FeaturePlugin::__wakeup() must have public visibility in /home/sristisukh29/public_html/ss_wp/wp-content/plugins/woocommerce/packages/woocommerce-admin/src/FeaturePlugin.php on line 312

Warning: Constant WP_MEMORY_LIMIT already defined in /home/sristisukh29/public_html/ss_wp/wp-config.php on line 91

Warning: Cannot modify header information - headers already sent by (output started at /home/sristisukh29/public_html/ss_wp/wp-content/plugins/js_composer/include/classes/core/class-vc-manager.php:203) in /home/sristisukh29/public_html/ss_wp/wp-includes/feed-rss2.php on line 8
ফেসবুক সংকলন – সৃষ্টিসুখ https://sristisukh.com/ss_wp নতুনদের জন্যে নতুন বই Tue, 10 Mar 2026 22:47:37 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=5.7.15 https://sristisukh.com/ss_wp/wp-content/uploads/2017/06/cropped-icon_ss-32x32.png ফেসবুক সংকলন – সৃষ্টিসুখ https://sristisukh.com/ss_wp 32 32 MAli’s Gallery 1 https://sristisukh.com/ss_wp/product/malis-gallery-1/ https://sristisukh.com/ss_wp/product/malis-gallery-1/#respond Sat, 16 Jan 2021 12:33:54 +0000 http://sristisukh.com/ss_wp/?post_type=product&p=6757 https://sristisukh.com/ss_wp/product/malis-gallery-1/feed/ 0 বৃষ্টি পাহাড় আর প্রেমিকারা https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a7%9c-%e0%a6%86%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be/ https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a7%9c-%e0%a6%86%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be/#respond Wed, 08 May 2019 13:10:23 +0000 http://sristisukh.com/ss_wp/?post_type=product&p=5142 যারা ভালোবাসে
তারা ফিরে আসে
বারবার নানাভাবে
নানারূপে বারোমাসে
তাদের কাঁটাতার নেই
কোথাও নেই মানা
একলা পেলে মধ্যরাতে
অতর্কিতে হানা…

বাউন্ডুলের ফেসবুক পেজ থেকে দু-মলাটে বন্দি হল ২০০টা কবিতা আর তার সঙ্গে সঙ্গত দিল অভিব্রতর আঁকা ৫০টা ছবি। বাউন্ডুলের অনুরাগী পাঠকদের জন্যে সৃষ্টিসুখ প্রিন্ট-এর এই বই এক দারুণ অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে চলেছে।

]]>
https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a7%9c-%e0%a6%86%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be/feed/ 0
মুখোমুখি https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%96%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%96%e0%a6%bf/ https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%96%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%96%e0%a6%bf/#respond Sun, 24 Mar 2019 19:16:55 +0000 http://sristisukh.com/ss_wp/?post_type=product&p=4999 জীবনের রহস্য এই যে, তার রহস্য কখনও ফুরোয় না। পরতে পরতে সে এক অপূর্ব আলো-ছায়াময় সংকলন, যার কোনও ফিক্সড রেফারেন্স অন্তত মানুষের হাতে নেই। জীবন একই, তবে ঠিক একই রকম নয়। এহেন বৈচিত্রের কারণেই এ সংকলনের পাতায় পাতায় মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। কিন্তু কৌতূহল যদি অযাচিত হয়, যদি নগ্ন স্নানরতা শিকারের দেবী আর্টেমিসকে দেখে ফেলা যায়, তবে কী পরিণতি হতে পারে? সে গল্প কারও জানা, কারও নয়। কিন্তু ভুল যদি একবার হয়েই গিয়ে থাকে, মানুষ কি তবে অতীতে ফিরে তা পালটে দিতে পারে? টাইম ট্রাভেলের ধারণা তা-ই বলে বটে। তবে সেখানেও বসে আছে বাঘা বাঘা প্যারাডক্স। ধরুন, অতীতে গিয়ে আপনি আপনারই জন্মদাতা কিংবা জন্মদাত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে বাঁধা পড়ে গেলেন, তাহলে ব্যাপারটা কী দাঁড়াল? অর্থাৎ, মাল্টিভার্সের তত্ত্ব আবশ্যিকভাবেই এসে পড়ছে। আবার এহেন তাত্ত্বিক বিষয়ে সামান্য মাথাভার হলে আমরা মনোনিবেশ করতে পারি দাদা-বৌদির বিরিয়ানিতে। কিংবা ধরুন এই যে বিয়ের মরশুম চলছে, এই যে এত মন্ত্র পড়ে অগ্নিসাক্ষী করে বিয়ে হচ্ছে, এই বিবাহরীতি ঠিক কোন গোত্রের? ভেবে দেখেছি কি?

