দুই ভুবনের পারে

180.00

বিজ্ঞান ও সাহিত্যের মেলবন্ধন নিয়ে সিদ্ধার্থ মজুমদারের প্রবন্ধ সংকলন।

শিল্পকলা আর বিজ্ঞান — এই দুই ধারার সাংস্কৃতিক ভুবনের বৃত্তগুলি পরস্পর যেখানে মেলে, সেই প্রতিচ্ছেদ অংশে ফুটে ওঠে এক নতুন মিলনক্ষেত্র। এই বইয়ের লেখাগুলিতে মেলবন্ধনের সেই নতুন ভুবনে দৃষ্টি ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। বইয়ে অন্তর্ভুক্ত লেখাগুলির মধ্যে রয়েছে কয়েকজন সৃষ্টিশীল প্রতিভাধর মনীষার বর্ণময় জীবনের নানান কথা।
বিজ্ঞানচর্চা যে একটি রোমাঞ্চকর ও আনন্দময় অভিযান, তা এইসব লেখায় অন্তর্ভুক্ত কৃতবিদ্য বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান থেকে আমরা বুঝতে পারব। অনেকেই ভাবেন যে, বিশ্ববন্দিত বিজ্ঞানসাধকদের জীবন বুঝি নেহাতই শুষ্ক আর বর্ণহীন। আসলে বিজ্ঞান গবেষণার বাইরেও যে তাঁদের অন্য আরও জগৎ থাকে, সে কথা অনেকক্ষেত্রেই আমাদের অজানা থাকে, তাই এমন ধারণা হয়ে থাকে।

বেশ কয়েকজন মেধাবী বিজ্ঞানীর যাপিত জীবনের অন্দরমহলের নানান রোমাঞ্চকর কাহিনির মণিমুক্তোর খোঁজ এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। যেখানে মিশে আছে তাঁদের স্বপ্ন, কল্পনা, প্রেম, ভালোবাসা কখনও বা বিচ্ছেদ, বঞ্চনা কিংবা বেদনার কথা। তারই পাশাপাশি কখনও সেখানে তাঁদের সামাজিক দায়বদ্ধতা, কিংবা রাগ, অভিমান, দ্বন্দ্ব আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার নানান আবহ ফুটে উঠেছে। আছে অনেক মহত্তম আবিষ্কারের নেপথ্যকাহিনি। সৃষ্টিশীল জীবনের নানান চিত্তাকর্ষক কাহিনির সঙ্গে ও অনুষঙ্গে মিশে থাকা ইতিহাস, সমাজ আর বিজ্ঞানের রোমান্স। বিজ্ঞান আর শিল্পকলার বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে গড়ে ওঠা সংযোগ আর অপরূপ সহবস্থানের সংলাপ।

এই বইয়ের লেখাগুলি ধারাবাহিকভাবে একটি ওয়েব ম্যাগাজিনে (kolkata24x7.com) মোট উনিশটি পর্বে প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালে। বলা দরকার যে, ওই ওয়েব ম্যাগাজিনের তদানীন্তন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং তরুণ লেখক শ্রী সরোজ দরবারের আগ্রহ ও আন্তরিক তাগিদের জন্যেই ওই সময় প্রতি সপ্তাহে লেখাগুলি প্রকাশ সম্ভব হয়েছিল। বস্তুত এভাবেই সরোজের সঙ্গে আমার প্রথম ধারাবাহিক লেখার অভিজ্ঞতা।
আরও একটি কথা উল্লেখ করা জরুরি। তা হল, আমার সেইসব লেখা ফেসবুকের মননশীল সাহিত্য-অনুরাগী এবং কবি-সাহিত্যিক বন্ধুবান্ধবরা আগ্রহ নিয়ে পড়েছেন তখন। সে সময়ে তাঁদের পাঠপ্রতিক্রিয়া আমাকে প্রাণিত করেছে। তাঁদের উৎসাহব্যঞ্জক মন্তব্য পরবর্তী কিস্তি লেখার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করেছে আমাকে দারুণভাবে। তাঁদের সবার কাছে আমি ঋণী।

— সিদ্ধার্থ মজুমদার