“হিরন্ময়েণ পাত্রেণ সত্যসপিহিতং মুখম। তত্ত্বং পূষণ অপাবৃণু সত্যধর্মায় দৃষ্টায়।।” (বৃহদারণ্যক উপনিষদ)। ‘অপাবৃণু’— আবরণ সরাও। যেন দেখতে পাই এই অপার বিশ্ব, অনুভবে আসে তার সত্য, নিজেকে খুঁজে পাই এই অনন্তবিশ্বে। আবহমান সময়ে এই আত্মদর্শন বা খোঁজ বা এই বিশ্বের সঙ্গে নিজের সংযোগসূত্র আবিষ্কার করা নানা মনীষীর এক গূঢ় কাজ। কবিরও কাজ। বাংলাসাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও তাঁর পরবর্তীতে আরও কেউ এই কাজে… জানা। আজ জয়দীপ ঠিক সেই কাজটাতেই পূর্বসূরিদের থেকে উপসাগরীয় পার্থক্যে নিজেকে খুঁজেছেন চেতনার স্তরটিকে আরও বিস্তৃত করে। সে জানে, ‘আলোটুকু অন্ধকার হচ্ছে’, আর তাতে ‘আমি এক নিরাকার মহাযুদ্ধ’। এই জটিল ও কঠিন ভাবনা সে সহজ অনুষঙ্গে, মাছ-বেড়াল-লবণ, নদী-জল-গাছ-নৌকা-দরজা, কাচ-আয়না-পাথর, মা-পিতা-পিতামহ, বীজ-শেকড়-আদিকণা, জাহাজ-সমুদ্র ইত্যাদিতে ধরতে চেয়ে সেখান থেকে ঠিকরে তুলেছে আলো-অন্ধকার-ব্রহ্ম। আর দর্শনের গাম্ভীর্য আর ভারে না-মুড়ে স্রেফ কবিতাই করেছে। আহা কবিতারা। জয়দীপ এই প্রায় অসম্ভব কাজটি করেছে ‘কাকে কী বলেছিলাম’ আর ‘ভুল চিকিৎসার মৃতদেহ’ পেরিয়ে একদম ভিন্ন ও নিমগ্ন এক মনোজাগতিক আলোয়। এ তাঁর ‘প্রথম সিঁড়ি ভাঁজ করে অনেক যাওয়া’। আনন্দ বইছে…
অপাবৃণু
₹135.00
জয়দীপ মৈত্রর কবিতা সংকলন।










Be the first to review “অপাবৃণু”