প্রসঙ্গ থেকে প্রসঙ্গান্তরে চলেছি এই কারণেই যে হৃষিকেশ বাগচী তাঁর ‘মুখোমুখি’ বইটিকে সাজিয়ে তুলেছেন এরকমই বিষয় বৈচিত্রে। কোয়ান্টাম তত্ত্ব থেকে মহম্মদ আলি পার্ক, বসিরহাট থেকে পেঙ্গুইন বাবাদের কষ্ট– নানা বিষয়ে সাবলীল গতায়াত তাঁর। তাত্ত্বিক কচকচি তিনিও পছন্দ করেন না। কিন্তু জীবনের পদে পদে এত বৈচিত্র, দীর্ঘায়ু সভ্যতার পরতে পরতে এত বিস্ময় জমে আছে যে, হৃষিকেশের অনুসন্ধিৎসু মন খুব স্বাভাবিকভাবেই সেদিকে ঝুঁকে পড়েছে। কৌতূহল নিরসন করতে তিনি বিস্তর পরিশ্রম করেছেন। আর শেষমেশ মন্থনের সম্পদটুকু তুলে দিয়েছেন আমাদের হাতে। সবার আমি ছাত্র– এই পঙক্তিকে আজও আমরা লালন করি। হৃষিকেশ যেন সেটিকেই নেড়েচেড়ে দেখেছেন একটু অন্যভাবে। এত বিষয়, এত জানার জিনিস রয়ে আছে যে ওই ছাত্রস্বভাবটি হারিয়ে ফেলাই বৃথা। তবে লেখকের মুনিশিয়ানা বোঝা যায় যখন তিনি বিষয়ের ভারে লেখনকে ভারাক্রান্ত করেন না। বরং প্রাঞ্জল গদ্যে সাবলীলতায় তরতরিয়ে পাঠক টেনে নিয়ে যান এক অধ্যায় থেকে অন্য অধ্যায়ে।

বই যখন শেষ হয়, তখন অনেক কিছুই জানা হয়ে গিয়েছে। যা না জানা হলে আসলে আমরা অসম্পূর্ণ থেকে যাই। এ আসলে জীবনেরই মুখোমুখি বসা। চিনে নেওয়া আমাদের অস্তিত্ব আর প্রতিবেশকে। গল্প-উপন্যাসের পাশাপাশি যাঁরা নানা বিষয়ে আগ্রহী, তাঁরা নিশ্চিতই এ বইয়ের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।

]]>
https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%96%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%96%e0%a6%bf/feed/ 0
+৯১০৪০ https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a7%af%e0%a7%a7%e0%a7%a6%e0%a7%aa%e0%a7%a6/ https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a7%af%e0%a7%a7%e0%a7%a6%e0%a7%aa%e0%a7%a6/#comments Wed, 11 Jul 2018 03:38:54 +0000 http://sristisukh.com/ss_wp/?post_type=product&p=4756 https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a7%af%e0%a7%a7%e0%a7%a6%e0%a7%aa%e0%a7%a6/feed/ 1 হারুণের ম্যাগাজিন https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a3%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%a8/ https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a3%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%a8/#respond Wed, 11 Jul 2018 03:08:29 +0000 http://sristisukh.com/ss_wp/?post_type=product&p=4750 কাল রাতে কি শীত ছিল? রাতে বিজনদা টিফিনকারি করে ভাত আর মুরগির ঝোল দিয়ে গেল। দুটো বেগুনভাজাও ছিল অবশ্য। ঝোল ঢালার সময়ই মনে হচ্ছিল ঝোল বাটি থেকে গড়াতে চাইছে না যেন। রং রক্ত লাল। একেবারে তেল লাল। দু-গাল খেয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না এসে গেল। শালার… এত ঝাল!!! ইমোশনাল হয়ে গেলাম। মনে হল সপ্তপদীর সুচিত্রা সেনের মতো রাঁধুনি উত্তমকুমারকে জড়িয়ে ধরে… কেন? কেন?…
এখন সকাল হয়েছে পটি যেতে ভয় করছে। ডান হাত এখনও জ্বলছে। বাঁ হাতে চোখ মুছছি। আমায় মাঝি-মাল্লা ঠাউরেছে… কারণ ওই রান্নার দুটি প্রয়োগ। একটা জানি না… আর একটা বাঘ তাড়ানো। বাঘের পেছন তাক করে ওই মুরগির ঝোল ছুঁড়ে মারলে… হয় তল্লাট বাঘহীন হয়ে যায়, নয় বাঘ তল্লাটহীন হয়ে যায়…

