Promotions

তদোগেন গিরতের কবিতা-সব্যসাচী সান্যাল

তদোগেন গিরতে পেশায় শিক্ষক। মঙ্গোলিয়ার ওন্দোরহান বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পারেটিভ লিটারেচার পড়ান। কবিখ্যাতি সেভাবে নেই। কোনও প্রকাশিত বই নেই। সময় কাটানোর জন্যই লেখালিখি করেন। তাঁর নিজের কথায় -- "কবিতা নিয়ে সেরকম কোনও অ্যাম্বিশন নেই। তাছাড়া আমার লেখাগুলি যে আদৌ কবিতা, মঙ্গোলিয়ার কোনও দৈনিক বা পত্রিকা সে কথা স্বীকার করে না।" তা এহেন তদোগেন গিরতের কবিতা নিয়ে সৃষ্টিসুখ প্রকাশন থেকে কলকাতা বইমেলা ২০১৮-য় প্রকাশিত হতে চলেছে কবিতা সংকলন -- 'তদোগেন গিরতের কবিতা'। অনুবাদ করেছেন সব্যসাচী সান্যাল। অনুবাদে কবির এমন অনায়াস চলাচল যে নিচে একটা কবিতা না দিয়ে পারা গেল না। আমি পাল্লা বেড়ালের ধুমসো লোম থেকে শব্দ বাছি আমি আর্গালি ভেড়ার পেট কাটতে...

Continue Reading →

অপ্রাকৃত ২-রূপঙ্কর সরকার

রূপঙ্কর সরকারের 'অপ্রাকৃত ২' বইটি অনলাইন অর্ডারের লিংক -- https://goo.gl/NRp6Pr অফলাইন -- সৃষ্টিসুখ, ৩০ এ সীতারাম ঘোষ স্ট্রিট, কলকাতা ৯। যোগাযোগ -- ৯০৫১২ ০০৪৩৭ ================================== সংকলন থেকে 'রান্নাঘর' গল্পের অংশবিশেষ। ================================= বেলাল বললেন, “আসলে মিসেস তালুকদার ভয় পেতেন, যদি তাঁর দস্যি ছেলে কারও বাড়িতে কিছু ভেঙে-টেঙে ফেলে। নিজেদের ঘরেও অনেক শখের জিনিস ছিল তো ওঁদের, খুব দুরন্ত ছিল বাচ্চাটা। সেদিনও রান্নাঘরে ওকে বন্ধ করে লন্ড্রিতে কাপড় দিতে গেছিলেন। রান্নাঘরের জানলাগুলো বন্ধ ছিল, খেয়াল করেননি। ছেলেটা একটা প্লাস্টিকের টুলের ওপর উঠে জানলা খোলার চেষ্টা করছিল। টুলটা হঠাৎ স্লিপ করে –” রাইফা চোখে ওড়না চেপে ধরলেন। “মাথার ঠিক পেছনে লেগেছিল কিচেনের টেবল টপটা। হাসপাতালেও...

Continue Reading →

আজে গল্প বাজে গল্প-তাপস মৌলিক(টগবগ উৎসব সংখ্যা ১৪২৪)

১ এই লাইনটা এই গল্পের প্রথম লাইন। প্রথম লাইনে গল্পটা শুরু হল। দ্বিতীয় লাইনে চলতে শুরু করল। এই চতুর্থ লাইন যখন এল, তখন গল্পটা চলছে। চলতে চলতে চলতে চলতে চলতে — পঞ্চম লাইনের পর গল্পটা দেখল যে প্রথম অনুচ্ছেদ প্রায় শেষ। সামনে দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ। ২ শীতের সকালে দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমোচ্ছিল। গল্পটা এসে তাকে ধাক্কাধাক্কি করে তুলে বলল, “আরে ওঠো ওঠো। এত ঘুমোলে চলবে?” দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ আড়মোড়া ভাঙতে ভাঙতে বলল, “ওঃ, এই সাতসকালে কেন জ্বালাতন করছ? কী চাই তোমার?” গল্পটা বলল, “দু-একটা চরিত্র-টরিত্র দাও, নইলে চলি কী করে?” “কীরকম চরিত্র দরকার? বাজেট কত?” “মানে?” “আরে চরিত্র তো তেত্রিশ...

