বৃষ্টিফোঁটার মতো

111.00

শাঁওলি দে-র অণুগল্পেরা বৃষ্টিফোঁটার মতোই। অজস্র মুহূর্ত,ঘটনারা নিয়ত যেন বিন্দু বিন্দু ঝরে পড়ছে পাতায় পাতায়। তারা বস্তুত আলাদা, কিন্তু তাদের পৃথক করা যায় না। এই সমগ্র ধারাই আসলে বহমান জীবন। যার মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে অজস্র চেনা, কম চেনা কিংবা একেবারেই না-চেনা চরিত্ররা। বৃষ্টি যেমন সকলকে আড়াল করে, কান্না বুঝতে দেয় না, তেমনই এক একটা মুহূর্তে জীবনের উদগত অশ্রুও আড়াল খোঁজে। সে তখন বৃষ্টিকে প্রত্যাশা করে। যখন পঙ্গু সেজে ভিক্ষা করা ছেলেটা তার ব্যান্ডেজ খুলে ফেলে প্রতারক জীবন থেকে সরে দাঁড়ায়। যখন বৈবাহিক ধর্ষণের শিকার বধূটি অপেক্ষা করে, আর এক ধর্ষিতা হাসপাতাল থেকে ফিরলে দুজনে একসঙ্গে কাঁদবে বলে– তখন আমরা বুঝি এই ক্ষত অতিক্রমের সাধ্য আমাদের নেই। আসলে এই সব মুহূর্তরা, জীবনের এই সব কেটে-ছড়ে যাওয়াগুলো হয়তো বিরাট কোনও ইতিহাস রচনা করে না। কিন্তু এই যন্ত্রণাদগ্ধ, এই হারতে হারতে থমকে যাওয়া, এই কান্নার মধ্যে জিতে যাওয়া জীবন বৃষ্টিফোঁটার মতো অবিরল ঝরছে বলেই শাশ্বত জীবনপ্রবাহও আখেরে পুষ্ট হয়। ছোট ছোট ঘটনা। কিন্তু সামান্য নয়। গল্পের অভিঘাতে তাই মোচড় লাগে আমাদের অনুভূতিতে, বিহ্বল হতে হয়, আচমকা রুখা জীবনের সামনে দাঁড়িয়ে খুঁজে নিতে ইচ্ছে করে বৃষ্টির আড়াল। শাঁওলির এই গল্পভুবনেই পাঠকের সাদর আমন্ত্রণ।