]]>
https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a3%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%a8/feed/ 0
ফিসফাস ৩ (অ্যাইসি কি ত্যাইসি) https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a7%a9/ https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a7%a9/#respond Sat, 07 Apr 2018 17:33:36 +0000 http://sristisukh.com/ss_wp/?post_type=product&p=4623 এবারের ফিসফাস নীল। আকাশের মতো নীল, নীল সাগরের মতো নীল। হয়েছে কী, প্রকাশক মশায় বলে বসলেন, “ওসব খাবারদাবারের ঠিকুজি কুষ্ঠি তো ঠিক আছে, কিন্তু ফিসফাস কবে শেষ দুই মলাটে বেরিয়েছে?” আমি বললাম, “এই তো ২০১৪!” প্রকাশক ধমক দিলেন, “তাহলে? চার বছর ধরে ধরাধামে আছ, অথচ মানুষ বঞ্চিত?” আমি ভাবলাম, আমার সবেধন নীলমণি হীরকের খনি, বিরাটের ধোনি একমাত্র প্রকাশক, তার কথা ফেলি কী করে! তাই ফিসফাস! তিন নম্বর ইনস্টলমেন্টে খুচরো জীবনের ব্যাঙ্ক নোট হয়ে যাবার গল্প!

অবশ্য এবারে আইসিং অব দ্য কেক আর চেরি অন দ্য শেক হল ‘অ্যাইসি কি ত্যাইসি’। গতবার যখন ‘ফিসফাস ২’ বেরোয়, তখন তিনি সবেমাত্র ধরাধামে এসেছেন, তাই মর্ত্যাবতারে তাঁর কীর্তিকলাপ লিপিবদ্ধ করার সময় পাইনি। এবারে একদম ফুলটুস উপন্যাস। ফাঁকফোকরের জায়গা নেই। তবে একটা আপ্তবাক্য আছে। প্রত্যেকটি শিশু নিজের মতো করে এক-একটা প্রতিভার ভিসুভিয়াস। তাকে লাগাম পরাতে গেলে পম্পেইয়ের মমি হয়ে যাবার সম্ভাবনা। তার থেকে নিজের ছবি নিজে আঁকুক, রেল লাইনের মতো বাঁধনসর্বস্ব জীবনে তারাই না হয় শোলের মতো বাঁধনহারা পথ তৈরি করুক নিজের মতো করে।

আর আমি আপনি? পাঠক-পাঠিকারা আমরাও ক্ষুদ্র জীবনে দিলটাকে বড় করে আত্মমহাকাব্য রচনা করে যাই মহানন্দে। মনে রাখি যেন, মুখের অবস্থান চোখ আর কানের নিচেই। দেখে শুনে আগে উইকেটে সেট হয়ে যাই! তারপর না হয় ফিসফাস সাড়ম্বরে সকলের জীবনগল্প হয়ে উঠবে। মনুষ্যজীবনের সব না পাওয়ার গল্পের অ্যাইসি কি ত্যাইসি!

]]>
https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a7%a9/feed/ 0
যৎকিঞ্চিৎ https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%af%e0%a7%8e%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a7%8e/ https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%af%e0%a7%8e%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a7%8e/#respond Sat, 07 Apr 2018 15:43:58 +0000 http://sristisukh.com/ss_wp/?post_type=product&p=4605 ক’দিন আগে কলকাতায় একটি পারিবারিক উৎসবে সায়ন্তিকার বাবার সাথে দেখা। আমাকে দেখেই নিমের পাঁচন খাওয়া মুখ করে সোফাতে বসলেন। টিভিতে তখন কোনও একটি সিনেমা চলছিল, যেখানে দুটি ছেলেমেয়ে ভালোবেসে বিয়ে করে অসুখী দাম্পত্যে জড়িয়ে পড়েছে। কফির কাপে চুমুক দিয়ে আমার দিকে ইঙ্গিতপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে সায়ন্তিকার বাবা বললেন, “কখনও কখনও এক মুহূর্তের ভুলের ফসল সারাজীবন বইতে হয়, বুঝলে…”
আমি সপাটে বললাম, “হ্যাঁ। জলের মতো বুঝলাম।”
সায়ন্তিকার বাবা একটু থতমত খেলেন। তারপর অফিসিয়াল স্মার্টনেস বজায় রেখে জিজ্ঞেস করলেন, “কী বুঝলে?”
আমি ঠান্ডা গলায় উত্তর দিলাম, “বুঝলাম এই যে, আপনি একমুহূর্তের ভুল করেছিলেন আর সেই ভুলের ফসল হল সায়ন্তিকা যাকে আপনি তেইশ বছর ধরে বয়ে বেড়াচ্ছেন।”
হয় কাজের দিদির করা কফিটা ভালো হয়নি, নয়তো টিভিতে ছবি ভালো আসছিল না। নইলে অমন তেতো মুখ করে ভদ্রলোক আচমকা উঠে যাবেন কেন?

