অদৃশ্য জনপদ মৃত্তিকা মাইতি-র এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে সৃষ্টিসুখ প্রকাশন থেকে।
জায়গাটা শহরের গায়ে যেন আঁচিলের মতো। লোকে বলে কলোনি। এখানকার বাসিন্দাদের গায়ে লেগে থাকে একসময়ের উদ্বাস্তু পরিচয়। এখানে মন্দিরে ঘণ্টার শব্দ, মসজিদে আজান। ঘরের চালে ঘুরে বেড়ায় কাঠবিড়ালি। গাছে টিয়ার ঝাঁক। গাছ কেটে, কুয়ো বুজিয়ে ঘর বাড়ানোও চলে। বহুতল হাতছানি দেয় ছেড়ে আসা ভিটেমাটির শিকড়কে। জলের জন্য লাইন, আধা মস্তানদের খবরদারি, মেয়েদের মেস, ঘড়িবাড়ি, ফেরিওয়ালা, সব পাশাপাশি। ভাড়াবাড়ির বাসিন্দাদের ভাষা, ধর্ম মিলেমিশে যায়। টুকরো আকাশে ওড়ে চিত্রিত সব পায়রা। আলাভোলা তাপস ডিম বিক্রি করতে ঘুরে বেড়ায়। তার চোখে ভেসে ওঠে এক-একটি পরিবারের কাহিনি, সময় ও চারপাশের বদল, রাজনীতির রূপান্তর। কালী বাজারে চায়ের দোকান সামলায়। তাপসের সঙ্গে এক বিচিত্র সম্পর্কে জড়িয়ে থাকে সে। বৃদ্ধ শান্তিরঞ্জন কোনও বাতিল মানুষের মতো আচ্ছন্ন থাকেন স্মৃতিতে। সাতচল্লিশের আগে ছিলেন ভারতবর্ষে। সাতচল্লিশের পরেও এসে পড়লেন ভারতবর্ষে। এখনও বুঝে উঠতে পারেন না কোনটা নিজের দেশ। কলোনির গলিঘুঁজিতে ঘুরতে ঘুরতে একপাশের মজে যাওয়া পুকুরে কীসের যেন নড়াচড়া বুঝতে পারেন তিনি। সেখান থেকে কি উঠে আসবে কিছু? তারপর কি বদলে যাবে সব? জনপদ তার উত্তর খোঁজে।










Be the first to review “অদৃশ্য জনপদ”