Continue Reading →

নিষিদ্ধ ফল-দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

দশটি বসন্তকাল। কত দীর্ঘ সময়! তাদের যৌথ গুহাটির সামনে সে পা দুটি ভাঁজ করে বসেছিল। জায়গাটি নীরব। প্রথম বসন্তের বাতাসে শীতের মৃদু কামড়। সময় তার ওপরে বিশেষ ছায়া ফেলতে পারেনি। সেই আগেরই মতো সতেজ, সুন্দর রয়ে গেছে ইবা। অথচ তালাই তো আর সুন্দর নেই। তাকে দেখলে বৃদ্ধা মনে হয়। তার চামড়ায় বয়সের কুঞ্চন। তার পেটটি সর্বদাই উঁচু হয়ে থাকে কোনও এক অজ্ঞাত রোগের প্রকোপে। দশ বছরে আটটি সন্তান হলে এইরকমই হয়। মনে মনে নিজের সঙ্গে তালাইয়ের শরীরের তুলনা করে একটা বিকৃত আনন্দ হচ্ছিল ইবার। অথচ, হৃদয়ের গভীরে সে তালাইকে হিংসা করে। তীব্র, বিষময় ঈর্ষা! তালাইয়ের দু’দুটি ছেলের পিতা তার ঈশির।...

Continue Reading →

পাখিদের সমস্ত সাজ-তাপস কুমার লায়েক

মাঝে মাঝে কেউ কেউ প্রশ্ন করেন না, কোনও নির্জন দ্বীপে নির্বাসনে গেলে কোন বইগুলো নিয়ে যাবে সঙ্গে?  ২-৩টে কবিতার বই নিয়ে অবশ্যই যাওয়া উচিত। তালিকায় যে বইটা যে কোনওদিন থাকবে, সেটা হল তাপস কুমার লায়েকের 'পাখিদের সমস্ত সাজ'। তাপসদার (কবির সঙ্গে পরিচয়ের মওকা পাইনি এই বইয়ের কবিতাগুলোর বাইরে, তবুও 'তাপসদা'... বড় আপনজন সে) কবিতা পড়তে পড়তে মাঝে মাঝেই ভাবি, অগ্রন্থিত কত কবিতা বাইরে রয়ে গেল। পড়ার সুযোগ হল না। অকালপ্রয়াত এই কবিকে পাঠক মনে রাখলেন না দেখে আক্ষেপও হয়। যাই হোক, 'পাখিদের সমস্ত সাজ' বইটিতে আছে সারেঙ ও ব্যালেরিনা জল, তুমি এই মহাদেশ, বৃষ্টি ও তামাকের ঘর, নাও, L14B কবিতা...

Continue Reading →

রূপকথার রাজকন্যা-ঈশানী রায়চৌধুরী(টগবগ উৎসব সংখ্যা)

ফিঙে তখন মওকা বুঝে দাদুর হাত ধরে ঝুলে পড়ল। চিরকালই তো এই খুদে মেয়ে ঘ্যানঘ্যান করতে এক্সপার্ট। অতিষ্ঠ হয়ে শেষে জগুবাবুর বাজার থেকে একটা স্টেগোসরাসের ছানা নিয়ে এল দাদু। দেশলাইয়ের বাক্স করে। ছোট্ট মাথা, শরীরটা তুলনায় বড়, লেজটা চিমড়েপানা। কিন্তু পিঠে ছোট্ট ছোট্ট কাঁটা আর পাত কই? দাদু বলেছিল, বড় হলে হবে। একটু ঘিয়ে আর বাদামি চেহারা। ফিঙে একটু খুঁতখুঁত করেছিল বটে মাথাটা কেমন ছোট বলে, দাদু বলল, “ছোট মাথাই ভালো। বুদ্ধি কম হলে তাড়াতাড়ি সে জন্তু বশ হবে, কারণ ছোটদের তো এমনিতে কেউ ধর্তব্যের মধ্যেই আনে না।” পেছনের বারান্দায় রাখা হবে ওকে। ওদিকে দু’ধাপ সিঁড়ি পেরোলেই ফিঙেদের ভাড়া বাড়িটার...

Continue Reading →

বিশ্বাসঘাতক-প্রবীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়(টগবগ উৎসব সংখ্যা)

চল্লিশের উত্তাল বার্লিন, ঘনিয়ে আসছে রুশো-জার্মান যুদ্ধ। তারই মধ্যে বার্লিন টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে নিজের পি-এইচ-ডি নিয়ে ব্যস্ত গোরা মিত্তির। ওয়েলিংটন রোডের অনাথ আশ্রম থেকে বার্লিনের প্রথিতযশা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার্থে আসা, নাটকীয় ঘটনা সন্দেহ নেই। কিন্তু চল্লিশের বার্লিন গোরার জীবনে নিয়ে আসছে আরও নাটকীয় মুহূর্ত। গোরা বার্লিনের ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেস লিগের সদস্যও বটে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই যে দল অবিরাম কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ভারতবর্ষকে ব্রিটিশমুক্ত করতে (যে দলের প্রতিষ্ঠাতা খোদ মানবেন্দ্রনাথ রায়)। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা গভীর সমস্যা নিয়ে এসেছে ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেস লিগের জন্য -- সুভাষ বোসকে জার্মানি কোনও রকম সাহায্য না দিয়েই ফিরিয়ে দিয়েছে। এবং শুধু তাই নয়, আলেকজান্ডারপ্লাটজের বাড়িতে গুপ্ত আততায়ীর হাতে...