আজ দিনটা বেশ গোলমেলে। বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে আজকের দিনে মেষজাতকের কুলোকের কথায় কান দিতে নেই। অথচ, আজ কী কুক্ষণে সায়ন্তিকার বাবার ফোন এল। আমার মতিভ্রম হয়েছিল অথবা গ্রহ বিপর্যয় ঘটেছিল নিশ্চয়, নাহলে ফোনটা ধরলাম কেন?
ধরেই যখন ফেলেছি, অগত্যা কালমেঘ খাওয়া মুখ করে বললাম, “ভালো আছেন কাকু?”
ওপার থেকে হাঁড়িচাচা মাফিক আওয়াজ এল, “ভালো তো থাকবই। ভালো থাকব না মানে? তুমি কি চাও যে আমি ভালো না থাকি?”
“ইয়ে মানে, ছি ছি, কী যে বলেন কাকু। আমি কেন চাইব না যে আপনি ভালো থাকুন। আমি তো সব সময় চাই যে আপনি আরও ভালো থাকুন। আপনার বকেয়া ডিএ একলপ্তে প্রাপ্তি ঘটুক। লুপ্ত যৌবন ফিরে আসুক। সাদা চুল কালো হোক। পেটের ব্যথা, অম্বল সেরে যাক…”
“কী হে ছোকরা… তোমার সাহস তো কম নয়। ইয়ার্কি করছ আমার সাথে। জানো আমি তোমার বাবার বয়সি?”
“তাই নাকি, জানতাম না তো… ইসস… আমি তো ভাবতাম আপনি জাস্ট থার্টি।”
“ফাজলামো হচ্ছে? শোনো খোকা, নেহাত আমার মেয়ে তোমাকে পছন্দ করে, নাহলে তোমায় উচিৎ শিক্ষা দিয়ে দিতাম। আর আমি তো বুঝতেও পারি না যে তোমার মতো একটা গণ্ডমূর্খের সাথে সায়ন্তিকা বাকিটা জীবন কাটাবে কী করে?”

আমি যে গণ্ডমূর্খ, এই সারসত্যটা আমার মাস্টারমশাইরা বহুকাল আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছেন। তবুও বিদ্যাসাগর মশাই তো কোনকালে বলে গিয়েছেন যে কানাকে কানা, খোঁড়াকে খোঁড়া আর গণ্ডমূর্খকে গণ্ডমূর্খ বলতে নেই। তাই হেব্বি রাগ হল। না হয় আমি একটা পাতি ইস্কুল মাস্টার আর সায়ন্তিকার বাবা একটা সরকারি বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর। তাই বলে অ্যাইসা অপমান? বাছা বাছা কিছু উত্তর মুখে আসছিল। সেগুলো চেপে দাঁত কেলিয়ে (মানে, ফোনে যতটা দাঁত ক্যালানো যায় আর কী), গলায় স্যাকারিন ঢেলে বললাম, “কাকু, আপনি একদম চিন্তা করবেন না। আপনার সাথে গত তেইশ বছরের অভিজ্ঞতাই ওকে আমার সাথে বাকিটা জীবন কাটাতে সাহায্য করবে।”

