“আমাদেরই সুহৃদ সৌমেন সে-আড্ডার বাঁধা সদস্য। এবং সে চুপিচুপি একখানা কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছে। এই রোববারদের সে ধরেবেঁধে বন্দি করেছে দুই মলাটের মধ্যে। কাজ নেহাত সহজ ছিল না। আড্ডার গতিবিধিকে লিপিবদ্ধ করা, সে ভারী দুষ্কর। তবে এও ঠিক যে, কেউ একজন এমন কঠিন কাজে হাত না দিলে এ-ধরনের বিরল অভিজ্ঞতারাশি শেষমেশ কেবল কয়েকজনের স্মৃতিতেই থেকে যায়। সৌমেন বড় যত্নে তাদের নিয়ে এসেছে বইয়ের পাতায়। কেবল আমাদের জন্যই নয়, প্রত্যেক পাঠকের কাছেই এ এক অভাবনীয় সুখবর বৈকি। বিরল এই বাতিঘরের ছবি তুলে রাখার জন্য সৌমেনকে জানাই অনেক কৃতজ্ঞতা, ভালবাসা। আমরা যে শঙ্খ ঘোষকে চাক্ষুষ করেছি, শুনেছি তাঁর কথাদের, আসতে পেরেছি তাঁর নিকট পরিসরের কোথাও, এ-গ্রন্থ তার সাক্ষ্য দেবে চিরকাল। সেই বা কম পাওয়া কী।”
]]>এই সময়ে, যখন দেশপ্রেম তথা জাতীয়তাবাদ স্বার্থসিদ্ধির রাজনৈতিক বোড়ে হয়ে ব্যবহৃত ও বিকৃত, তখন এই আখ্যান আরও গুরুত্ববাহী হয়ে ওঠে। মায়ের মুখে শোনা গল্প এবং ইতিহাস মিলিয়ে বিশ্বনাথ দাশগুপ্তের এ রচনা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। তাঁর মামার রাজনৈতিক কাজকর্মের সূত্রেই স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালির ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রতিও মনোযোগী হয়েছেন তিনি। ফলে, এই বই একদিকে যেমন বিপ্লবী বাদল গুপ্ত ও তাঁর সহযোদ্ধাদের সঙ্গে নতুন করে অন্য মাত্রায় পরিচয় করিয়ে দেবে, তেমনই চিনিয়ে দেবে বাঙালির আগুন, দৃঢ়তা ও দেশপ্রেম। চিনিয়ে দেবে বাঙালির দেশাত্মবোধ, যা ইতিহাসের কষ্ঠিপাথরে যাচাইকৃত। এই ‘ফেক নিউজ’ ভরা দেশপ্রেমের জোয়ারে এ ইতিহাস তাই প্রকৃতই আমাদের রক্ষাকবচ। পাঠকের দরবারে ব্যক্তিগত সিন্দুক থেকে সেই গুপ্তধনই যেন তুলে দিলেন বিশ্বনাথ দাশগুপ্ত, আমাদের জন্য, আগামীর জন্য।
]]>“নিজের জীবনের ভালোবাসার কথা কালি-কলমে বলা খুব সহজ নয়। অনিন্দ্যর হাতে কলমকারি হয়ে উঠেছে স্বাদু ও মায়াময়। ‘রোববার’ পত্রিকায় ছাপা তার অনেক লেখা পড়ার সূত্রে জানি, এই ছেলেটির হাতে এক অদ্ভুত ম্যাজিক-লণ্ঠন আছে। সেই হলুদ আলোয় অনিন্দ্য ঘুরে ঘুরে ফিরে ফিরে দ্যাখে ভাঙাচোরা বাড়িঘর স্টেশনবাজার ফুলফল মফস্সল। যা নেই তা জীবন্ত হয়ে ওঠে পলকে। নিস্তরঙ্গ অগোছালো দিনযাপনের রূপকথা তার হাতে পড়ে ঘর পেয়েছে দু-মলাটের ক্যালাইডোস্কোপে।
পেশায় টেকি, সেক্টর ফাইভের এই ব্যস্তসমস্ত ছেলেটি এখনও কিন্তু ল্যাপটপ ছেড়ে বহুতলের জানলায় এসে দাঁড়ায়। ওখান থেকে রেলগাড়ির বাঁশি শুনতে পায় অনিন্দ্য। যে-ট্রেনে লাফিয়ে উঠে পড়ার কথা ছিল তার।”