Continue Reading →

তেঁতুলপাতার গল্প-সৈকত মুখোপাধ্যায়

বই -- তেঁতুলপাতার গল্প | লেখক -- সৈকত মুখোপাধ্যায় | প্রিন্ট ভার্সান অর্ডারের লিংক -- https://goo.gl/GGxQiy ই-বুক অর্ডারের লিংক -- https://goo.gl/WHqK1w ============= লেডিস সাইকেল মনে আছে, ক্লাস নাইনে উঠে কিছুতেই ফুটবল-টুর্নামেন্টে নাম দিলাম না, শুধু অত লোকের সামনে হাফপ্যান্ট পরতে হবে — এই লজ্জায়। লজ্জা... কারণ রোগা রোগা পা দুটোতে হঠাৎ এত লোম, লজ্জা... কারণ গলার স্বর ভাঙা, লজ্জা... কারণ মেয়েরা হঠাৎই এত রহস্যময়ী। ত্রাসে, আতঙ্কে, মনখারাপে আমার চোখের নীচে কালো রেখা ফুটে উঠল, ঠোঁটের ওপর নীল। মানিক স্যারের বাড়ি অঙ্কের টিউশনে যেতাম। মানিক স্যার তাঁর নিজের মেয়ে ঝুপুকে আর আমাকে অঙ্ক কষতে দিয়ে বাজার যেতেন। তখনও ভালো করে সকাল হত না।...

Continue Reading →

দারুণ আল কিতাব-হারুণ আল রশিদ

হারুণ আল রশিদ, না, ইনি বাগদাদের খলিফা নন, কিন্তু খলিফাগিরিতে ইনি কম যান না। টুক করে ওঁর একটা লেখা পড়ে নেওয়া যাক। বইয়ের নাম 'দারুণ আল কিতাব'।  সৃষ্টিসুখের স্টোরে অর্ডারের লিংক -- https://goo.gl/wye6TK ==================== সুজিত ফিলিম বানায়। শখের অবশ্যই। এমনিতে তো চাকরি করে ও। শান্তনুর অফিসে। ওর ফিলিমগুলো দিনে দিনে ভালো থেকে আরও ভালো হচ্ছে। হওয়ারই কথা। লেগে থাকলে... পাগল ছেলে। মুখে নির্মল হাসি। বোধবুদ্ধি নেই বিশেষ... মানে সাধারণ বোধবুদ্ধি। সেটাও বেশ মজার। ওর ফিলিমগুলো সব ইউটিউবের জন্য করে ও। নিজের টাকায়। দু-তিন হাজার টাকার বাজেটের ভিতর। লোকে দেখলেই খুশি। গোড়ার দিকেরগুলো আমার তেমন ভালো লাগত না... কিন্তু ওই... দিন-দিন ভালো...

Continue Reading →

গুচ্ছ খোরাক-সংহিতা মুখোপাধ্যায়

সংহিতা মুখোপাধ্যায়ের 'গুচ্ছ খোরাক' বই থেকে 'সুকন্য বৃত্তান্ত' গল্পটির অংশবিশেষ। প্রাপ্তিস্থান -- https://goo.gl/wYkNMj ================================================ সুকন্যা সত্যিই ভালো মেয়ে। তার মা বলেন, “ওকে কোনওদিন বলতে হয়নি ‘পড়তে বোস।’ কোনওদিন কোনও বায়না ছিল না ওর। যা খেতে দিয়েছি, তাই খেয়েছে। যে জামা পরতে বলেছি, তাই পরেছে। ফ্যাশন নিয়ে মোটে মাতামাতি ছিল না ওর...” তার বাবা বলেন, “মেয়েটা বড়ো ঘরকুনো, মুখচোরা ছিল। তাই লাইব্রেরিতে মেম্বার করে দিয়েছিলাম। তাও মেয়েটা অমিশুক, চুপচাপ রয়ে গেল।” সেই সুকন্যা ভালোই আছে। বিগড়েও যায়নি, খারাপও হয়নি; একটুও না। আসলে সুকন্যা খারাপ হতে পারে না। এটাই তার গলতি। সেই যে ‘ভালোতে মন্দতে মিশিয়ে মানুষ’ বলে না, সুকন্যারও তাই। সে সত্যিই...

Continue Reading →