]]>
https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%af%e0%a7%8e%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a7%8e/feed/ 0
চেনা আলো চেনা অন্ধকার https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0/ https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0/#respond Sat, 07 Apr 2018 15:30:48 +0000 http://sristisukh.com/ss_wp/?post_type=product&p=4603 বিমোচন ভট্টাচার্য-র লেখার জনপ্রিয়তা নিয়ে সামান্য বিশ্লেষণ করলেই দেখা যায়, তাঁর লেখাগুলো আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সঙ্গে আড্ডা দেয়। বিখ্যাত পিতার (মধুসংলাপী বিধায়ক ভট্টাচার্য) পুত্র হওয়ার কারণে বাংলা চলচ্চিত্র ও থিয়েটারের বহু পরিচিত ও বিখ্যাত মানুষকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে তাঁর ছোটবেলা থেকেই। আর এসবের সঙ্গে আছে তাঁর নিজের জীবনের আপাত-সাধারণ নানা পর্যবেক্ষণ। আসলে অভিজ্ঞতা শুধু প্রত্যক্ষ করাতেই শেষ হয় না। তাকে ধারণ করার মতো আধারও জরুরি দারুণভাবে। বিমোচনবাবুর লেখা সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

গতবছর বইমেলায় তাঁর ‘তোমার পরশ আসে’ প্রকাশের পরে যে ভালোবাসা পাঠককুল ফিরিয়ে দিয়েছেন, তা এককথায় আমাদের জন্যে অভূতপূর্ব। এই বছর কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত হল বিমোচন ভট্টাচার্য-র ‘চেনা আলো চেনা অন্ধকার’। নিচে রইল বইটি থেকে একটি ছোট গদ্য।

===============

নিতাইদাকে মনে আছে তো আপনাদের? প্রতিদিন আমাদের পাড়ার মন্দিরে মা কালীকে গান শোনান। রাতে যাবার সময় ওয়ান্নিং দিয়ে যান মা কালীকে। মনে পড়ছে? সেই লকাই আর নিতাইদা।
তো এই নিতাইদা পেশায় ইলেক্ট্রিসিয়ান। থাকেন আমাদের আবাসনের পেছনদিকের রেল কোয়ার্টারে। আমাদের পাড়ায় কাজ করেন না। একটি দোকান আছে শুনেছি নাগেরবাজারের কাছে। সেই এলাকাতেই কাজ করেন।
প্রায় কুড়ি বছর দেখছি আমি নিতাইদাকে। যখন রেগুলার আড্ডা মারতাম, তখন রোজ দেখা হত। এখন কোনোদিন রাতে ক্লাব থেকে ফেরার পথে দেখা হয়ে যায়। মা কালীর সাথে কথোপকথন শেষ করে বাড়ি ফিরছেন। একগাল হেসে আমায় বলেন, “ভালো তো ব্রাদার?” পেছন পেছন যায় রাজ্যের কুকুর। ওদের বিস্কুট খাওয়াতে খাওয়াতে বাড়ি ফিরে যান নিতাইদা। বলে রাখা ভালো, এতদিনে কোনোদিন নিতাইদাকে সকালে দেখিনি আমি।
গত সোমবার আমার বাড়ির একটা পাখা খারাপ হয়ে গেল হঠাৎ। আমার বাড়ির ইলেক্ট্রিসিয়ান বলরাম বাইরে গেছে। আর কাউকে পেলাম না। এদিকে এই গরমে পাখা ছাড়া চলবে না। ভাবলাম, আরে নিতাইদা তো ইলেকট্রিক মিস্তিরি। যাই একবার।
ভিলার পেছনদিকের রেল কোয়ার্টারে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে ওরা দেখিয়ে দিল নিতাইদার বাড়ি। দোতলা কোয়ার্টারের একতলায় যারা থাকেন, অধিকাংশই রেলের কর্মচারী নয়। সাবলেট করা। বেশিরভাগ বিহারী। একটি বাড়ির (এগুলিকেই মনে হয় ব্যারাক বলা হত) একেবারে শেষ ঘরটা নিতাইদার। ডাকলাম। একটা লুঙ্গি পরে খালি গায়ে বেরিয়ে এলেন নিতাইদা। বললেন, “কী চাই বলুন?” চিনতেই পারলেন না আমায়। বললাম, “একটা পাখা খারাপ হয়েছে বাড়ির।” কথা বাড়াতে দিলেন না নিতাইদা, রাগত স্বরে বললেন, “আপনাকে কে বলেছে আমি পাখা সারাই?” আমি বললাম, “কেউ বলেনি, শুনেছিলাম আপনি ইলেক্ট্রিসিয়ান।” আরও রেগে গিয়ে বললেন, “কে আপনাকে কী বলল সে নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। শালা, জোটেও সব আমার কপালেই। কোন শুয়োরের বাচ্চা রটিয়ে দিয়েছে যে আমি ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি, রোজ বাঁ* কেউ না কেউ চলে এসে বলছে, পাখা সারাও, আলো সারাও। যান তো মশাই। আর কোনোদিন এলে গাঁ* ভেঙে দেব। চিনি না, শুনি না চলে এসেছেন বাঁ* সক্কাল সক্কাল নিতাইদার গাঁ* জ্বালাতে।”
বাইরে এলাম। কাল লাল হয়ে গেছে আমার অপমানে। দেখি শংকর, আমার গাড়ি চালায় মাঝে মাঝে। বলল, “কাকু, নিতাই জ্যেঠুর ওখানে গিয়েছিলেন কেন?” বললাম কেন গিয়েছিলাম। শংকর বলল, “নিতাই জ্যেঠুর ছেলেটা গলায় দড়ি দিয়েছে দু-দিন আগে। কাল বডি পেয়ে শ্মশান থেকে অনেক রাত্রে ফিরেছি আমরা। আর তাছাড়া কাকু, নিতাইজ্যেঠুর লিভারে ক্যান্সার ধরা পড়েছে দিন পনেরো আগে। কিছু মনে করবেন না। নিতাই জ্যেঠু কিন্তু এমন মানুষ নয়।” চলে এলাম বাড়িতে। মনটা খারাপই হয়ে থাকল।
কাল রাতে বাড়ি ফিরছি ক্লাব থেকে দেখি নিতাইদা ফিরছেন। আজ একটু বেশি খেয়েছেন মনে হয়। পেছনে কুকুরের দল নিয়ে নিতাইদা বাড়ি ফিরছেন। আমি পাশ কাটিয়ে চলে আসব, আমার দিকে চোখ পড়ল নিতাইদার। হাত তুলে একগাল হেসে বললেন, “কী ব্রাদার, দেখতেই পাচ্ছো না যে গরিব দাদাকে। অনেকদিন দেখি না। শরীর ভালো আছে তো?”
ভাবছিলাম কতদিনই বা বাঁচবেন আর নিতাইদা। কিন্তু নিতাইদা চলে গেলে বড় ফাঁকা ফাঁকা লাগবে বাসস্ট্যান্ডের মন্দিরটা। ফাঁকা ফাঁকা লাগবে রাতের পাড়াটা। চলে তো যাবেনই নিতাইদা। নোটিশ তো পেয়েই গেছেন হাতে। যেতে হবেই ঘর খালি করে।
আজ না হয় কাল…

]]>
https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0/feed/ 0
সুজনকথা https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/ https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/#respond Sun, 01 Apr 2018 17:47:20 +0000 http://sristisukh.com/ss_wp/?post_type=product&p=4588
লেখকের সৃষ্ট চরিত্র একেনবাবুকে নিয়ে তৈরি হয়ে গেল চলচ্চিত্র (ওয়েব সিরিজ)। কিন্তু তাঁর নিজের ফিল্ম কেরিয়ার নিয়ে আফশোস গেল না। আসুন পড়া যাক।
 
=====
 
ছেলেবেলায় মাস্টার বাবুয়া, মাস্টার বিভুদের দেখে আমার ভারী সাধ হয়েছিল সিনেমায় নামব। বাড়ির কেউ শুনল না। অগত্যা মায়ের বন্ধু বাণীমাসিকে ধরেছিলাম। বাণী রায় তখন কবিতা-গল্প-উপন্যাস লিখে নাম করেছেন… সিনেমার লোকদের খুব চেনেন। প্রথমেই ওঁর বেয়াড়া প্রশ্ন, “তোর মা জানে?”
তখনই বুঝলাম এগোবে না, মাস্টার সুজন আর হওয়া যাবে না। এই দুঃখটাই আরও উথলে উঠেছিল, যেদিন শুনলাম আমারই পরিচিত একটি বাচ্চা ছেলে সিনেমায় চান্স পেয়ে সুচিত্রা সেনের কোলে উঠেছিল বা বসেছিল! ঠিক কোনটে মনে নেই।
 
বড় হয়েও সিনেমা নিয়ে আমার ফ্যাসিনেশন কমেনি। কলম্বাসে চাকরি করছি… শুনলাম, চেকোস্লোভাকিয়া থেকে পালিয়ে আসা এক নামকরা ফিল্ম ডিরেক্টর কোর্স দিচ্ছেন। আমি আর জো ন্যাপ (সহকর্মী) ছুটলাম, কোর্স নেব। তখন অনেক ক্লাসে বসা যেত পয়সা না দিয়েও, তবে শিক্ষকের অনুমতি লাগত। ক্লাসে ঢুকছি, দেখি ডিরেক্টর প্রশ্ন করেছেন কে কোন ডিপার্টমেন্ট থেকে এসেছে। কেউ থিয়েটার, কেউ ইংরেজি, কেউ সাইকোলজি। উত্তর শুনে ভদ্রলোক সন্তুষ্ট। ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে বললেন, “খুব ভালো, খুব ভালো। আরও ভালো তোমরা কেউ ইঞ্জিনিয়ার বা ভেটানারিয়ান নও।”
কী বিপদ! আমরা কী দোষ করলাম?
“তোমরা কোত্থেকে?” এবার আমাদের জিজ্ঞেস করলেন।
পাছে ক্লাস করতে না দেন, জো বুদ্ধি খাটিয়ে বলল, “কন্টিনিউইং এডুকেশন।”
“আমিও কন্টিনুইং।”
কী বুঝলেন কে জানে, কিন্তু ঝামেলা হল না। তবে কোর্সটা জমলই না। সারাক্ষণই মনে খচ খচ… সিনেমা আর ইঞ্জিনিয়ারিং বোধ হয় মিশ খায় না… নইলে অত বড় ডিরেক্টর ওরকম বলবেন কেন?
 
নিউ জার্সিতে এসে অবশ্য দেখলাম, সেটা সত্যি নয়। ইতিমধ্যেই দু-জন ইঞ্জিনিয়ার ফিল্ম বানিয়েছে। একজন ডকুমেন্টারি, আরেকজন বউয়ের গয়নাগাটি বেচে সোয়া দু-ঘণ্টার ফিচার ফিল্ম। সেই ফিল্মটা মুক্তিও পেল কলকাতায়। ছবির হিরো আমাদের বন্ধু। তার দিদি ঠিক করেছিল প্রথম সপ্তাহের ভিড় কমলে দেখতে যাবে। হিরোই বলল, “এ ছবি দু-দিনও চলবে না। দেখতে চাইলে কালকেই যেও।”
মোট কথা, ছবিটা পুরোপুরি ফ্লপ। সেসব দেখে আমি ঠিক করলাম, অখাদ্য ছবি বানাব না, ট্রেনিং নিয়ে ভালো ছবি বানাব।
 
ম্যানহাটনের নিউ স্কুলে ফিল্ম-মেকিং-এর ক্লাসে গেলাম। ছ-সপ্তাহের কোর্স, কোর্সের শেষে তিন-চার মিনিটের ফিল্ম প্রজেক্ট। অবশ্য একার নয়, পাঁচজন মিলে। আমাদের গ্রুপের একজন হতে চায় স্ক্রিন-প্লে রাইটার, একজন ডিরেক্টর, একজন ক্যামেরাম্যান, বাকি দুজনকে হতে হবে হিরো-হিরোইন। শেষ দুটো স্লটই ফাঁকা ছিল। হিরো আমি স্বয়ং, হিরোইন একটা ফ্রেঞ্চ মেয়ে… সে মনে হচ্ছিল বুঝতেই পারছে না কী ঘটছে।
স্ক্রিন-প্লে রাইটার একটা দুর্ধর্ষ স্ক্রিন-প্লে লিখল। রাস্তার ধারে একটা কালো ছেলে দেয়ালে ঠেস দিয়ে উদাসভাবে দাঁড়িয়ে, একটা সাদা মেয়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ তাকে দেখে কী জানি ভেবে ঘুরে আসবে, দু-চারটে কথা, তারপর চকাৎ করে চুমু খেয়ে চলে যাবে (হাসবেন না!)। প্রথমটা এস্টাব্লিশিং শট — লোকেশনটা বোঝাবার জন্য। তারপর ট্র্যাকিং শট… ক্যামেরা মেয়েটাকে ফলো করবে। ফিরে এসে ছেলেটার কাছে যেতেই প্রথমে মিডিয়াম শট, তারপর ক্লোজ-আপ।
 
“একটু রোল রিভার্সাল হল না।” আমি মৃদু প্রতিবাদ করেছিলাম স্ক্রিন-প্লে শুনে।
“সেটাই তো চাইছি,” সিনারিও ম্যান রেগে গেল।
সাইলেন্ট ফিল্ম। ল্যাঙ্গোয়েজ কোনও সমস্যা নয়, আমি বাংলা বলব, মেয়েটা ফ্রেঞ্চ। প্রশ্ন হল হিরোইন এটা প্লে করতে রাজি হবে কিনা। ডিরেক্টর তাকে বোঝাল। দু-একবার ফেক চুমু দেখাল। এবার ব্যাপারটা বুঝে আমার থেকে চার ইঞ্চি লম্বা মেয়েটা হেসে কুটিপাটি। কিন্তু বিশ্বাস করবেন, অ্যাদ্দূর এগিয়েও সেই ফিল্মটা হল না! গাধা ক্যামেরাম্যান কী যে ক্যামেরা চালিয়েছে, ফিল্মের পুরোটাই কালো। চুমুটা পেয়েছিলাম… কিন্তু প্রমাণ করতে পারব না।
 
এরপর আমাদের বাড়িতেই একদিন শুটিং হল… মনোজ ভৌমিকের ‘এই দ্বীপ এই নির্বাসন’ টিভি সিরিয়ালের কোনও একটা পার্টির সিন। অরিজিৎ গুহ আর সমরেশ মজুমদারের যুগ্ম প্রডাকশন ছিল বোধ হয়। বাড়ি ব্যবহার করতে দেওয়ার অনুরোধটা এসেছিল বন্ধু সিদ্ধার্থ দত্তর কাছ থেকে। অরিজিৎ আমার ছেলেবেলার বন্ধু, মনোজও বন্ধু ছিল… সুতরাং ‘না’ বলা যায় না। অভিনেতা-অভিনেত্রীরা বেশিরভাগই দেশের। পার্টি সিনে কয়েকটা স্লট ছিল। সেখানে ঢোকার চান্স ছিল একশ পার্সেন্ট… নইলে তো বাড়িই ব্যবহার করতে দেব না! কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিনেমায় আমার কন্ট্রিবিউশন হবে শুধু একটা পার্টিতে সরবত (ঠিক আছে না হয় হুইস্কি) খাওয়ার রোলে? মন সাড়া দিল না। শুনেছি এই সিরিয়ালটাও মুক্তি পায়নি, অনুমতি সংক্রান্ত কারণে।
 
অভিনয় দিয়ে শুরু করেছিলাম, সেখানেই ফিরে আসি। আমার নিজের বয়সটা ঠিক রেখে সময়টাকে যদি পঞ্চাশ-ষাট বছর পিছিয়ে দিতে পারতাম, তাহলে একটা চান্স ছিল। সেকালে বহু বাংলা সিনেমায় দু-তিন মিনিটের একটা মৃত্যুর সিন থাকত। বৃদ্ধ হাঁপাচ্ছেন আর কাশছেন। খাটের চারপাশে বাড়ির মহিলারা মুখে আঁচল চাপা দিয়ে কান্না চাপার চেষ্টা করছেন। বাড়ির বড়রা বাবার পা ধরে বসে আছে, নাতি-নাতনিরা দাদু-দাদু করছে। বৃদ্ধ হাঁপাতে হাঁপাতে কাশতে কাশতে তাঁর আশীর্বাণী বর্ষণ করছেন। ওই রোলটা আমি পেলে ফাটিয়ে দিতাম। এমনিতেই আমার অ্যালার্জি, দিনরাত কাশিও খুব, ন্যাচারাল অ্যাডভান্টেজ ছিল। কিন্তু সে যুগ তো এখন নেই। এখন তো সেরকম সিনই দেখি না, সবকিছু সিম্বলিক!
 
তাহলে দাঁড়াল কি? কী আবার? সিনেমা ‘করেছে আড়ি, আসে না আমার বাড়ি, গলি দিয়ে চলে যায়…’
]]>
https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/feed/ 0
বাজে গল্প https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa/ https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa/#respond Sat, 31 Mar 2018 13:13:25 +0000 http://sristisukh.com/ss_wp/?post_type=product&p=4578 ফেসবুকে নিয়মিত লেখেন যারা, তাঁদের মধ্যে কাজী ফয়জল নাসের পরিচিত নাম। তাঁর ‘বাজে গল্প’ সিরিজ আমাদের আটপৌরে জীবন নিয়ে হালকা হাসি, অল্প বিষাদের ডায়েরি।

]]>
https://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa/feed/ 0